গত পাঁচ দিনেও উদঘাটন হয়নি খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)’র ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলামের উপর হামলার রহস্য। থানায় অভিযোগ দিলেও পুলিশ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এদিকে এ ঘটনার কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় হতাশা ব্যক্ত করেছেন হামলার শিকার ওই শিক্ষক।
খুলনা গেজেটকে তিনি বলেন, আমার কাছে মনে হচ্ছে এটার রহস্য আর বেরোবে না। এ পর্যন্ত পুলিশ প্রশাসন কোনো হদিস করতে পারছে না। আমি তো আর মরিনি। যদি মরে যেতাম, আর একটু নড়াচড়া করত। দেখছে একটু আঘাত পেয়েছে, আর কি হবে?
আমি তাদেরকে বললাম আপনাদের তো অনেক ধরনের ইন্সট্রুমেন্ট আছে। প্রয়োজন হলে আপনারা ঢাকায় ডিবিতে পাঠান। সিসিটিভি ফুটেজে ছবিটা দেখে সেখান থেকে কিছু আইডিয়া পাওয়া যায়, কিছু ক্লু বের করা যায়। আমার কাছে মনে হয় তদন্ত খুব একটা দায়সারা ভাবে চলছে। তারা বলছে উপরের থেকে খুব পেশার প্রেসার আছে। কিন্তু এদের এক্টিভিটিস তো বুঝতে পারছি না। সকাল সাড়ে আটটার সময় এমন একটি কর্মকাণ্ড ঘটল সেটার কোনো ক্লু বের করা যাচ্ছে না। তাহলে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবস্থা কি?
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ বলেন, উনি আমার স্যার, ওনাকে আমি যথেষ্ট রেসপেক্ট করি বললে ভুল হবে, আমি উনার উপর রিলাই করি বলা চলে। আমার দিক থেকে যতটুকু আছে সর্বোচ্চ করছি। পুলিশের বিষয় তো। এখনো পর্যন্ত কোনো কিছু হয়নি। ফাইনাল আউটকাম জানাবে বলে দিয়েছে তারা। আমার ধারণা খুব দ্রুত এটার একটা সমাধান হয়ে যাবে। যে করছে আমি আশা করছি ইনশাল্লাহ দ্রুত ডিটেক্ট হবে। সমস্যা হচ্ছে আমি অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে আছি। এ কারণে কিছু লোকজন সাহস পেয়ে যাচ্ছে বেশি। রফিক স্যারকে বলেছি আপনি আমার জন্য দোয়া করেন, আমি শুধু অফিস পর্যন্ত যাই, তারপর দেখেন আমি কতটুকু করতে পারি।
তদন্তকারী কর্মকর্তা খালিশপুর থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ ইউসুফ আলী বলেন, আমাদের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। স্যারের দেখানো মতো আশেপাশের সব সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করেছি। কিন্তু শুধুমাত্র মোটরসাইকেলের সামনের অংশটুকু দেখা যায়। এখন পর্যন্ত আর কিছু পাওয়া যায়নি। দুষ্কৃতিকারী দু’জন মোটরসাইকেল আরোহী ওই এলাকার আশেপাশের কোন দিকে গেল আমরা চেষ্টা করছি বের করার জন্য। ভিসি স্যারের সঙ্গে কথা বলেছি। কীভাবে কি হলো, কোন দিক থেকে কি হলো, এটা আসলে এখনই বলা যাচ্ছে না। আমরা চেষ্টায় আছি দেখা যাক। সিসিটিভির ফুটেজে কোনোভাবে যদি চিনতে পারি ইনশাআল্লাহ গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনবো। বিষয়টি সিনিয়র স্যারদের এমনকি আইজিপি স্যারের নলেজে আছে। আইজিপি স্যারের সাথে ভাইস চ্যান্সেলর স্যারের পরিচয় আছে। উনি আইজিপি স্যারকে জানিয়েছেন। আমাদের জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি’।
খুলনা গেজেট/এনএম

