বীরভূমের তারাপীঠের হোটেলে অগ্নিদগ্ধ হয়ে ৬ জনের মৃত্যু

মোহাম্মদ সাদউদ্দিন, কলকাতা

বীরভূমের তারাপীঠে শ্রাবণ মাসে পুজো দিতে গিয়ে হোটেলে মৃত্যু হল ৬ জন পুণ্যার্থীর। জানা গেছে মন্দিরের অদূরে একটি হোটেলে আগুন লেগে যায়। সেই আগুনে দগ্ধ হয়ে এই পুণ্যার্থীদের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সকালে ঘটনাটি ঘটে। হোটেলের একতলায় হঠাৎ আগুন ধরে যায় তারপর সেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অগ্নিদগ্ধ হয়ে ছয়জনের মৃত্যুর পাশাপাশি বেশ কয়েকজন গুরুতর জখম হয়েছেন। তাঁদের উদ্ধার করে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। উদ্ধার কাজ চলছে।

তারাপীঠ থানা থেকে ঢিলছোড়া দূরত্বে পুকুরের ধারে রয়েছে হোটেল ‘বিদেশিনী’। পাঁচতলা ওই ভবনের নীচে সোমবার ভোরের দিকে আগুন লাগে। প্রাথমিক ভাবে অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগেছে। দ্রুত তা বিভিন্ন ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। হোটেলের আবাসিকেরা অধিকাংশই সেই সময় ঘুমোচ্ছিলেন। শিশুরাও ছিল। ধোঁয়ায় ছেয়ে যায় চারদিক। ভাল করে কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুন অনেকটা ছড়িয়ে পড়েছিল। ফলে ঘরের মধ্যেই আটকে পড়েন অনেকে। হুড়োহুড়ি পড়ে যায়।

হোটেলটি থানার সামনে হওয়ায় পুলিশ পৌঁছোতে খুব বেশি সময় লাগেনি। তারাপীঠ থানার পাশাপাশি রামপুরহাট থানার পুলিশও সেখানে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় দমকলও। দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। কিন্তু হোটেলের নীচতলার বিস্তীর্ণ অংশই পুড়ে গিয়েছিল। আবাসিকদের কেউ কেউ আগুনে দগ্ধ হয়েছেন, কেউ অসুস্থ হয়ে পড়েন ধোঁয়ায়। জখমদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। পুণ্যার্থীদের আতঙ্ক কাটছে না।

হোটেল সূত্রে খবর, ভোর সাড়ে ৪টা নাগাদ বিদ্যুৎ সরবরাহের এনসিবি হঠাৎ ফেটে যায়। সেখানে আগুন ধরে যায়।

ওই হোটেলের মালিক কল্যাণ পাল বলেন, ‘‘আমাদের এখানে রাত পাহারার দায়িত্বে যাঁরা ছিলেন, তাঁরা উঠে সঙ্গে সঙ্গে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র সচল করেন। বিদ্যুৎ সরবরাহের তার খুলে দেন। কিন্তু তত ক্ষণে হোটেলসজ্জার সঙ্গে ফাইবারের যে জিনিসপত্র ছিল, তাতে আগুন ধরে যায়। আগুনটা আরও বেড়ে যায়। দমকলকর্মীরা এসে আগুন নিভিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু ধোঁয়া পাঁচতলা পর্যন্ত উঠে গিয়েছিল। আতঙ্কে ঘর থেকে আবাসিকেরা বেরিয়ে আসতে শুরু করেছিলেন। তাঁরা বাইরে আগুনের মধ্যে পড়ে যান। অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল। পিছন দিক দিয়ে বেরোনোর দরজা রয়েছে। কিন্তু সেটা অনেকে খুঁজে পাচ্ছিলেন না। তাঁরা রিসেপশন দিয়ে বেরোতে শুরু করেন। তখনই অনেকে ঝলসে যান।’’

উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়া থেকে পরিবার নিয়ে তারাপীঠে পুজো দিতে গিয়েছিলেন তপনজ্যোতি মণ্ডল। ‘বিদেশিনী’ হোটেলেই উঠেছিলেন। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘‘ভোর ৪টার সময় বাইরে খুব আওয়াজ হচ্ছিল। রিসেপশনের ডান দিকে ২ নম্বর ঘরে আমরা ছিলাম। মা আর বোন ছিল ১ নম্বর ঘরে। দরজা খুলে বেরোতে গিয়ে দেখি আগুন ঢুকে আসছে। আমরা দরজা বন্ধ করে দিই। ঘরে কোনও জানলা ছিল না। শৌচালয়ে গিয়ে আমরা সেখানকার উপরের ফাঁকা জায়গা দিয়ে বেরোনোর চেষ্টা করছিলাম। প্রায় ৪৫ মিনিট আটকে ছিলাম আমি, আমার স্ত্রী আর দুই সন্তান। তারাপীঠ থানায় বারংবার ফোন করেছি। ওঁরা এসে দরজা ভেঙে আমাদের উদ্ধার করেন। আমার মা এখনও সংজ্ঞাহীন। বোনেরও চোট লেগেছে।’’

হোটেলের উপরের তলাতেও অনেকে আটকে পড়েছিলেন। নীচে আগুন থাকায় তাঁরা বেরোতে পারছিলেন না। অনেকে আতঙ্কে জিনিসপত্র নীচে ফেলতে শুরু করেন। তবে উপরে কারও তেমন আঘাত লাগেনি। মালদহ, আলিপুরদুয়ারের পুণ্যার্থীরাও ওই হোটেলে ছিলেন। মৃতদের নাম, পরিচয় এখনও জানা যায়নি।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন