বুধবার বিদ্যুতের ঘাটতি ৪৪ মেগাওয়াট, বৃহস্পতিবার ছিল ৫৬ মেগাওয়াট

মাঘেও খুলনায় লোডশেডিং, দুর্ভোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

কাল ছিল ৮ মাঘ। ঋতু চক্রে এটা ভরা শীতের মৌসুম। এসি চলে না, ফ্যান ঘোরে না। এসব কারণে এই সময়টা বিদ্যুতের চাহিদা কম থাকে। লোডশেডিং থাকে না বললেই চলে। কিন্তু ভরা শীতের সময় লোডশেডিংয়ে নাজেহাল হচ্ছে খুলনা অঞ্চলের বাসিন্দারা। দফায় দফায় বিদ্যুৎ যাচ্ছে, অন্ধকারে ডুবে থাকছে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাটসহ বিভিন্ন জেলার মানুষ।

বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো)-এর তথ্য বলছে, গত বুধবার পদ্মার এপারে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৫৪৫ মেগাওয়াট। সরবরাহ ছিল ৫০১ মেগাওয়াট। লোডশেডিং ছিল ৪৪ মেগাওয়াট। এর মধ্যে খুলনা জোনের ১৫টি জেলায় ৪২৬ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ৩৮২ মেগাওয়াট। অর্থাৎ কোম্পানির ৪৪ মেগাওয়াট লোডশেডিংয়ের পুরোটাই খুলনার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার ওজোপাডিকোর ২১ জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৫৬০ মেগাওয়াট। সরবরাহ ছিল ৪৯২ মেগাওয়াট। লোডশেডিং ছিল ৬৮ মেগাওয়াট।

এই সময় খুলনা জোনের ১৫টি জেলায় ৪৩১ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ৩৭৫ মেগাওয়াট। লোডশেডিং ছিল ৫৬ মেগাওয়াট।

বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র, বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উৎপাদন ব্যয় কমাতে জ¦ালানি তেলচালিত বেশির ভাগ বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রাখা হয়েছে। এর মধ্যেই বড় পুকুরিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্র, কয়লা ও গ্যাসচালিত তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদন ব্যাপকহারে কমে যাওয়ায় সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

শিল্প কারখানা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে অনেক কারখানা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। উৎপাদন সচল রাখতে ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহার করছেন। কিন্তু ডিজেলের দাম বাড়ায় পণ্য তৈরিতে অতিরিক্ত টাকা ব্যয় হচ্ছে। সে তুলনায় পণ্যের দাম না পাওয়ায় কারখানা সচল রাখা তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না অনেকের।

ওজোপাডিকোর পরিচালক ও সংরক্ষণ সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আরিফুর রহমান জানান, বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণে লোডশেডিং হচ্ছে। এই অঞ্চলের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রামপাল সচল রয়েছে। তবে বড় পুুকুরিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অল্প কিছু দিনের মধ্যে এটি ঠিক হয়ে যাবে বলে আশা করেন তিনি।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন