ডুমুরিয়ায় দীর্ঘদিন পরে আছে সিঙ্গার নদীর গার্ডার ব্রিজের নির্মাণ কার্যক্রম। নৌকা-ডিঙি ও বাঁশ-কাঠের সাঁকো ব্যবহার করে ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হচ্ছে এলাকাবাসী। বিশেষ করে গর্ভবতী মায়েদের নিয়ে বেশি বিপাকে পড়তে হয়। এদিকে যোগাযোগব্যবস্থা উন্নতি ধীরগতির ফলে সিংগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কমলমতি শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও হ্রাস পেয়েছে। তবে সবকিছু ঠিক থাকলে নির্মাণ কাজ আগামী সপ্তাহে শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ। ব্রিজটি নির্মাণ হলে সিংগা গ্রামের সাথে খর্ণিয়াসহ আশপাশ গ্রামের হাজারো মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সামাজিক সম্পর্ক বৃদ্ধিসহ অবহেলিত এলাকা অর্থনৈতিকভাবে উন্নতি ঘটবে।
জানা যায়, যুগের পর যুগ বিচ্ছিন্নভাবে বসবাস করে আসছে খর্ণিয়া ইউনিয়নের সিংগা গ্রামের বাসিন্দারা। যোগাযোগব্যবস্থা ভালো না থাকায় আজও এলাকাটি অনুন্নত রয়ে গেছে। বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় এ অঞ্চলের নারী-শিশুসহ সব বয়সী মানুষের নৌকা-ডিঙি চড়ে পারাপার হতে হয়। ২০২০-২১ অর্থ বছরে খুলনা বিভাগ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৯০০ মিটার টিপনা-সিংগা রোডসহ সিংগা নদীর উপর ৬০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ব্রিজটি নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করছিল মেসার্স আঁকন ট্রেডার্স নামক একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০২৪ সালের জুন মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু ৬০ পার্সেন্ট কাজ শেষ না হতেই মাঝপথে থেমে যায় ব্রিজ নির্মাণ কার্যক্রম। সেই থেকে দুই বছর অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে ব্রিজটি। ব্রিজ নির্মাণে দীর্ঘসূত্রিতা ও গাফিলতির কারণে এলাকার মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এ গ্রামে ৬০ পরিবারে প্রায় ৫ শতাধিক মানুষের বসবাস। রয়েছে ১টি সরকারি প্রাইমারি স্কুল ও ২টি মন্দির। গ্রামের অধিকাংশ রাস্তা রয়েছে কাঁচা।
সিংগা গ্রামের জয়ন্তী গাইন ও শিবানী গাইন জানান, “আমাদের দিকে সরকারের তেমন নজর না। একটি ব্রিজ নির্মাণ হচ্ছিলো তাও বন্ধ হয়ে আছে দুই আড়াই বছর ধরে। কত কষ্ট করে যে আমাদের পারাপার হতে হয় তা আর কাকে বলবো! বিশেষ করে গর্ভবতী মায়েদেরকে নিয়ে বেশি বিপদে পড়তে হয়। ৫ বছর ধরে ব্রিজের কাজ হচ্ছে কিন্তু এখনো শেষ হয়নি।
খর্ণিয়া ইউপি সদস্য মোল্যা আবুল কাশেম জানান, “যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় এলাকাটি অনেক অনুন্নত। ব্রিজ নির্মাণেও দীর্ঘসূত্রিতা দেখা দিয়েছে। শুনেছি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার মারা গেছেন। তবে ব্রিজটি দ্রুত নির্মাণের প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ দারুল হুদা জানান, “ওই এলাকার জন্য ব্রিজটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার মারা যাওয়ার কারণে নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে পড়ে। ব্রিজের সিসি এবং পিসি গার্ডার নির্মাণ কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। ব্রিজের বাকি কাজ অন্য ঠিকাদার দিয়ে সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”
খুলনা গেজেট/এনএম

