বাংলাদেশ সরকার বলতে গেলে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা হচ্ছে, পারিবারিক উদ্যোগে স্থাপিত সোলার প্যানেল বা রুফটপ সোলার হতে উৎপাদিত বাড়তি বিদ্যুৎ কিনে নেবে। এ কারণে সরকার সাড়ে দশ টাকা ইউনিট প্রতি দাম দেবে। এই বিশেষ প্রণোদনাটি ১লা সেপ্টেম্বর ২০২৬ হতে কার্যকর করা হয়েছে। গ্রিডে দেওয়া অতিরিক্ত বিদ্যুতের দাম সরাসরি গ্রাহকের ব্যাংক বা মোবাইল আর্থিক সেবার (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে জমা হবে। তবে, অবশ্যই, সোলার প্যানেল, ব্যাটারি ও ইনভার্টার প্রভৃতি বিএসটিআই এবং স্রেডা-র নির্ধারিত কারিগরি মান বজায় রাখতে হবে।
অন্যদিকে, প্রথমবারের মতো শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সাধারণ বাণিজ্যিক আমদানিকারকেরাও নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে মাত্র ১ শতাংশ শুল্কে সোলার সামগ্রী আমদানি করতে পারবেন। এর আগে তাদের ক্ষেত্রে ২৩ শতাংশ থেকে ৬৪ শতাংশ শুল্ক বলবৎ ছিল। অবশ্য, এই বিশেষ শুল্কছাড়ের সুবিধা প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে পরবর্তী ১৮০ দিন (৬ মাস) পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। এছাড়াও সরকার ১,৫০০ কোটি টাকার (১২৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) একটি বিশেষ তহবিল বা ঋণ প্যাকেজ চলতি সেপ্টেম্বর ২০২৬ মাসেই গঠন করেছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এই ঋণের সুদের হার হবে ৬ শতাংশ। দশ বছর মেয়াদে এই ঋণ দেওয়া হবে। এবং ঋণ বিতরণ করবে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল), বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেড (বিআইএফএফএল) এবং পল্লি কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)।
আপাত : দৃষ্টিতে এগুলো বেশ ভালো ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তবে অনেকগুলো ‘কিন্তু’ আছে।
এর প্রথম ‘কিন্তু’ হচ্ছে, ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যেসব সোলার সিস্টেম স্থাপন করা হবে, শুধু তারাই বিদ্যুৎ বিক্রি করার সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে। দ্বিতীয় ‘কিন্তু’ হচ্ছে, এই প্রণোদনা তিন বছর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। অর্থাৎ সরকার মাত্র তিন বছর এই বিদ্যুৎ কিনবে। তৃতীয় ‘কিন্তু’ হচ্ছে, বর্ণিত তিনটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পিকেএসএফ এনজিওদের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ঋণ ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা করে থাকে। তারা কী অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সোলার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ঋণ বিতরণ করতে পারবে? ইডকল ও বিআইএফএফএল সাধারণ গ্রাহকের কাছে এখনও পরিচিত নয়। চতুর্থ ‘কিন্তু’ হচ্ছে, সোলার উপকরণের শুল্ক মাত্র ছয় মাসের জন্য কেন কমানো হলো?
আমরা যদি দ্বিতীয় ‘কিন্তু’ দিয়ে আলোচনা শুরু করি, তাহলে প্রথম যে প্রশ্নটি আসে, তা হচ্ছে : তিন বছর পর এই প্রণোদনা থাকবে না, তার মানে উদ্যোক্তার কী তখন অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে না! যদি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়, তবে তিনি তখন সেই বিদ্যুৎ কী করবেন? তিন বছর পর উৎপাদিত পণ্যের বিক্রির কোন ব্যবস্থা নেই দেখে কী, কেউ বিনিয়োগ করবেন? মনে হয় না।
আবার, ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যে সব সোলার সিস্টেম স্থাপিত হবে, তারাই এই সুযোগ পাবেন।
আজ থেকেই যদি কেউ উদ্যোগী হন, তাহলেও রুফটপ সোলার স্থাপনে এই ছয় মাস সময় যথেষ্ট নয়। পরিকল্পনা, পুঁজি জোগাড়, কোম্পানি নির্বাচন, পণ্যের মান যাচাইয়ে বিএসটিআই ও শ্রেডা’র অনুমোদন পাওয়া কোনোটাই সহজসাধ্য নয় এবং বলাইবাহুল্য, সময়সাপেক্ষ। সেক্ষেত্রে অতি করিতকর্মা দু-একজন লক্ষ্যভেদ করতে পারলেও বেশিরভাগ ইচ্ছুক উদ্যোক্তা এই সুযোগ নিতে পারবেন না। এটা যে কর্তা ব্যক্তিরা একেবারে বোঝেন না, বিষয়টি এমন নয়। মনে হয়, ইচ্ছা করেই পারিবারিক উদ্যোক্তা কার্যক্রমটি ব্যর্থ প্রমাণের জন্যই এই পরিকল্পনাটি ঘোষিত হয়েছে। কারণ, আমাদের দেশে ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ছাড়া ব্যক্তি সুবিধা পাক, তা সাধারণভাবে কেউই চায় না। বিদ্যুৎ খাতও সাধারণ মানুষের নাগালে যাক, তাও মানুষ বিবেচনা করে না। তা না হলে, যেখানে উচিত ছিল, দেশের সকল পরিবারকে তাদের প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ নিজেরা উৎপাদন করার আহ্বান জানানো, যাতে বিদ্যুতের এই সংকটে পরিবারগুলো স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারতো; তা না করে নামমাত্র প্রণোদনা ঘোষণার কী হেতু থাকতে পারে!! সরকারের ঋণদান কর্মসূচিটি কেন প্রচলিত ব্যাংক ব্যবস্থার মাধ্যমে বাস্তবায়িত করার নির্দেশনা দেওয়া গেল না! তাহলে কী ভাবতে হবে, ব্যাংকগুলোর সেই ঋণদান সক্ষমতা নেই; না-কি তারা ছোট গ্রাহকদের ঋণ দেওয়ার মতো ঝামেলা (!) পোহাতে চান না? অবশ্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি নীতিমালা আছে, যা কথার মারপ্যাঁচে বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পারছে না।
এদিকে, আমরা দিন দিন আমদানি করা এলএনজি’র ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছি। জীবাশ্ম জ্বালানি এড়াতে চাইলেও এলএনজিকে স্বাগত জানাচ্ছি। যদিও নীতিগতভাবে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি হিসেবে সোলার হবে আমাদের মূল ফোকাস। লক্ষ্য হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ৪০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি মিশ্রণ অর্জন করা। ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য দেশে বছরে প্রায় ২১ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা (প্রায় ৯৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) বিনিয়োগ প্রয়োজন। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, গত বছরেও (২০২৫) আমরা মাত্র ২৩৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করতে পেরেছি। অর্থাৎ লক্ষ্য অর্জনের জন্য আমাদের এর চেয়ে চার হতে পাঁচগুণ বেশী অর্থ বিনিয়োগ করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের টেকসই অর্থায়ন নীতি কাঠামোটি সাধারণ বা ব্যক্তি তথা পরিবার পর্যায়ে ঋণ দেওয়ার কথা বলে, কিন্তু এর বর্তমান ‘পুনঃঅর্থায়ন’ মডেল পরিবার পর্যায়ে নগদ অর্থের সরবরাহ করতে পারছে না। এই মডেলের অধীনে, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে আবেদন করার আগেই আবেদনকারীকে নিজস্ব তহবিল ব্যবহার করে প্রাথমিক ঝুঁকির একশ শতাংশ বহন করতে হয়; যা মূলধন প্রবাহের গতি কমিয়ে দেয় এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণ-দানে নিরুৎসাহিত করে।
এই ‘অর্থায়ন-পরবর্তী’ নিয়মটি, প্রকৃতপক্ষে, পারিবারিক পর্যায়ের আবেদনকারীর অর্থ প্রয়োজনের সময় তার পাশে না দাঁড়ানোর জন্য ব্যাংকগুলোকে সুযোগ করে দিচ্ছে। আবার, বর্তমান পুনঃঅর্থায়ন পুলটি প্রতিটি প্রকল্পের জন্য সর্বোচ্চ ৩০ কোটি টাকার ঋণসীমা নির্ধারণ করে রেখেছে, যা বড় পরিসরের (ইউটিলিটি-স্কেল পার্ক) জন্য বেশ কম, কিন্তু ব্যক্তিগত পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য অনেক বেশী। অবশ্য, পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীকে আরও নানাবিধ শর্ত পূরণ করতে হয়। এরমধ্যে অন্যতম হচ্ছে, পরিবেশগত ছাড়পত্র; যা পেতে বেশ ঝক্কি পোহাতে হয়।
সর্বোপরি, গৃহস্থালি উদ্যোক্তার জ্বালানি খাতকে নিরাপদ করতে চাইলে ব্যাংকিং খাতকে সম্পত্তি-ভিত্তিক ঋণদান পদ্ধতির পরিবর্তে কর্মসম্পাদন-ভিত্তিক ঋণদান পদ্ধতিতে যেতে হবে। যাতে জামানতের দেয়াল উঠে যায়। মনে রাখা দরকার যে, আইএমএফ-এর পরামর্শে সরকার জীবাশ্ম জ্বালানির ভর্তুকি অপসারণ করার লক্ষ্যে খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের মূল্য ১৬.৬৮ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে। এতে বাণিজ্যিক বিদ্যুতের দর সর্বোচ্চ ইউনিট প্রতি ১১ দশমিক ৫৬ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। যেখানে রুফটপ সোলার থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ ইউনিট প্রতি মাত্র সাড়ে তিন টাকা হতে চার টাকা। এই ‘শুল্ক ব্যবধান’ ব্যক্তি তথা পারিবারিক পর্যায়ে সৌরশক্তির প্রতি আগের চেয়ে অনেক বেশি আগ্রহী করে তুলেছে।
উপরন্তু, গ্রিড-এর বিদ্যুৎ ব্যবহার করলে ৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়। বিপরীতে নিজস্বভাবে উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ করমুক্ত। শিল্প ব্যবহারকারীদের জন্য প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য ১১ দশমিক ৫৬ টাকার সঙ্গে ভ্যাটসহ তা ১২ দশমিক ১৪ টাকায় পৌঁছায়। সৌরশক্তি বেছে নিলে গ্রাহকরা এই কর হতে রেহাই পান, যা ব্যবহার করে তার ঋণ পরিশোধের সময়সীমা ৪ থেকে ৬ মাস কমিয়ে ফেলতে পারে।
এক্ষেত্রে পারিবারিক উদ্যোক্তাদের প্রণোদনা দেয়াটা খুবই ভালো পদক্ষেপ। তবে, প্রণোদনার এই ফাঁক-ফোকর বন্ধ করতে হবে। পরিবারগুলোকে বিদ্যুতে ক্ষমতায়িত করার জন্য সরকারের আরও সহজতর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। এক্ষেত্রে একটি বিকেন্দ্রীভূত, পরিবার-চালিত মডেল গ্রহণ করা উচিত। এর প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে সরকার সোলার উপকরণের ওপর আমদানি শুল্ক মাত্র এক শতাংশে নামিয়ে এনেছে। তবে, বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য সারা বছরের বিদ্যুৎ কেনার নিশ্চয়তা দিলেও সাম্প্রতিক ঘোষিত প্রণোদনায় মাত্র তিন বছর বাড়তি বিদ্যুৎ কেনার কথা বলা হয়েছে। এটি বড় উদ্যোক্তা ও ছোট উদ্যোক্তার মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি করে। স্বাভাবিকভাবেই পারিবারিক উদ্যোক্তাদের পুঁজি বিনিয়োগে দুর্বলতা থাকে, ব্যাংক ব্যবস্থায় অর্থায়নের মাধ্যমে ব্যক্তি-উদ্যোক্তার এই দুর্বলতা কাটিয়ে তোলা জরুরি।
পারিবারিক উদ্যোগ বৃদ্ধি এবং উৎসাহিত করতে পাঁচটি নীতিগত সহায়তা গ্রহণ করা আবশ্যক। এগুলো হচ্ছে : এক, বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঝুঁকি কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক একটি তহবিল গঠন করা; যা ব্যাংকের ক্ষতি পোষাতে সহায়তা করবে এবং জমির জামানতের প্রয়োজনীয়তা দূর করবে। দুই, সোলার উপকরণ বিক্রেতাদের কাছে অবিলম্বে অর্থ বিতরণ নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোকে অগ্রিম মূলধন বরাদ্দ করা। তিন, ব্যাংকগুলোকে ঋণ পরিশোধ করার জন্য সরাসরি ইউটিলিটি বিলের সাথে সংযুক্ত করার অনুমতি দেওয়া, যাতে সোলার থেকে সাশ্রয় হওয়া অর্থ দিয়ে ঋণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিশোধ করা যায়। যাকে পে-অ্যাজ-ইউ-সেভ মডেল বলা হচ্ছে, তা বৈধ করা। চার, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রশাসনিক খরচ কমাতে শত শত ছোট রুফটপ সিস্টেমকে একটি একক, ব্যাংকযোগ্য পোর্টফোলিওতে প্যাকেজ করার বৈধতা দেওয়া। এবং পাঁচ, আবাসিক ব্যবহারকারীদের প্রাথমিক মূলধনের বোঝা কমাতে এবং উচ্চ আমদানি শুল্ক জরিমানার প্রভাব কমাতে প্রতি কিলোওয়াট ২৫ হাজার টাকা হিসেবে সর্বোচ্চ ৩ কিলোওয়াট পর্যন্ত ৭৫ হাজার টাকা রাষ্ট্রীয় ভর্তুকি বাস্তবায়ন করা। যাতে আবাসিক গ্রাহক উৎসাহিত হতে পারে। এ কারণে বাংলাদেশ ব্যাংককে অবশ্যই ২০২৪ সালের প্রযুক্তিগত ও আর্থিক নীতিমালা/নির্দেশিকা আধুনিক ও সময়োপযোগী করতে হবে।
এই নির্দিষ্ট পদক্ষেপগুলোর বাইরে আরও কিছু বিষয় বিবেচনার জন্য রয়ে যায়; সেগুলো হচ্ছে : নেট মিটারিং ব্যবস্থা সহজ করা, সোলার ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য উপযুক্ত দক্ষ জনবল গড়ে তোলা এবং গ্রিড ব্যবস্থার সামর্থ্য ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। এছাড়াও চাহিদার সুযোগ নিয়ে যেন নিম্নমানের সোলার পণ্যে বাজার ছেয়ে গিয়ে গ্রাহক প্রতারিত হতে না পারে, সেদিকে কড়া নজরদারির ব্যবস্থা রাখা। মনে রাখা দরকার, এখনও আমাদের বিদ্যুতের মূল ব্যবহারকারী গোষ্ঠী হচ্ছে পরিবারগুলো। এখানে আমাদের মোট বিদ্যুতের ৫৮ ভাগ ব্যবহৃত হয়। এর উল্লেখযোগ্য অংশ যদি আমরা ছাদভিত্তিক সোলার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মেটাতে পারি, তাহলে আমাদের গ্যাস আমদানির জন্য বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করতে হবে না, অর্থনীতির ওপর চাপ কম পড়বে, ঋণ-নির্ভরতাও কমবে। পাশাপাশি জ্বালানি খাতকে রাষ্ট্র-পরিচালিত একচেটিয়া ব্যবস্থা থেকে একটি বিকেন্দ্রীভূত, জন-চালিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তবেই প্রণোদনা সত্যিকারভাবে মানুষের কাজে লাগবে; তা না হলে এসব উদ্যোগ কথার কথা থেকে যাবে! মানুষের আগ্রহেও ভাটা পড়বে। তখন সোলারকেই মানুষ বাঁকা চোখে দেখতে শুরু করবে।
লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক ও পরিবেশ গবেষক।