পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ, ছাত্র ফেডারেশন এবং ছাত্র কংগ্রেস খুলনায় বিএল কলেজ কেন্দ্রীক ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাতে এ তিনটি ছাত্র সংগঠন ছিল চালিকা শক্তি। ছাত্র আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ভাষা ভিত্তিক বাঙালি জাতীয়তাবাদের আন্দোলনের পক্ষে জনমত সৃষ্টি হয়। আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারা জেলায়। পরবর্তীতে এ আন্দোলনে সর্বস্তরের মানুষ সম্পৃক্ত হয়। আন্দোলনের প্রথম পর্যায়ে শহীদ হন ছাত্র ফেডারেশনের নেতা সরদার আনোয়ার হোসেন।
ব্রিটিশ জমানায় খুলনায় ছাত্র ফেডারেশন শক্তিশালী হয়ে ওঠে। ১৯৩৭ সালে এখানে ছাত্র ফেডারেশন আত্মপ্রকাশ করে। ছাত্র ফেডারেশন কমিউনিস্ট পার্টি সমর্থিত ছাত্র সংগঠন। ত্রিশের দশক থেকে বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে। কমিউনিস্ট পার্টির প্রকাশ্য তৎপরতা ছিল না। ১৯৫৮ সালের ৪ জানুয়ারি পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ আত্মপ্রকাশ করার পর কেন্দ্রীয় সদস্য শেখ আব্দুল আজিজের নেতৃত্বে এখানে বিকাশ লাভ করে। ১৯৫১ সালে খুলনায় আওয়ামী মুসলিম লগি আত্মপ্রকাশের পর ছাত্রলীগ সহযোগী সংগঠন হিসেবে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। ছাত্র কংগ্রেস শুরু থেকে ফরোয়ার্ড ব্লকের সমর্থক। তখনও ছাত্র ইউনিয়ন এবং বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়ন আত্মপ্রকাশ করেনি।
কোনো রাজনৈতিক দলের পরামর্শ ছাড়া ১৯৪৮ সালের ২৫ মার্চ দৌলতপুর বিএল একাডেমীতে ছাত্ররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ক্লাশ বর্জন এবং বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে। একাডেমীর প্রধান গেট বন্ধ করে ছাত্র সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সর্বস্তরের ছাত্রদের সমর্থনে বিষয়টি স্পষ্ট হয়। ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্তরা হচ্ছেন তাহমিদ উদ্দীন, মতিয়ার রহমান, জিল্লুর রহমান, শেখ হাসান উদ্দীন, খোন্দকার আব্দুল হাফিজ, এম নূরুল ইসলাম, সৈয়দ কামাল বখত সাকী, ছাত্র ফেডারেশনের আনোয়ার হোসেন, সুনীল ঘোষ, অজিত ঘোষ, মালিক আতাহার উদ্দীন, ধনঞ্জয় দাস, স্বদেশ বোস, সন্তোষ দাশ গুপ্ত, ছাত্র কংগ্রেসের শৈলেন চন্দ্র ঘোষ, এ কে চান মিয়া এবং যুব মুসলিম লীগের আবু মুহম্মদ ফেরদৌস।
খুলনা গেজেট/এএজে

