নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রয়োজনীয়তা আজ আর কেউই অস্বীকার করে না। সরকারও নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবস্থায় এগিয়ে যেতে কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ২০২৭ সালের মধ্যে সরকারি স্থাপনার ছাদ হতে সোলার ফেটোভোল্টাইক প্রক্রিয়ায় অন্ততঃপক্ষে ৫৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চায়। আমাদের খুলনা শহরেও এ লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গৃহীত হতে চলেছে।
তবে, সোলার বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার দিক দিয়ে খুলনা এক ধাপ এগিয়ে আছে, তা হচ্ছে খুলনার সোনাডাঙ্গায় একটি সোলার পার্ক আছে, যেখানে ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ তৈরির অবকাঠামো রয়েছে। দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, সোলার পার্কের বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ আছে। এ কারণে ইচ্ছে করলেই এটি চালু করা যাবে না, বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। প্রকৃতপক্ষে, সোনাডাঙ্গা সোলার পার্কটি একটি ট্রেনিং সেন্টার হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা ছিল, যা হয়নি। এখন সময় এসেছে, জ্বালানি সার্বভৌমত্ব অর্জন তথা জ্বালানি রূপান্তরের লক্ষ্যে খুলনাকে একটি জ্বালানি বান্ধব নগর হিসেবে গড়ে তোলার। এতে এই পার্কটিকে প্রশিক্ষণকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা গেলে এই খাতে প্রয়োজনীয় জনবল জোগানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
আমরা যদি খুলনা শহরের বর্তমান জ্বালানি বাস্তবতাটি একটু পর্যালোচনা করি, তাহলে দেখবো, খুলনা শহরে দিনে সর্বোচ্চ বিদ্যুতের চাহিদা ১৬১ মেগাওয়াট। ওজোপাডিকো একমাত্র প্রতিষ্ঠান যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে থাকে। ওজোপাডিকো’র পরিচালন তথ্য অনুযায়ী, তীব্র গরমের সময় খুলনা শহরে দিনের সর্বোচ্চ বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৮০ মেগাওয়াট-ঘণ্টা পর্যন্ত উঠে থাকে। ওজোপাডিকো তার আওতাধীন এলাকায় (খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ১৬ জেলা এবং ঢাকা বিভাগের বৃহত্তর ফরিদপুরের পাঁচ জেলা; মোট ২১ জেলা) মোট প্রায় ১৩ হাজার গিগাওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিক্রি করে। এরমধ্যে একমাত্র খুলনা শহরে ব্যবহৃত হয় দুই হাজার ২৩৭ গিগাওয়াট-ঘণ্টা। প্রকৃতপক্ষে, এটি এই সংস্থার আওতাধীন বৃহত্তম ব্যবহার ক্ষেত্র। গরমের সময় জাতীয় গ্রিড হতে চাহিদামতো বিদ্যুৎ না পাওয়ায় ওজোপাডিকো শুধু খুলনা শহরেই ৪৫ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং করতে বাধ্য হয়, যাতে স্থানীয় জীবিকা ও শিল্প কার্যকলাপ প্রায় অচল হয়ে পড়ে।
এবারে, খুলনার বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো একনজরে একটু দেখার চেষ্টা করি। ঋণের টাকায় এই শহরে আমরা অনেকগুলো বিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ে তুলেছি। যা আমাদেরকে পরিবেশগত বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছে। বলাইবাহুল্য, এগুলো সবই জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক এবং কেন্দ্রীভূত গ্রিড ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। মনে রাখা দরকার যে, জ্বালানি খাত হচ্ছে, সেই খাত যা পরিবেশগত ধ্বংসের দিকে নিয়ে যেতে পারে, আবার অর্থনীতিকে চরম ঝাঁকুনি দিতে পারে। এই যেমন ১২ ও ১৩ আগস্ট ২০২৬ এ আমরা সর্বোচ্চ লোডশেডিং দেখলাম। এলএনজি আমদানিতে ভাটা পড়ায় (বৈদেশিক মুদ্রার অভাবে) এবং ব্যবস্থাপনা সংকটে আমরা এই সংকটের মুখোমুখি হলাম। অবশ্য, একটি কোম্পানির হাতে ব্যবস্থাপনা থাকায় পরিস্থিতি আরও বেশী জটিল হয়ে পড়েছে। সামিট এবং আমেরিকান কোম্পানি একক্সিলেটর আমাদের বিদ্যুৎব্যবস্থাকে একেবারে কুক্ষিগত করে ফেলেছে; তাই তারা আমাদেরকে ধাক্কা দিতে পেরেছে।
নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড (ঘডচএঈখ)-এর পৃষ্ঠপোষকতায়, প্রধানত এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (অউই) এবং ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (ওঝউই)-এর ঋণের মাধ্যমে ৯ হাজার ৬২২ কোটি ১৮ লাখ টাকায় (১,১৩৮.৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) খুলনা শহরে নির্মিত সর্বশেষ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি হচ্ছে, রূপসা ৮০০ মেগাওয়াট এলএনজি বিদ্যুৎ কেন্দ্র। যা, ২০২৪ সালের শুরু থেকে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় অবস্থায় পড়ে আছে, কারণ কেন্দ্রটি চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাসের কোনো সরবরাহ নেই। এমনকি, নিকট ভবিষ্যতে, গ্যাস পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। যখন এটি প্রতিষ্ঠা করা হয়, তখনও গ্যাস পাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা ছিল না। তারপরও আমরা এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুললাম।
এছাড়াও খুলনায় আরও পাঁচটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র রয়েছে। এগুলো হচ্ছে, গ্যাস ও ডিজেল চালিত ৩৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র। যেটি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) পরিচালনা করে। এটির মূলধন ব্যয় চার হাজার ৯১০ কোটি টাকা বা চার শ’ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এটি হতে বর্তমানে খুবই স্বল্প মাত্রায় বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। গ্যাস ও ডিজেল চালিত আর একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র হচ্ছে : খুলনা ২২৫ মেগাওয়াট (এনডব্লিউপিজিসিএল) বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এর মূলধন মূল্য ২৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা দুই হাজার ৮৮৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এটি হতেও স্বল্প মাত্রায় বিদ্যুৎ পাওয়া যায়।
বেসরকারি ওরিয়ন কোম্পানির ১০৫ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষম বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মূলধন মূল্য ৭৫ দশমিক ১৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৬২৪ কোটি টাকা। এটিও স্বল্পমাত্রায় চালু রয়েছে। এর প্রধান জ্বালানি এইচএফও বা ফার্নেস অয়েল। কেপিসিএল নামের ১১০ মেগাওয়াট বার্জ মাউন্টেড পাওয়ার প্ল্যান্ট (ইউনিট ১) ও এইচএফও দ্বারা চালিত। এর মূললধন মূল্য ৯৬ দশমিক ০৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা এক হাজার ১৭৯ কোটি ২৬ লাখ টাকা। এটি আর কার্যকর (উৎপাদনক্ষম) নেই। কয়েকবার সম্প্রসারণের পর বন্ধ করে বিক্রির জন্যে রেখে দেওয়া হয়েছে। আরও আছে খুলনা ১১৫ মেগাওয়াট (কেপিসিএল) এইচএফও বিদ্যুৎকেন্দ্র (ইউনিট-২)। যার মূলধন মূল্য ৭৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৯২০ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। ২০২৫ সালে এটিও অবসরে গিয়েছে। এখন বিক্রি করা হবে।
একইভাবে, এনডব্লিউপিজিসিএল-এর পৃষ্ঠপোষকতায় এবং ২৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণে ২০১৩-১৪ সালে চালু হওয়া খুলনা ২২৫ মেগাওয়াট ডুয়াল-ফুয়েল বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি, ব্যয়বহুল আমদানিকৃত হাই-স্পিড ডিজেল (এইচএসডি) ব্যবহার করে স্বল্প-ক্ষমতায় পরিচালনা করা হয়। ২০১৯-২০ সালে, এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্ল্যান্ট লোড ফ্যাক্টর (পিএলএফ) শূন্য দশমিক তিন শতাংশে (০.৩%) নেমে আসে, যার ফলে প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে অযৌক্তিকভাবে ৫৩৩ টাকা খরচ হয়। এর ফলে ১১ বছরে এই কেন্দ্রকে ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ এক হাজার ৮২৪ কোটি টাকা (১৪৮.৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) পরিশোধ করতে হয়।
অর্থনৈতিক বিবেচনায় খুলনা অঞ্চলটি বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতার সমস্যায় ভুগছে। যেখানে খুলনা, সাতক্ষীরা এবং বাগেরহাট জেলার সম্মিলিত সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা মাত্র ২৩০ মেগাওয়াট, সেখানে খুলনা অঞ্চলে স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২,৭৫০ মেগাওয়াটেরও বেশি। এই অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা সরকারি তহবিলের অর্থ অপচয়ের বা বেসরকারি বিদ্যুৎ ব্যবসায়ীকে ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধের নামে তাদের পকেটে যাওয়ার রাস্তা তৈরি করে দেয়। এইভাবে ২০০৯ সাল থেকে ক্যাপাসিটি চার্জ-এর নামে এক লাখ ৭৮ হাজার ১৯৯ কোটি টাকা (১৮.৫৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বেসরকারি মালিকদের পকেটে গিয়েছে। এটি নিয়মের কোনো ব্যত্যয় নয়। কারণ, চুক্তি অনুযায়ী বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র হতে সরকার বিদ্যুৎ কিনতে বাধ্য। যদি সরকারের বিদ্যুতের প্রয়োজন না হয়, তাহলে ওই কেন্দ্রকে বলা হয়, তুমি বিদ্যুৎ তৈরি করবে না, অলসভাবে বসে থাকবে। কিন্তু ওতো বিদ্যুৎ তৈরি করতে পারতো, তাই ওই বিদ্যুতের দাম সরকারকে পরিশোধ করতে হয়।
আমরা যদি জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক এই উৎপাদন ব্যবস্থা হতে সরে এসে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে যাই, তাহলে বেসরকারি উদ্যোক্তাদেরকে বসিয়ে রেখে বিদ্যুতের দাম পরিশোধ করা বা ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ করতে হবে না। উপরন্তু, প্রতি মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানির খরচ বছরে প্রায় ৩ কোটি টাকা (০.২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) সাশ্যয় করতে পারে। বলাইবাহুল্য, জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে সৌর-বিদ্যুৎ একটি কার্যকর বিকল্প।
জলবায়ু পরিবর্তন এবং অর্থনৈতিক বিবেচনা – উভয় দিক থেকেই খুলনা শহরের জন্য নবায়নযোগ্য শক্তিতে রূপান্তর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মনে রাখতে হবে, খুলনা শহর হচ্ছে – ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের নগর প্রবেশদ্বার। যে বনটি জীবাশ্ম জ¦ালানিভিত্তিক – রামপাল কয়লা-চালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র হতে নির্গত ক্ষতিকর গ্যাস হতে মারাত্মক পরিবেশগত ঝুকির সম্মুখীন হয়েছে। এই ম্যানগ্রোভ বাস্তুতন্ত্র, যা ঘূর্ণিঝড় এবং বন্যার বিরুদ্ধে প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে আমাদের রক্ষাকবচের মতো কাজ করে, তা এখন গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমন, সালফার ডাইঅক্সাইড এবং অ্যাসিড বৃষ্টির মতো ভয়াবহ হুমকির সম্মুখীন।
খুলনাকে সবুজ বা নবায়নযোগ্য জ্বালানি বান্ধব নগর হিসেবে গড়ে তোলার জন্য আমাদের চোখের সামনে থাকা অবকাঠামোটিকে কাজে লাগিয়ে আমরা শুরু করতে পারি। কারণ, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সিটি কর্পোরেশনের স্থাপনাসমূহে সোলার বিদ্যুৎ স্থাপন করতে হবে। এজন্যে স্থানীয়ভাবে দক্ষ জনশক্তিরও প্রয়োজন হবে। খুলনার সোনাডাঙ্গা সোলার পার্ক দক্ষ মানবশক্তি গড়ে তোলার উপযুক্ত স্থান হতে পারে। উপরন্তু ওই পার্কের অব্যবহৃত জায়গা ব্যবহার করে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব।
খুলনা সোলার এনার্জি পার্কটিতে রয়েছে চার দশমিক ৩৩ একর জায়গা। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্লিন-এর হিসাব বলছে, সোনাডাঙ্গা সোলার পার্কটি যথাযথ ব্যবহারের জন্য এর অব্যবহৃত ছাদ, হাঁটার রাস্তা (ওয়াকওয়ে) এবং পুকুরের অন্তত : ত্রিশ শতাংশ জায়গা ব্যবহার করা সম্ভব। পুকুরের জায়গায় ৩১০ কিলোওয়াট ভাসমান সোলার প্যানেল স্থাপন করা সম্ভব। এছাড়া ছাদে ৩৫ কিলোওয়াট এবং হাঁটার পথে খুঁটির সাহায্যে (পোল-মাউন্টেড) ৩৬ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। অর্থাৎ সোলার পার্ক এলাকায় মোট ৩৮১ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। যা থেকে আমরা বছরে ৬ লাখ ৯১৭ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ পেতে পারি। আর প্রকল্পটির ২০ বছরের জীবনকালে এক কোটি ২০ লাখ ১৮ হাজার ৩৩৩ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া সম্ভব।
এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি স্থাপনে ব্যয় হতে পারে মোট দুই কোটি ২৩ লাখ টাকা। যার মধ্যে পুকুরের অংশে ভাসমান বিদ্যুতের জন্য এক কোটি ৮৬ লাখ টাকা, হাঁটাপথে পোল-মাউন্টেড বিদ্যুতের জন্য ১৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং ছাদভিত্তিক বিদ্যুতের জন্য ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার প্রয়োজন। সার্বিক ব্যবস্থাপনার জন্য তিনজন দক্ষ কর্মী (একজন প্রকৌশলী ও দু’জন সহকারী) প্রয়োজন হবে। এতে বছরে মোট পরিচালন ব্যয় হবে ১৬ কোটি ১৩ লাখ টাকা। পাঁচ বছরে সিটি কর্পোরেশনের বিনিয়োগ উসুল হয়ে যাবে। বাকি ১৫ বছর সিটি কর্পোরেশন বিনামূল্যে বিদ্যুৎ পেতে পারে। কারণ, বিশ বছর পর প্যানেল পরিবর্তন করার প্রয়োজন হবে।
সিটি কর্পোরেশন বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার জন্য নিজে বিনিয়োগ না করে ক্যাপেক্স (ক্যাপিট্যাল এক্সপেন্ডিচার) মডেলে যাওয়ার চেষ্টা করতে পারে। তবে, এত ছোট আকারের একটি স্থাপনার জন্য কোনো কোম্পানি বিনিয়োগ নাও করতে চাইতে পারে। তাই, এখানে ওপেক্স (অপারেশন এক্সপেন্ডিচার) মডেলে যেতে হবে, যেখানে সিটি কর্পোরেশন বিনিয়োগ করবে এবং একটি কোম্পানি এটার ব্যবস্থাপনা করবে। এর মধ্য দিয়ে প্রতি কিলোওয়াট-আওয়ার (ইউনিট) বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সিটি কর্পোরেশন ওই কোম্পানিকে দেড় হতে আড়াই টাকা ব্যবস্থাপনা খরচ দেবে। বছরে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা আয় করতে পারলে ভালো কোম্পানি আসবে। এতে সিটি কর্পোরেশনের দায় কমে যাবে।
এছাড়া সরকারের অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে প্রশিক্ষণকেন্দ্রটি আধুনিকায়ন করে গড়ে তোলা যেতে পারে। প্রশিক্ষণকেন্দ্রের যন্ত্রপাতির অবস্থা, পর্যাপ্ত টু-কিট আছে কি-না, এটা যাচাই করে ছোট ছোট প্রশিক্ষণ প্যাকেজ করা যেতে পারে, যাতে ৭ থেকে ১৫ দিনের প্রশিক্ষণ নিয়ে যে-কেউ ব্যবসা বা পেশায় যেতে পারে। টাকার বিনিময়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে প্রশিক্ষণ বিক্রি করা, প্রশিক্ষণকেন্দ্র ভাড়া দেওয়া, যুব উন্নয়ন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর ও সমবায় অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণগুলোর কনট্র্যাক্ট নেওয়া, সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ডগুলো থেকে কাউন্সিলের মাধ্যমে তরুণদের জন্য দক্ষতা-বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা প্রভৃতির আয়োজন করে এটি কার্যকরভাবে চালু করা সম্ভব। বলাই বাহুল্য, প্রশিক্ষণকেন্দ্রের জনপ্রিয়তা বাড়লে আয়ও বাড়বে।
বলাই বাহুল্য যে, সোলার পার্কটির উন্নয়ন ও এর বিস্তার ঘটিয়ে নগরবাসী তথা দেশকে নবায়নযোগ্য জ¦ালানিমুখী করার ক্ষেত্রে খুলনা উদাহরণ সৃষ্টি করতে পারে। আমরা কী এই সুযোগটি কাজে লাগাতে পারি না?
গৌরাঙ্গ নন্দী : সিনিয়র সাংবাদিক; এবং পরিবেশ বিষয়ক প্রতিষ্ঠান সিইপিআর-এর চেয়ারম্যান।
হাসান মেহেদী : পরিবেশ বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ক্লিন-এর প্রধান নির্বাহী।
খুলনা গেজেট/এনএম

