খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) কল্যাণ সভা ও মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টায় নগরীর বয়রাস্থ পুলিশ লাইন্স মাল্টিপারপাস হলে কল্যাণ সভা এবং পরবর্তীতে লাউঞ্জ-২ তে অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। কেএমপি কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান (বিপিএম-সেবা) সভায় সভাপতিত্ব করেন।
সভার শুরুতে বিগত কল্যাণ সভার সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। এতে উপস্থিত বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যদের উত্থাপিত নানাবিধ দাবি ও সমস্যার কথা কমিশনার মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং তা দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন।
অনুষ্ঠানে দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে অবসরে যাওয়া ৪ জন পুলিশ সদস্য এবং ১ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে ফুলেল শুভেচ্ছা, ক্রেস্ট ও বিদায়ী উপহার সামগ্রী প্রদান করেন কমিশনার। এছাড়া খুলনা মহানগরীর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় জুন মাসে সন্তোষজনক ভূমিকা রাখায় বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যদের পুরস্কৃত করা হয়।
কল্যাণ সভায় পুলিশ কমিশনার বলেন, বিগত মাসে ক্যানসার আক্রান্ত সাব-ইন্সপেক্টর হেদায়েতের চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা এবং একজন অসুস্থ বাবুর্চিকে ৫০ হাজার টাকা ব্যক্তিগত তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। পরবর্তীতে বিকাশ কোম্পানির সহযোগিতায় সাব-ইন্সপেক্টর হেদায়েতের চিকিৎসার জন্য আরও ২ লাখ টাকার চেকের ব্যবস্থা করা হয়, যা বিকাশের সিনিয়র কর্মকর্তা ও সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি নাজিবুর রহমান নিজে এসে একটি সেমিনারের মাধ্যমে হস্তান্তর করেন।
তিনি বলেন, চরম সমস্যায় থাকা কেএমপির অন্য সদস্যদের পাশে দাঁড়াতে বিভিন্ন দাতব্য সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা নেওয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। কেএমপি সদস্যদের কল্যাণে আনুষ্ঠানিক সভার অপেক্ষা না করে সরাসরি উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি সদস্যদের ব্যক্তিগত প্রতিভা ও দক্ষতার যথাযথ মূল্যায়ন করে কেএমপির বিভিন্ন কাজে ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যয় সাশ্রয় ও প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন তিনি।
বক্তব্যে কমিশনার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সন্ত্রাসীদের সঙ্গে কোনো পুলিশ সদস্যের যোগসাজশ বরদাশত করা হবে না। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে মানবিক, সেবামূলক ও দায়িত্বশীল পুলিশিং নিশ্চিত করতে হবে।
মাদকের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, যারা মাদক থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান, তাদের সহযোগিতা করা হবে। তবে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে মানবাধিকার, আইনের শাসন ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে হবে।
কল্যাণসভা শেষে বেলা সাড়ে ১১টায় পুলিশ লাইন্স লাউঞ্জ-২ তে মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (সদর দপ্তর) এম, এম শাকিলুজ্জামান এবং অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ক্রাইম অ্যান্ড অপসের (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন পুলিশ কমিশনার। সভায় খুলনা মহানগরীর সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক অ্যান্ড প্রটোকল) মুহাম্মদ শাহনেওয়াজ খালেদ (পিপিএম-সেবা) সহ কেএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
খুলনা গেজেট/এএজে

