বৃহস্পতিবার । ৪ঠা জুন, ২০২৬ । ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান শুরু কেএমপি’র

নিজস্ব প্রতিবেদক

খুলনায় নগরীতে একের পর এক সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বিষয়ে নড়েচড়ে বসেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)। নগরীর সন্ত্রাসী, মাদক বিক্রেতা ও চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তারে কেএমপি ও অন্যন্য বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট একসঙ্গে বিশেষ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত মঙ্গলবার অভিযানের প্রথম রাতেই যুবক রাশেদ হত্যাকাণ্ডে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে লবণচরা থানা পুলিশ। পাশাপাশি গ্রেনেড বাবুর সহযোগীসহ ৪ সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দুর্বল আইনশৃংখলা পরিস্থিতির সুযোগে বেপরোয়া ওঠে সন্ত্রাসীরা। সন্ত্রাসীদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে একের পর এক হত্যাকাণ্ড, গোলাগুলি ও কুপিয়ে জখম করার ঘটনা ঘটে। নীরব চাঁদাবাজি ও প্রকাশ্যে মাদক বেচাকেনায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে মানুষ।

পুলিশের তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের শেষ ৫ মাসে ১১ জন, ২০২৫ সালে ৩৭ জন এবং চলতি ৩ জুন পর্যন্ত নগরীতে ১৭টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। গুলি করে ও কুপিয়ে জখমের ঘটনা ঘটেছে শতাধিক। এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে কিশোর গ্যাংসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী বাহিনীর নাম আসছে। যার বেশিরভাগকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এ অবস্থায় গত মে মাসে নগরীতে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক বিক্রেতাদের হালনাগাদ তালিকা প্রকাশ করে কেএমপি। নগরীর ৮ থানায় ১৮১ জন সন্ত্রাসী, ৫৮৪ জন মাদক বিক্রেতা এবং ৬৯ জন চাঁদাবাজের খসড়া তালিকা প্রস্তুত করা হয়।

সূত্রটি জানায়, গতকাল বুধবার কেএমপি সদর দপ্তরে খুলনা শহরের বর্তমান আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি সংক্রান্তে পুলিশ কমিশনারের সভাপতিত্বে এক বিশেষ অপরাধ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বর্তমান আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সভায় যৌথভাবে বিশেষ অভিযান পরিচালনার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

কেএমপি কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান জানান, গত রাত থেকেই অভিযান শুরু হয়েছে। রাশেদ হত্যা মামলার ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা ওই হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে জড়িত ছিল। তাদের মোবাইলে সন্ত্রাসীগ্রুপ বি কোম্পানির হয়ে প্রচারণা, মাংস বিতরণের ছবি পাওয়া গেছে। এছাড়া গ্রেনেড বাবুর সহযোগি রাব্বিসহ ৪ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। নগরবাসীকে তথ্য দিয়ে অভিযানের সহযোগিতার অনুরোধ জানান কমিশনার।

যুবক খুনের ঘটনায় জড়িত ৩ জন গ্রেপ্তার

খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানা এলাকায় বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে কাজী রাশিদুল ইসলাম রাশেদ নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার রাতে নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে ওই তিনজনসহ ৭ ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে লবণচরা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন রাশের বাবা বাবা কাজী আনিসুর রহমান। গ্রেপ্তার তিন জন হলেন মন্টু হাওলাদার, মুসা গাজী ও মিরাজ।

এর আগে চলতি বছরের ১৯ মার্চ সকালে বাড়িতে কাজী রাশিদুলের বাড়িতে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে সন্ত্রাসীরা। সেদিন রাশেদ বাড়িতে না থাকায় প্রাণে বেঁচে যান। সন্ত্রাসীদের গুলিতে রাশেদের মা রঞ্জুয়ারা বেগম, বাবা কাজী আনিসুর রহমান, বড় ভাই রাইসুল ইসলাম ও স্ত্রী ফাহিমা গুলিবিদ্ধ হন।

লবণচরা থানার অফিসার ওসি সৈয়দ মোশারেফ হোসেন জানান, মঙ্গলবার (২ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে স্কুলভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে রাশেদকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনা মঙ্গলবার রাতে ইমরান নামের এক সন্ত্রাসীকে প্রধান আসামি করে ৭ জনের নামে মামলা করেন নিহতের বাবা। রাত থেকেই বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সময় তারা ঘটনাস্থলে ছিল।

গ্রেনেড বাবুর সহযোগি রাব্বিসহ গ্রেপ্তার ৪

গ্রেনেড বাবুর সহযোগি ও একাধিক মামলার আসমি রাব্বিসহ আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। বুধবার ভোর রাতে নগরীর গোবরচাকা এলাকার একটি দোকানের সামনে থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ইয়াবা, মাদক বিক্রির নগদ টাকা ও একটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার রাব্বি কৃষ্ণনগর এলাকার বাসিন্দা লুৎফরের ছেলে।

গ্রেপ্তারকৃত অন্যান্যরা হলেন সোনাডাঙ্গা মডেল থানার খোকন কমিশনার কালভার্ট এলাকার বাসিন্দা আব্দুল আজিজ খানের ছেলে আল আমিন, পাওয়ার হাউজ মোড়ের সোবাহানের বাড়ির ভাড়াটিয়া সেকেন্দার খানের ছেলে রানা খান ও বসুপাড়া এতিমখানার মোড় মিজান ভিলার বাসিন্দা ফেলু শিকাদারের ছেলে স্বপন।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন