শুক্রবার । ২৯শে মে, ২০২৬ । ১৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
অবশেষে ধরা খেলো পাইকগাছার ধূর্ত গৌতম

প্রতারণার ফাঁদে দুই পরিবারের দ্বন্দ্ব চরমে, হয়রানি মামলায় নিরীহ বিধান কারাগারে

বিশেষ প্রতিনিধি

দেখতে ভোলাভালা। যেন ভাঁজা মাছ উল্টে খেতে জানে না। নিজের প্রয়োজনে জমি বিক্রির নামে গৌতমের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে একই গ্রামের দুই পরিবার প্রকাশ্যে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়েছে। হামলা-মামলার ঘটনায় অসহায় এই পরিবার দু’টি নিঃস্ব হওয়ার পথে। ঘটনার নায়ক গৌতম সরদার খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার নাবা গ্রামের গোপাল সরদারের ছেলে। পেশায় পাইপ মিস্ত্রি।

এলাকাবাসী জানায়, যৌবনের শুরুতে বিয়ে করলেও ধূর্ত গৌতমের অত্যাচারে কয়েকদিনের মধ্যেই ভেঙে যায় সংসার। দ্বিতীয় বিয়ে করে পূর্ব প্রেমিকা একই গ্রামের দেবযানিকে।

স্থানীয় আনন্দ মন্ডল জানান, পরিবারে অর্থের টান পড়ায় জমি বিক্রির কথা বলে একই গ্রামের বিধান বৈরাগীর নিকট থেকে দুই একর জমির বায়নাবাবদ অর্থ নেওয়া শুরু করে স্ট্যাম্পে চুক্তির মাধ্যমে। তিন দফায় সাড়ে দশ লাখ টাকা গ্রাম্য সাক্ষিদের উপস্থিতিতে নিলেও নির্ধারিত সময়ে জমি রেজিষ্টিতে টালবাহানা করতে থাকে। স্ট্যাম্পে চুক্তিনামা থাকা স্বত্বেও জমি রেজিষ্টি না পেয়ে স্থানীয় বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তিদের শরণাপন্ন হলেও তার বোধোদয় হয়নি। গৌতম দিনের পর দিন ঘুরাতে থাকে বিধান বৈরাগীকে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ জনপ্রতিনিধিরা শত চেষ্টা করেও বিষয়টি মীমাংসা করতে ব্যর্থ হন। নিরুপায় হয়ে বিধান দ্বারস্থ হয় আদালতের। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে, (মামলা নং ৬৮০/২৫) তাকে আপোষ মীমাংসার মাধ্যমে বিষয়টা সুরহা করার জন্য নির্দেশ দিলেও গৌতম অবজ্ঞা করে তার হটকারী কার্যক্রম চালাতে থাকে।

একসময় স্থানীয় লোকজনের চাপ ও আদালতের সমন জারি হওয়ায় এলাকা ত্যাগ করে সে যশোরে বসবাস শুরু করে। তার ধারণা ছিল অন্য থানা কিংবা জেলায় গেলে তাকে আর পুলিশ খুঁজে পাবে না। ইতোমধ্যে সে আরেকটি ভয়ানক খেলা খেলে যার খেসারত দিতে হয় বিপদের দিনে সাহায্যকারী বিধান বৈরাগীকে। গৌতম যে জমি বাবদ বায়নাসূত্রে টাকা গ্রহণ করে সে জমি তার মা ও ভাই মারফত বিধানকে চাষের জন্য দেয়। অন্যদিকে প্রতারক গৌতম তৃতীয় ব্যক্তি একই গ্রামের দুলাল সরদারকে লিজ দেয়। এদিকে গৌতম সরদারের ভাই দিপক ও তার মায়ের কাছ থেকে জমি দখলে নিয়ে মাছচাষ শুরু করে বিধান বৈরাগী। একদিন হঠাৎ সেখানে এসে হাজির হয় লিজ গ্রহণকারী দুলাল সরদার। বিধান বৈরাগীর ছাড়া মাছ দুলাল সরদার ধরতে আসলে বাধে বিপত্তি, দু’জনের ধাক্কাধাক্কি গড়ায় মামলা পর্যন্ত (মামলা নং ৯ তাং-১৪/৪/২৬)। মারধরের মামলায় বিধানকে যেতে হয় জেলে। জমি ক্রয় করতে এসে জেল খাটার ঘটনায় হতভাগ এলাকাবাসী।

এলাকাবাসীর প্রশ্ন ঘটনার অন্তরালের মেঘদূত কি মেঘের আড়ালেই থেকে যাবে? এরই মধ্যে এ যেন, ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। অবশেষে পুলিশ ঘটনার অন্তরালের অনুঘটক গৌতমকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে পুলিশ। এবার কি ধূর্ত গৌতমের প্রতারণার ফাঁদ থেকে রক্ষা পাবে অসহায় দু’টি পরিবার? নিরীহ বিধান কি ফিরে পাবে জমি? এ ঘটনায় এলাকাবাসী প্রকৃত সত্য ঘটনা উদঘাটনসহ হয়রানিমূলক মামলা থেকে সহজ সরল বিধানের মুক্তি এবং প্রতারণার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন