ঢাকা থেকে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন রিকশা চালক রনি। মাথায় দুর্বৃত্তের হাতুড়ির আঘাতের কারণে শরীরের ডানপাশ অবশ হয়ে আছে। বিছানা থেকে ঠিকমতো উঠতে পারেন না। স্পষ্ট করে কথা বলতে পারছেন না। টাকার অভাবে চিকিৎসা করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন পরিবারটি। ঠিক সেই মুহূর্তে ঋণ পরিশোধের জন্য চাপ দিচ্ছে এনজিও কমীরা।
গত ৩ ফেব্রুয়ারি সকালে রিকশা নিয়ে বের হন রনি। সকাল ৯টার দিকে পুলিশ তার স্ত্রীকে ফোন দিয়ে জানায় রনি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।
রনির স্ত্রী মুক্তা খুলনা গেজেটকে জানান, পরিবারের সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে গত একমাস আগে এনজিও ‘ব্রাক’ থেকে ৪০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে স্বামীকে ব্যাটারিচালিত একটি অটোরিকশা কিনে দেওয়া হয়। রিকশাটি ছিল আয়ের মাধ্যম। কিন্তু দুর্বৃত্তরা তাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে রিকশাটি ছিনিয়ে নিয়ে যায়। রনি বিছানায় পড়ে থাকায় সংসার জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। চিকিৎসা ব্যয় করতে তাকে রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনার দিন ঘটনাস্থলের আশপাশের মানুষ মোবাইলে বিকাশের মাধ্যমে কিছু টাকা দেয়। আর কিছু টাকা ধার করে রনিকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি অসুস্থ এবং আয়ের সম্বলটি হারিয়ে নিঃস্ব তারা। এমন সময় ঋণের টাকার জন্য বারবার হানা দিচ্ছে খালিশপুরের ব্র্যাকের কর্মীরা। তাদের অসহায়ত্ব দেখে বাড়ির মালিক প্রায়ই খোঁজ নিচ্ছেন। এক মাসের বাড়ি ভাড়াও নেননি।
খুলনা গেজেট/এনএম

