পে স্কেল বাড়ছে, সুবিধা পাবেন কোচ-ক্রীড়াবিদরাও

ক্রীড়া প্রতিবেদক

১১ বছর পর জাতীয় বেতন স্কেল বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকারি চাকুরিজীবীদের বেতন এতে বাড়ছে। প্রশাসনিক আমলারা এর মূল সুবিধাভোগী হলেও ক্রীড়াঙ্গনেও অনেক কোচ, সাবেক ও বর্তমান ক্রীড়াবিদরা এর আওতায় পড়ছেন।

ক্রীড়াঙ্গনের মূল অভিভাবক সংস্থা যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, বিকেএসপি, ক্রীড়া পরিদপ্তর, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর। ক্রীড়া পরিষদ, বিকেএসপি ও ক্রীড়া পরিদপ্তরে সাবেক ক্রীড়াবিদরা কেউ কোচ, কেউ অফিসার পদে কাজ করছেন। তারা সবাই পে স্কেলের আওতায় থাকায় বেতন বৃদ্ধির সুফল ভোগ করবেন।

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের সূতিকাগার বিকেএসপি। সেখানে খেলোয়াড়দের তৈরি করার কারিগর কোচদের বেতন ছিল কম। যেখানে বিসিবি কিংবা বাফুফের কোচরা মোটা বেতনে কাজ করতেন সেখানে সরকারি নিয়মে বিকেএসপির কোচদের মাস চলতেই কষ্ট হতো।

১১ বছর পর পে স্কেল হওয়ায় খানিকটা তৃপ্তিতে বিকেএসপির উপ পরিচালক ও বিশিষ্ট ক্রিকেট কোচ মন্টু দত্ত, এটা অনেক দিনেরই দাবি ছিল পেশাজীবী সমাজের। অবশেষে সেটা বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে। বিকেএসপির কোচ ও অন্যরাও এর সুবিধা পাবেন। বিশেষ করে কোচদের পিছু টান কিছুটা কমবে।

সাবেক শুটার আল আমিন সবুজ ক্রীড়া পরিদপ্তরের অধীনে জেলা ক্রীড়া অফিসার। একটি জেলার সামগ্রিক দিক দেখার পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে ক্রীড়া অফিসারদের কাজ।

পে স্কেলের এই সিদ্ধান্ত ক্রীড়াবিদদের পরবর্তী জীবনেও ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে থাকার সুযোগ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন তিনি, খেলাধূলা শেষে যখন একজন ক্রীড়াবিদ দেখবে ক্রীড়া অফিসার কিংবা কোচ হলে ভালো বেতন পাওয়া যায় তখন অবশ্যই তারা এই পেশায় আসবে। এতে ক্রীড়াঙ্গনের মান অনেক বৃদ্ধি পাবে।

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অধীনে দেশের সকল ফেডারেশন ও ক্রীড়া স্থাপনা। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অধীনে কয়েকটি খেলায় দশের অধিক কোচ রয়েছেন।

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক প্রশাসন টিটন ক্ষীসা বলেন, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অধীনে কোচরাও পে স্কেলের অধীনে বেতন ভাতাদি সুবিধা পাবেন।

আন্তর্জাতিক মাস্টার ও দাবা কোচ আবু সুফিয়ান শাকিল বলেন, এটা আমাদের কোচদের জন্য খানিকটা স্বস্তির খবর। কোচরা ভালো থাকলে আরো ভালো মানের ক্রীড়াবিদ উঠে আসবে।

ফুটবল, ক্রিকেটের বাইরে অন্য খেলার অধিকাংশ খেলোয়াড়রা পুলিশ, আনসার, নৌবাহিনী, সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন সার্ভিস সংস্থায় যুক্ত। সার্ভিসেস সংস্থায় কর্মরত স্থায়ী ক্রীড়াবিদরাও এই সুবিধার আওতায় রয়েছেন। এসএ গেমসে রেকর্ড জয়ী সাঁতারু মাহফুজা খাতুন শিলা নৌবাহিনীতে কোচ হিসেবে কর্মরত।

তিনি পে স্কেল বৃদ্ধি নিয়ে বলেন, ফুটবল, ক্রিকেট ছাড়া অন্য সব খেলার খেলোয়াড়রা সার্ভিসেস বাহিনীর উপর নির্ভরশীল। ৮০-৮৫ ভাগ খেলোয়াড়রা ডিফেন্সের সঙ্গে যুক্ত থাকায় ক্রীড়াঙ্গনে এই পে স্কেল বৃদ্ধির ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তরুণ প্রজন্মের অনেকেই ক্রীড়াঙ্গনের প্রতি আকৃষ্ট হবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সফলতা বাড়বে অনেক।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন