বটিয়াঘাটা উপজেলার বারোআড়িয়া-ডুমুরিয়া সড়কটি এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। ক্ষমতার পালা বদল হলেও এই সড়কের কোনো পরিবর্তন ঘটে না। নির্বাচনের আগে প্রার্থীরা বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে চলে যান। কিন্তু পরে আর ফিরে তাকায় না। এমনকি বারোআআড়িয়া বাজার থেকে সরকার প্রতিবছর লাখ লাখ টাকা রাজস্ব নিলেও কোনো উন্নয়ন ঘটে না।
বারোআড়িয়া-ডুমুরিয়া হয়ে খুলনা সাতক্ষীরা, যশোরসহ বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় শহরে মানুষের যাতায়াতের একমাত্র সড়ক এটি। সড়কটির বারোআড়িয়া বাজার হতে বারোআড়িয়া কলেজ মোড় পর্যন্ত এক কিলোমিটার এবং বারোআড়িয়া ওয়াপদা রাস্তা থেকে সুন্দরমহল ও জালিয়াখালী, চাঁদগড় পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত, ভাঙাচোরা অংশ ও কাদামাটির কারণে যানবাহন চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন হাজারো মানুষ। মোটরসাইকেল, ইজিবাইক, ভ্যানসহ ছোট-বড় যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।
বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠায় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন শিক্ষার্থী, রোগী, নারী, শিশু ও বয়স্করা। বারোআড়িয়া বাজারে রয়েছে একটি পুলিশ ফাঁড়ি। তাদের রাতে দিনে টহল দিতে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির দ্রুত সংস্কার না হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে।
ভ্যান চালক গনি শেখ বলেন, রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। দুজনের বেশি যাত্রী নিয়ে গাড়ি চালানো যায়না। আমরা নিজেরা কিছু কিছু জায়গায় ইটের খোয়া দিয়েছি। বারোআড়িয়া-সুন্দরমহল ভ্যান সমিতির সভাপতি তাহের শেখ বলেন, ভাই কী বলবো। বলার ভাষা নেই। ইটের রাস্তা করার সময় বালুতো দেয়নি বললে চলে। ঠিকাদার রাস্তায় রাস্তায় কাজে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি করেছে। ফলে রাস্তার মান আজ এরকম। বছর যেতে না যেতেই অচল হয়ে পড়েছে সড়কটি। ভ্যান গাড়ি তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটেও রাস্তা দিয়ে যাওয়াটাই চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
সুরখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ জাকির হোসেন লিটু বলেন, এই মুহূর্তে রাস্তা সংস্করণের কোনো বরাদ্দ নেই। আগামীতে নতুন বাজেট হলে রাস্তাগুলো মেরামত করা হবে।
উপজেলা প্রকৌশলী গৌতম কুমার মন্ডল বলেন, রাস্তাটি সড়কের হওয়ায় আমরা কাজ করতে পারছি না। বারোআড়িয়া বাজার থেকে সুন্দরমহল রাস্তাটি কেডি আর আইডিবি প্রকল্পের উচ্চভুক্ত ছিল। কিন্তু প্রাক্কালন প্রেরণের সময় পানি উন্নয়ন বোর্ডের এনওসির প্রয়োজন থাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডে এনওসির জন্য লেখা হয়। সেখান থেকে এনওসি না পাওয়ায় আর প্রাক্কলন প্রেরণ করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে প্রকল্প রিভাইজের সময় রাস্তাটি বাদ দেওয়া হয়। এখনো এনওসি পাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত আছে। এনওসি পেলে সড়কটি নতুন প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
খুলনা গেজেট/এনএম

