চারদিন পার হলেও রূপসা উপজেলা যুবদল কর্মী ফখরুল হত্যাকাণ্ডে এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে তদন্ত কার্যক্রম। মামলার তদন্তে সন্তোষ নয় পরিবারের সদস্যরা। এ ঘটনার পর থেকে অজানা আতঙ্কে রয়েছে পরিবারের সদস্যরা। গত বুধবার দিনগত রাতে দুর্বৃত্তের গুলিতে উপজেলার কিছমত খুলনা কুটিবাড়ি ঘাট এলাকার ইটভাটায় নিহত হন।
এলাকার একটি সূত্র জানায়, মেসার্স রূপসা ব্রিকসের পাহারাদার ছিল তৈয়েব। সে এক সময়কার পূর্ব বাংলার কমিউনিষ্ট পার্টির সদস্য ছিল। হত্যাকাণ্ডের দিন বিকেলে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফখরুল শেখের সাথে তার কথা কাটাকাটি হয়। এরপর তিনি ভাটা ছেড়ে চলে যায়। ওই দিন রাতে ফখরুল গুলিতে নিহত হন। এরপর থেকে এলাকা ছাড়া পাহারাদার তৈয়েব।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, হত্যাকাণ্ডের কয়েকদিন আগে থেকে এক যুবক ওই ফখরুলের সাথে বন্ধুর মতো ঘুরে বেড়াতেন। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে তার সন্ধানও মেলাতে পারছেন না এলাকার মানুষ।
অপর একটি সূত্র জানায়, গত চার বছর আগে ওই ইটভাটায় সাধারণ শ্রমিকের কাজ করতো ওই যুবক। এরপর ইটভাটা ছেড়ে অন্যত্র চলে যায়। ২০২৪ সালে সরকার পতনের পর আবারও এলাকায় ফিরে আসে। এবার শ্রমিক হিসেবে নয় ফখরুলের বন্ধু হিসেবে তার সাথে চলা ফেরা করতে থাকে।
প্রত্যক্ষদর্শীর দেওয়া তথ্যমতে তার সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া গেলেও তদন্তের স্বার্থে পুলিশ তা প্রকাশ করছেনা। এলাকাবাসীর ধারণা তৈয়েবকে ধরতে পারলে হত্যাকারী সম্পর্কে অনেক তথ্য পাওয়া যাবে।
নিহতের বড়ভাই ফরহাদ হোসেন বলেন, হত্যাকাণ্ডের চারদিন অতিবাহিত হলেও। পুলিশ এখনও পর্যন্ত আমার ছোটো ভাইয়ের হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। স্থানীয়দের মাধ্যমে এক যুবকের সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তাকে আমরা চিনি না। তার সাথে আমার আলাপ পরিচয় হয়নি। ইটভাটার পাহারাদার তৈয়েব ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা থানার এসআই নুর আলম এ হত্যা সম্পর্কে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে বলে জানান। ভাটার পাহারাদার তৈয়েবকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। গ্রেপ্তার হলে হত্যার রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।
খুলনা গেজেট/এনএম

