শুক্রবার । ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণার পাশাপাশি চলছে অপপ্রচার

গেজেট প্রতিবেদন

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর বাকী ৬ দিন। দেশবাসীর নজর এখন ১২ ফেব্রুয়ারির দিকে। এবারের নির্বাচনে নেই প্রার্থীদের পোস্টার। নেই মোড়ে মোড়ে নির্বাচনি অফিস। প্রচার মাইকের সংখ্যাও কম। তারপরও থেমে নেই প্রচার প্রচারণা। তবে এবারের নির্বাচনে বেশি প্রচারণা চলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। পাশাপাশি অপপ্রচারও চলছে সমানতালে।

প্রার্থীদের রাজনৈতিক জীবনাদর্শ, নীতি নৈতিকতা এবং নানা রঙের নানা ধরনের পোস্টার ও কন্টেন্ট আপলোড হচ্ছে ফেসবুকে। এসব প্রচারণা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে সর্বমহলে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে দেখা হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে।

নির্বাচনি এলাকাগুলোতে প্রচারণার চেয়ে ফেসবুক, ইন্সটাগ্রামসহ অন্যান্য জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে প্রার্থীদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এখানে তারা নিজেদের বা দলের পক্ষে কর্মসূচি, প্রতিশ্রুতি ও জনসভায় দেওয়া বক্তব্য প্রচার করছেন। এছাড়া কিছু দল স্বল্প দৈর্ঘ্যের ভিডিও তৈরি করে তা সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করছে। নির্বাচনি প্রচারণার শেষ হওয়ার পর কোনো প্রার্থী বা তাদের কোনো কর্মী সমর্থক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো প্রকার প্রচারণা চালাতে পারবেনা বলে জানিয়ে দিয়েছে ইসি। এইরূপ কোনো প্রচারণা চালালে ওই প্রার্থীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এই প্রচারের পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এবং প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের নেতাদের হেয়োপ্রতিপন্ন করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিশেষ মহল। এক্ষেত্রে এআই এর সহায়তাও নিচ্ছেন তারা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সুবাদে এসব অপপ্রচার মুহূর্তের মধ্যে ঘরে ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে। ফলে সরব প্রচারের চেয়ে নীরব প্রচার এবার বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। এদিকে সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর আমীরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে কর্মজীবী নারীদের নিয়ে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ ওঠে। ইতোমধ্যে তার আইডি হ্যাক করার অভিযোগে একজনকে আটকও করেছে ডিবি পুলিশ।

খুলনা-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এ্যাড. জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল বলেন, ‘পোস্টার ও দেওয়াল লিখন পুরানো পদ্ধতি। এতে এলাকার সাজসাজ রব থাকে। কিন্তু ইসি থেকে নিষেধাজ্ঞা থাকায় কোনো প্রার্থী পোস্টার ব্যবহার করতে পারছেন না। পোস্টারের বিকল্প হিসেবে প্যানা ব্যবহার করা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার চালাতে তুলনামূলকভাবে খরচ কম হয়। সাথে সাথে প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়। ছোট ভিডিও এবং লাইভ বক্তব্যের মাধ্যমে আমরা আমাদের কর্মসূচি, প্রতিশ্রুতি ও রাজনৈতিক অবস্থান সহজ ভাষায় তুলে ধরি। এতে তরুণ ভোটাররা সরাসরি প্রার্থীদের বক্তব্য জানতে পারে একই সঙ্গে ভোটারদের পক্ষে তথ্য সংগ্রহ করা সহজ হয়ে যায়।’

সরকারি চাকরিজীবী আবুল হায়দার বলেন, ‘কাজের ব্যস্ততার কারণে ঘরে বসে টিভিতে এখন আরও নিউজ দেখা হয় না। ফেসবুক বা অন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম দেখা হয়। সেখানে প্রার্থীরা কে কী বক্তব্য দিচ্ছেন এবং তাদের অবস্থান কোথায় তা এক ক্লিকেই দেখা যায়।’

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন