ভারী যান চলাচলে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ সড়ক

আজগর হোসেন ছাব্বির, দাকোপ

গ্যাসের সিলিন্ডারবাহী ভারী যানবাহন চলাচলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দাকোপের গ্রামীণ সড়ক। অতীতে এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া উদ্যোগ গুলো অজানা কারণে বাস্তবায়ন হয় না। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট গ্যাস কোম্পানির নেই কোনো ভ্রূক্ষেপ।

দাকোপ উপজেলার চালনা পৌর সদরের খলিশা এলাকায় গড়ে ওঠা বিএম গ্যাস কোম্পানি এখন উপজেলাবাসীর গলার কাঁটা হয়ে উঠেছে। কোম্পানি হতে পানখালী ফেরীঘাট পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার উপজেলা ও গ্রামীণ সড়ক গ্যাস সিলিন্ডার পরিবহনে ব্যবহার হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টনের ভারী ট্রাকসহ অন্যান্য যানবাহন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কোম্পানি হতে বৌমার গাছতলা পর্যন্ত আধা কিলোমিটার পানি উন্নয়ন বোর্ডের রাস্তা, গাছতলা হতে কসির ব্রিজ পর্যন্ত ১.৬৬ কিলোমিটার এলজিইডির উপজেলা সড়ক এবং কেসি ব্রিজ হতে পানখালী ফেরীঘাট পর্যন্ত ৩.৪০ কিলোমিটার এলজিইডির গ্রামীণ সড়ক।

উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর সূত্র জানায়, উপজেলা সড়কে সর্বোচ্চ ২০ টন এবং গ্রামীণ সড়কে সর্বোচ্চ ১০ টন ওজনের যানবাহন চলাচল করতে পারবে। কিন্তু বছরের পর বছর বিএম গ্যাস কোম্পানি বেআইনিভাবে ওই রাস্তায় ৩০ থেকে ৪০ টন ওজনের ভারী ট্রাকসহ অন্যান্য যানবাহনে তাদের মালামাল পরিবহন করছে। ফলে অতিরিক্ত লোডের কারণে প্রতিবছর রাস্তা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে বর্যা মৌসুম আসলেই রাস্তার বিভিন্ন অংশে পানি জমে গর্তের সৃষ্টি হয়ে খানাখন্দ পরিণত হয়। ঝুঁকিপূর্ণ ওই রাস্তায় যানবাহন চলাচলে প্রতিনিয়ত ঘটে থাকে নানা রকম দুর্ঘটনা। স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী এবং সাধারণ পথচারীদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

স্থানীয় ব্যবসায়ী গাজী সরোয়ার বলেন, পৌরসভার জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কে ভারী ট্রাক চলাচল করে মানুষের স্বাভাবিক চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, এটা মেনে নেওয়া যায় না। কোম্পানির উচিত বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা সৃষ্টি করা।

সদ্য সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর আঃ বারিক শেখ বলেন, কোম্পানি করার সময় তাদের অঙ্গীকার ছিল নিজস্ব অর্থায়নে উপযুক্ত রাস্তা তৈরি করে পরিবহন করবে। কিন্তু তারা সে অঙ্গীকার রাখেনি। আমরা পৌরসভায় একাধিকবার গাড়ি বন্ধের জন্য রেজুলেশন করেছি। কিন্তু অজানা কারণে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়নি। এখন তারা খালের দক্ষিণ পাশের নতুন রাস্তাও ব্যবহার করছে। জনস্বার্থে আমরা এই ভারী গাড়ি চলাচল বন্ধ করার দাবি জানাই।

এ ব্যাপারে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী ইমরান আহমেদ খান বলেন, রাস্তাটি ভারী যানবাহন উপযুক্ত করা এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানির ক্ষতিপূরণ দিয়ে সংস্কার করা উচিত।

অপরদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী জহির মাজহার বলেন, ওই রাস্তার লোড ক্যাপাসিটির বিষয়টি আমার জানা নেই, তবে ডিজাইন বিভাগের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

পৌরসভার জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তার এমন ক্ষতি সম্পর্কে জানতে চাইলে পৌর প্রশাসক ও দাকোপ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বোরহান উদ্দিন মিঠু বলেন, আমরা সভার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিয়েছি তারা হয় রাস্তা উপযোগী ছোট গাড়ি ব্যবহার করবে, অন্যথায় নদী পথ বা বিকল্প ব্যবস্থায় সিলিন্ডার পরিবহন করবে। এমন নির্দেশনা তাদেরকে জানিয়ে দেওয়া হবে।

তবে এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট গ্যাস কোম্পানির যেন কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই। কোম্পানির ম্যানেজার আরমানুর রহমানের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরা চালনা পৌরসভা উপজেলা প্রশাসন যে পরামর্শ দেয় সেগুলো মেনে পরিবহণ করে আসছি। এলাকাবাসী জনগুরুত্বপূর্ণ ওই রাস্তা রক্ষায় জনপ্রতিনিধিসহ সরকারের উপর মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।”

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন