বেড়েছে মুরগির দাম, নিম্নবিত্তদের ভরসা চামড়া, গিলা ও কলিজা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রোটিনের সবচেয়ে সস্তা উৎস ব্রয়লার মুরগী। গত এক সপ্তাহ আগে বেড়েছে ব্রয়লার মুরগীর দাম। দাম বৃদ্ধির কারণে নিম্ন আয়ের অনেকে ঝুঁকছেন মুরগীর গলা, গিলা, কলিজা ও পা কেনার দিকে।

খুলনার কয়েকটি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিকেজি ব্রয়লার এখন ১৭০ টাকা, লেয়ার সাদা ২৫০ টাকা এবং সোনালী ২৪০ টাকায় বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। প্রতি কেজিতে বৃদ্ধি পেয়েছে ২০ টাকা।

নগরীর কয়েকটি বাজারে গত দু-তিন বছর ধরে বিক্রি হয় ব্রয়লার এবং সোনালী মুরগির গলা, গিলা, কলিজা এবং পা। আর সেখানে ভিড় করছেন নগরীতে বসবাসরত নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ।

মিস্ত্রীপাড়া বাজারে কথা হয় শিউলী বেগমের সাথে। তার স্বামী একজন দিন মজুর। প্রতিদিন আয় করেন ৪০০ টাকা। ঘরভাড়া ও অনুসঙ্গিক খরচের কারণে সঞ্চয় বলতে কিছুই থাকে না। তাছাড়া অনেকদিন ভালমন্দও খাওয়া হয় না তাদের। এদিন তিনি বাজার-সদায় শেষে যান মুরগির গিলা, গলা, কলিজা এবং পা কেনার জন্য (সেট)। প্রতি কেজি সেটের দাম গত একমাস আগেও ১০০ টাকা ছিল। বর্তমানে সেটির দাম বাড়িয়ে ১২০ টাকায় বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। সেটা কেনার জন্য বাকযুদ্ধ বাঁধে তাদের মধ্যে। পরে ১১০ টাকায় বিক্রি করেন ওই ব্যবসায়ী।

তিনি এ প্রতিবেদককে আরও বলেন, “গত এক বছরের অধিক সময় ধরে মুরগি এবং গরুর মাংস ভাগ্যে জোটে না। গরুর মাংসের দাম বর্তমানে ৭৫০ টাকা। যা আমাদের মত গরীব মানুষের পক্ষে কিনে খাওয়া সম্ভব না।”

কথা হয় রিকশা চালক হামিদ আলীর সাথে। তিনি বলেন, “আগে কখনো গিলা-কলিজা কিনতাম না। মুরগির দাম বেড়ে যাওয়ায় মুরগির স্বাদ এখন গিলা-কলিজা দিয়ে পূরণ করছি।”

সাধারণ ক্রেতারা বলেন, “বর্তমানে শাক সবজিসহ তরি-তরকারির দাম নিম্নমূখি হলেও মাছ, মাংসসহ অন্যান্য পণ্য উর্ধমুখী। এতে এক ধরণের অর্থনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে। বাজারের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ভোক্তা অধিকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের খুব একটা তদারকিমূলক অভিযান নেই।”

ওই বাজারের গিলা-কলিজা ব্যবসায়ী ইয়াসিন হাওলাদার বলেন, “গত কয়েক বছর ধরে এ ব্যাবসা করে আসছি। করোনার পর থেকে নিম্ন আয়ের মানুষের মুরগির সেটের প্রতি চাহিদা বেড়েছে। প্রতিদিন একশ’ থেকে দেড়শ’ মুরগীর সেট বিক্রি করেন তিনি।”

 

খুলনা গেজেট/এইচ




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন