খুলনায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং ভয়হীন পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন, খুলনা সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে নির্বাচনি সরঞ্জাম খুলনার সকল কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তার জন্য খুলনা জেলা প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল থেকে নৌ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা খুলনার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মহড়া দিয়েছে। দুপুরে শিববাড়ি মোড়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে বদ্ধপরিকর থাকার কথা জানান। এদিন সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন স্থানের দোকানপাট বন্ধ ছিল। রাস্তায় যানবাহন ও মানুষের উপস্থিতি একেবারে কম দেখা যায়।
খুলনা জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তায় সেনাবাহিনীর ১ হাজার ২৫০ জন, নৌবাহিনীর ৯৫৪ জন, বিজিবির ৩০০ জন, কোস্টগার্ডের ৩৫০ জন, র্যাবের ৯৮ জন, মেট্রোপলিটন পুলিশের ২ হাজার ৪৩১ জন, জেলা পুলিশের ২ হাজার ১২৪ জন এবং আনসার ও ভিডিপির ১১ হাজার ১১২ জনসহ মোট ১৮ হাজার ৬২৪ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
খুলনা জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আ. স. ম. জামশেদ খোন্দকার বলেন, খুলনার ৬টি সংসদীয় আসনে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড, র্যাব, আনসার ও ভিডিপির মোট ১৮ হাজার ৬২৪ জন সদস্য কর্মরত থাকবেন। টহল দল ২০ মিনিট পরপর প্রতিটি কেন্দ্র পরিদর্শন করবে এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার খবর পাওয়া মাত্রই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সেনাবাহিনীর লে. কর্নেল তাইফুল ইসলাম বলেন, এলাকায় যৌথবাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে সমন্বিতভাবে নির্বাচনি এলাকায় যৌথবাহিনীর টহল পরিচালনা করা হচ্ছে। এছাড়া প্রত্যেকটি ভোটকেন্দ্রকে রিয়েল-টাইম সার্ভিল্যান্সের আওতায় আনা হয়েছে। যে কোনো উদ্ভূত পরিস্থিতিতে খুলনা জেলার যে-কোনো ভোটকেন্দ্রে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে। কেউ নির্বাচন ব্যাহত করার চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সম্মিলিত বাহিনীর প্রচেষ্টায় একটি নিরাপদ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ভোটাররা নির্বিঘেœ ভোট দিতে পারবেন।
নৌবাহিনীর কমান্ডার মোহাম্মাদ সামসিদ তাবরিজ বলেন, যৌথবাহিনীর সমন্বয়ে জয়েন্ট পেট্রোল পরিচালনা করা হচ্ছে। খুলনা সিটিসহ জেলা শহর, দিঘলিয়া, কয়রা এবং তেরখাদায় যৌথবাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। খুলনা-২ ও খুলনা-৩ আসনে ৫০০ জনের অধিক সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপির সমন্বয়ে কাজ করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি ফোর্স নিয়োজিত রয়েছে। কোনো ধরনের নাশকতার সুযোগ নেই বলে তিনি জানান। খুলনা জেলায় ১ হাজার এবং মেট্রো এলাকায় ৫০০ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।
র্যাব-৬ এর উপ-অধিনায়ক নাজমুল ইসলাম বলেন, ১৪টি টহল টিম খুলনার ৬টি নির্বাচনি এলাকায় কাজ করবে। এর মধ্যে মেট্রোপলিটন এলাকায় ৪টি এবং বাকিগুলো জেলায় টহল দেবে। একটি টিম রিজার্ভ এবং একটি বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট হিসেবে কাজ করবে। প্রতিটি টিমে ৭ জন সদস্য থাকবেন।
খুলনার পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ মাহবুবুর রহমান বলেন, ২ হাজার ১২৪ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
খুলনা গেজেট/এএজে

