২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, দিনটি ছিল সোমবার। এদিন সকাল থেকে খুলনা মহানগরীর শিববাড়ি মোড়ে জড়ো হতে থাকে ছাত্র-জনতা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেখানে নামে ছাত্র-জনতার ঢল। আড়াইটা নাগাদ আন্দোলনরত অবস্থায় শিক্ষার্থীরা খবর পান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে গেছেন। এরপরই বিজয়োল্লাসে ফেটে পড়েন শিববাড়ি এলাকায় থাকা হাজার হাজার মানুষ। খুলনার সড়কে নেমে আসে ছাত্র-জনতা। মায়েরা সন্তানকে কোলে নিয়ে, বাবারা সন্তানকে কাঁধে নিয়ে জাতীয় পতাকা হাতে খুলনার সড়কে নেমে আসেন। সবশ্রেণি-পেশার মানুষের পদচারণায় খুলনার রাজপথ সরগরম হয়ে ওঠে। পথে পথে বিতরণ করা হয় মিষ্টি। এ সময় নগরীর বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ পায়ে হেঁটে, সাইকেল, ভ্যান, রিকশা, ইজিবাইকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে শিববাড়ি মোড়ের দিকে ছুটতে থাকেন। মিছিলে মিছিলে উত্তাল হয়ে ওঠে পুরো খুলনা। অনেকেই বলেন, দেশ আবার নতুন করে স্বাধীন হয়েছে। এ এক নতুন স্বাধীনতা, নতুন বাংলাদেশ।
সেদিন শিক্ষার্থীরা বলেছিলেন, ভাষা আন্দোলন দেখিনি, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি। তবে আজ ২০২৪ দেখলাম। ছাত্র-জনতার বিজয় হয়েছে। মানুষের এই উল্লাস দেখার মতো। আরেকটি স্বাধীনতার স্বাদ গ্রহণ করেছি। তারা বলেন, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের উল্লাস দেখিনি, তবে ২০২৪ এর আজকের বিজয় দেখে মনে হচ্ছে দেশ আবার নতুন করে স্বাধীন হয়েছে। মানুষের মধ্যে তেমনই আনন্দ উল্লাস বিরাজ করছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন খুলনা মহানগরের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও খুবির সাবেক ছাত্র সমন্বয়ক নাঈম মল্লিক জানান, ৫ আগস্ট সকাল থেকে আমরা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করছিলাম শিববাড়ি মোড়ে। সেখানেই শুনেছিলাম সেনাপ্রধান ভাষণ দেবেন। সবাই অপেক্ষার প্রহর গুণছিলাম। তারপরই হঠাৎ করে বিকেলে খবর আসে যে ‘প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ’ করেছেন। তারপরই আমরা বিজয় মিছিল নিয়ে হাদিস পার্কে শহীদ মিনারে যাই। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে শিববাড়ি ফিরে আসি। সবাই উল্লাস করেছে। সবাই মনে করেছে আমরা একটা ফ্যাসিস্ট শাসন থেকে মুক্তি পেয়েছি। এটি নতুন স্বাধীনতার স্বাদ। ১৬ ডিসেম্বরের অতীতের যে ছবিগুলো দেখা যায়, সেই রকমেরই একটা অবস্থা ছিল। মনে হচ্ছিল সবাই মুক্ত বাতাসে স্বাদ নিতে বেড়িয়েছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সমন্বয়ক সাজিদুল ইসলাম বাপ্পি জানান, ৪ আগস্ট থেকেই মানুষকে আর ঘরে রাখা যায়নি। ৫ আগস্ট যখন খবর আসলো হাসিনা দেশত্যাগ করেছে, তখন সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্ত ছিল বাড়ির মহিলারা ছোট ছোট শিশু বাচ্চাদের কোলে নিয়ে রাজপথে নেমেছিল। তারাও আনন্দ উদযাপন করেছে। তাদের দেখে ঈদের থেকেও বেশি খুশি মনে হয়েছে।
খুলনা গেজেট/এএজে

