নেপথ্যে আধিপত্য বিস্তার ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ

শলুয়ায় এমদাদুল হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার নেই গুলিবিদ্ধ দেবাশীষের অবস্থা সংকটাপন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক ও উত্তর ডুমুরিয়া প্রতিনিধি

খুলনা মহানগরীর আড়ংঘাটা থানাধীন শলুয়া বাজারে এমদাদুল হক মিলন হত্যা ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। দায়ের হয়নি মামলা। তবে আধিপত্য বিস্তার, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধসহ ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় নামাজে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়েছে। হামলায় আহত অপর দেবাশীষ বিশ্বাস খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তবে পুলিশ এলাকায় আধিপত্য বিস্তার এবং এলাকার একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের কার্যক্রমের নজরে রেখে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।

গত বৃহস্পতিবার রাত ৯ টার দিকে শালুয়া বাজারে বসে চা খাচ্ছিলেন এমদাদুল হক মিলন। এ সময় দুটি মোটরসাইকেলযোগে ৪ জন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী শলুয়া বাজারে এসে ২ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে মিলনের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করলে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। এ সময় সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলিতে স্থানীয় পশু চিকিৎসক দেবাশীষ বিশ্বাস আহত হন। স্থানীয়রা তাকে চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। তার অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন।

স্থানীয়রা জানায়, “নিহত এমদাদুল হক মিলন শলুয়া বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি একটি নিউজ পোর্টলে কাজও কারতেন। তবে অধিকাংশ স্থানীয়রা নাম বলতে পারেনি। তিনি প্রতিবাদী স্বভাবের ছিলেন যেটি তার জীবনের কাল হয়ে দাঁড়ায়।”

স্থানীয়রা আরও জানায়, গত ৪-৫ মাস পূর্বে তার ওপর সন্ত্রাসী হামলা হয়েছিল। সেবার তিনি প্রাণে বেচে গিয়েছিলেন। এ ঘটনায় এলাকাবাসী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে মানববন্ধন করেছিল।

ওই এলাকার একটি সূত্র জানায়, “সুজন সরকার নামে এক সন্ত্রাসীর সাথে তার বিরোধ ছিল। ওই সন্ত্রাসী পূর্বে হত্যার লক্ষ্যে তার উপর হামলা চালিয়েছিল। হত্যাকাণ্ডের সাথে তার সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে ওই সূত্রটির দাবি।”

আড়ংঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ শাহাজাহান আহমেদ জানান, “এ ঘটনায় পুলিশ এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। ময়না তদন্ত শেষ হওয়ার পর বাদ মাগরিব তার মরদেহ দাফন করা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কেউ থানায় মামলা দায়ের করতে আসেনি। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। সেখানে কাউকে শনাক্ত বা মোটরসাইকেলের নম্বর শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া স্থানীয়রা হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে মুখ খুলছে না।”

কেএমপি উপ পুলিশ কমিশনার (উত্তর) সুদর্শন রায় বলেন, “ইমদাদুল হক মিলন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ ঘেরের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ ও এলাকাভিত্তিক পূর্বশত্রুতার জেরসহ তিন-চারটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। আশা করছি, দ্রুত এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনসহ খুনীদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।”

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন