প্রায় দেড় যুগ পর জাতি তার ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাওয়ায় উদ্বেলিত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে তরুণ, প্রবাসী ও হিন্দুদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে রাজনৈতিক দলগুলো। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় শাহবাগে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার পর দৃশ্যপট খানিকটা পাল্টে গেছে। এবারের তরুণরা দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে, উন্নয়নের পক্ষে, প্রবাসীরা কল্যাণমূলক রাষ্ট্র এবং হিন্দুুরা নিরাপত্তার বিষয়টি প্রাধান্য দিচ্ছে। শেষ সময়ে বড় দলগুলি ইশতেহার দিয়ে তাদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে।
আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অনুপস্থিত। বিশেষ পরিস্থিতিতে এলাকার অবস্থানজনিত কারণে লুকিয়ে থাকা এ দলের নেতারা সরবে-নীরবে পক্ষ নিয়েছেন।
একটি জরীপ সংস্থা উল্লেখ করেছে, হিন্দুুদের বড় একটি অংশ বিএনপি’র পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। মূলত: তারা নিরাপত্তা চায়। দু’টো দুর্গা পূজায় বড় দলটির ভূমিকা নিয়ে তাদের মূল্যায়ন ছিল। ক্ষেত্র বিশেষ হিন্দুদের একটি অংশ জামায়াতে ইসলামকে সমর্থন দিয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধে তাদের ভূমিকা সামনে এসেছে। হিন্দুু প্রার্থী করার পরও এ আঘাত থেকে তারা পুরোপুরি সরে আসতে পারেনি।
নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো জোর দিচ্ছে নারী ও অমুসলিম ভোটারদের বিষয়ে। কারণ তারা মনে করছে, শেষ পর্যন্ত ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াবেন নারী ও হিন্দু ভোটাররা। জয়-পরাজয় নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবেন তারা।
এর বাইরে নির্বাচনে অন্যতম ভূমিকা রাখবেন তরুণ ভোটাররা। ফলে বিভিন্ন ধরনের ভোটারকে আকৃষ্ট করতে প্রার্থীরা ভিন্ন ভিন্ন পরিকল্পনা করছেন।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্ট সূত্র জানায়, দেশে অমুসলিম ভোটারের সংখ্যা প্রায় দেড় কোটি। এর বেশির ভাগই হিন্দু ভোটার। ৯০টি আসনে হিন্দু ভোটার ৭০ হাজার থেকে এক লাখ ৭০ হাজারের কাছাকাছি। ১০০টি আসনে ৫০ হাজার থেকে ৬৯ হাজার এবং ১১০টি আসনে ২৫ হাজার থেকে প্রায় ৪৯ হাজার হিন্দু ভোটার আছেন।
ভিন্নধর্মের মানুষের কাছে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে হিন্দু অধ্যুষিত খুলনা-১ (বটিয়াঘাটা ও দাকোপ উপজেলা) আসনে কৃষ্ণ নন্দীকে প্রার্থী দিয়েছে জামায়াত।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, ‘হিন্দু-মুসলিম বলে কোনো বিষয় নেই। সবাই বাংলাদেশের নাগরিক, দেশের ভোটার। এ হিসেবে আমাদের দায়িত্ব সব মানুষের কাছে যাওয়া। আমরা দল হিসেবে যাচ্ছি, প্রার্থীরা যাচ্ছেন, নেতাকর্মীরাও যাচ্ছেন।’
খুলনার ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ২৫ হাজার ৭৮৬ জন ভোটার পোস্টাল ভোটদানের মাধ্যমে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। তবে আবেদনকারীদের মধ্যে ৬০টি বাতিল করা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ডাকযোগে ভোটদানের জন্য ২৫ হাজার ৮৪৬ জন ভোটার আবেদন করেছিলেন। কিন্তু যাচাই-বাছাইয়ের পর ৬০টি আবেদন বাতিল করা হয়। মূলত: প্রাবাসীরা প্রথমবারের মত এই ভোটাধিকারের সুযোগ পাওয়ায় ৫ আগস্ট পরবর্তী মূল্যায়ন করেই তারা পোস্টাল ব্যালটে রায় দিয়েছেন। নানা গুঞ্জন থাকলেও তাদের সু-চিন্তিত মতামত প্রয়োগ করেছেন।
প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন বিষয়ক ‘ওসিভি-এসডিআই’ প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান জানান, ‘এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে দেশে ও প্রবাসে মিলিয়ে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন ভোটার ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে নিবন্ধন করেছেন।’
এবার ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছে প্রায় পৌনে চার কোটি তরুণ ভোটার। যা মোট ভোটারের প্রায় ৩০ শতাংশ হবে। কেউ কেউ বলছেন, এ তরুণ ভোটাররা আগামী সংসদ নির্বাচন কোন দল সরকার গঠন করবে, তা ঠিক করে দেবে।
ইসি সূত্র জানায়, ‘দেশে বর্তমানে ভোটার রয়েছে ১২ কোটি ৪৪ লাখ। এর মধ্যে ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সের ভোটারদের তরুণ ধরা হয়েছে। যাদের সংখ্যা তিন কোটি পাঁচ লাখের সঙ্গে আরও চলমান ভোটার তালিকা হালনাগাদ শেষে যুক্ত হবে আরও প্রায় ৫৭ লাখের বেশি। এতে মোট তরুণ ভোটার সংখ্যা দাঁড়াবে পৌঁনে চার কোটির কাছাকাছি। যা মোট ভোটারের ৩০ শতাংশ।
খুলনা গেজেট/এনএম

