খুলনায় ডেঙ্গু আতঙ্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

খুলনায় ডেঙ্গুর প্রকোপ আশংকাজনকভাবে বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৪৩ জন রোগী। খুলনার বেসরকারি হাসপাতালগুলোর কোনোটিতেই শয্যা ফাঁকা নেই। সরকারি হাসপাতালের বারান্দাতেও রোগীদের জায়গা দেওয়া যাচ্ছে না। বর্তমানে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৬৬ জন এবং জেলার অন্যান্য হাসপাতালে ২৫৫ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ অবস্থায় আক্রান্তদের চিকিৎসায় নগরীর তিনটি স্থানে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প চালু করেছে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)।

গতকাল মঙ্গলবার থেকে নগরীর ১৭নং ওয়ার্ডের সোনাডাঙ্গা আবু বক্কর খান আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি, ২২নং ওয়ার্ডের রূপসা বেড়িবাঁধ এলাকার আবু মাদরাসা ও এতিমখানায় দ্বিতীয়টি এবং ৩০নং ওয়ার্ডের টুটপাড়া তালতলা মাতৃসদন হাসপাতালে তৃতীয় মেডিকেল ক্যাম্প চালু হয়েছে।

এদিকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রতিটি ওয়ার্ডে ফগার মেশিন দিয়ে মশক নিধন, স্থানীয় জনগণকে নিয়ে জলাভূমি পরিষ্কার, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা বাড়াতে মাইকিং ও সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বিএনপি। একই সঙ্গে রোগীদের জন্য বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ ম্যাচিং, ডায়াগনস্টিক সাপোর্ট, রক্ত সংগ্রহ করার উদ্যোগ নিয়েছেন দলটির নেতারা।

খুলনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এসব কার্যক্রম তুলে ধরেন খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা। তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধনের পাশাপাশি ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সহযোগিতায় রোগীদের চিকিৎসার কাজও বিনামূল্যে করা হবে। এজন্য আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসক পরামর্শ, অবস্থা বুঝে ওষুধ সরবরাহ ও সার্বক্ষণিক আপডেট রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মহানগরের প্রতিটি আক্রান্ত থানা এলাকায় কমপক্ষে একটি ৫০ শয্যার কেন্দ্রীয় সেবাকেন্দ্র এবং জনসংখ্যার ঘনত্ব অনুযায়ী বড় ওয়ার্ডে ২০ শয্যা ও ছোট দুটি ওয়ার্ড মিলে সমমানের সেবাকেন্দ্র প্রস্তুতের ঘোষণা দেন তিনি। প্রতিটি সেন্টারে চিকিৎসক, স্বাস্থ্য সহকারী, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, রক্তের গ্রুপ ম্যাচিং সুবিধাসহ ওয়ার্ড বিএনপি কার্যালয়ে হটলাইন নম্বর টাঙানো থাকবে এবং স্বেচ্ছাসেবী দল সার্বক্ষণিক কাজ করবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, উদ্যোগগুলো সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে খুলনা মহানগর বিএনপি অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে একটি শক্তিশালী পরিচালনা ও তদারকি পর্ষদ গঠন করা হয়েছে। মেডিকেল পর্ষদের চিকিৎসাসেবা সমন্বয়ে কাজ করবেন ডা. রফিকুল ইসলাম বাবলু এবং প্রতিরোধ ব্যবস্থা সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকছেন মাসুদ পারভেজ বাবু। সার্বিক ব্যবস্থাপনার জন্য গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটিতে প্রধান উপদেষ্টা করা হয়েছে সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল এমপিকে।

এদিকে গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধির কারণে দ্রুত খুলনাকে মহামারি এলাকা ঘোষণা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়ে বৃহত্তর আমরা খুলনাবাসীর নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, খুলনায় ডেঙ্গুর ভয়াবহতার ফলে খুমেক ও জেনারেল হাসপাতালে শর্যা না পেয়ে রুগিরা ফ্লোরে, বারান্দায়, সিড়ির করিডরে, চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন। বেসরকারি ক্লিনিক হাসপাতালে রুগিদের চাপ অব্যাহত থাকায় রুগি ও তার স্বজনদের আর্থিক ভোগান্তি হতে মুক্তি পেতে সকল সরকারি ও বেসরকারি ক্লিনিক হাসপাতাল গুলিতে বিনামূল্যে রক্ত পরীক্ষা, প্লাটিলেট সরবরাহ ও সুচিকিৎসার দাবি জানান তারা।

বিবৃতিদাতারা হলেন, বৃহত্তর আমরা খুলনাবাসীর সভাপতি ডাঃ মোঃ নাসির উদ্দীন, সহ সভাপতি মাজেদা খাতুন, ডাঃ সৈয়দ মোসাদ্দেক হোসেন বাবলু, মোঃ জামাল মোড়ল, মোঃ সিরাজ উদ্দিন সেন্টু, অধ্যক্ষ এস এম সাইফুদ্দোহা, তালুকদার মোঃ হেলালুজ্জামান, মোঃ কামরুল ইসলাম কামু, সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান খোকন, শেখ মোহাম্মদ আলী, শেখ মনিরুজ্জামান এলু, মোঃ কামরুল ইসলাম ভুট্টো, জিএম মইন উদ্দিন, মোঃ রাসেল শেখ, কাওসারি জাহান মন্জু মোঃ সাকিল আহমেদ রাজা প্রমুখ।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন