পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী নুরুল আমিনের উক্তি, ‘উর্দু হবে রাষ্ট্রভাষা’ এর প্রতিবাদে খুলনায় ছাত্র সমাজ বিক্ষোভ গড়ে তোলে ১৯৫২ সালে। তার মধ্যে অন্যতম এ্যাড. মোল্লা মোমিন উদ্দিন আহমেদ। তিনি খুলনার ছাত্র সমাজকে সংগঠিত করে ভাষা আন্দোলনের পক্ষে জনমত সৃষ্টিতে অসামান্য অবদান রাখেন। আন্দোলনের পক্ষে সাড়ে ৪ কোটি মানুষ সোচ্চার হওয়ায় সরকার বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়। যার ফলশ্রুতিতে ১৯৫৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে মুসলিম লীগের ভরাডুবি ও যুক্তফ্রন্টের বিজয় হয়। যুক্তফ্রন্ট সরকার ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি স্মরণে দিনটিকে সরকারি ছুটি ঘোষণা করে।
তিনি নগরীর ছোট বয়রা এলাকায় ১৯২৭ সালে ৩ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মোল্লা আফতাব উদ্দিন আহমেদ ও মাতার নাম সবুনুন্নেছা বেগম। ১৯৪৫ সালে শহরের ইউসুফিয়া মাদ্রাসা থেকে ম্যাট্রিক পাশ করেন। ১৯৪৫ সালে বিএল কলেজ ছাত্র সংসদের সদস্য, ১৯৪৬ সালে খুলনা শহর মুসলিম ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বিএল কলেজ থেকে তিনি আইএ ও বিএ পাশ করেন। ১৯৪৯ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৫৩ সালে এম এ ও ৫৪ সালে এলএলবি পাশ করেন।
১৯৫২ সালে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংগ্রাম পরিষদের সদস্য, তমুদ্দীন মজলিসের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তমুদ্দীন মজলিস নামক সংগঠন পূর্ব পাকিস্তানব্যাপী ভাষা আন্দোলন গড়ে তুলতে সোচ্চার ছিল।
ভাষা সংগ্রামী মোমিন উদ্দিন আহমেদ ১৯৫৩ সালে খুলনা জেলা আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক, ১৯৫৬ সালে খালিশপুর পিপুলস জুট মিল শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও ১৯৫৬ সালে মোংলা পোর্ট শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫৬ সালে আইন পেশায় যোগ দেন। ১৯৫৭ সালে আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য, ১৯৫৮ সালে খুলনা পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৬৩ সালে জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেন।
১৯৬৪ সালে আওয়ামী লীগের শহর শাখার সভাপতি, ১৯৭০ সালে পাইকগাছা-কয়রা এলাকায় এমপিএ, ১৯৭৩ সালে এমপিএ, ১৯৭৫ সালে পানি সম্পদ ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী, ১৯৭৯-৮১ নেপালের রাষ্ট্রদূত, ১৯৮৬ সালে জাপার মনোনয়নে খুলনা-৬ আসন থেকে এমপি এবং শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০১০ সালে ইন্তেকাল করেন।
খুলনা গেজেট/এনএম

