রাজধানী থেকে প্রকাশিত গণমাধ্যমে কর্মরত ঢাকার বাইরের বিভাগীয় বা জেলা-উপজেলার সাংবাদিকদের পরিচয় মফস্বল সাংবাদিক হিসেবে। ঠিক তেমনি জেলা থেকে প্রকাশিত সংবাদপত্রে অন্য জেলা বা উপজেলায় কর্মরতদের পরিচয় মফস্বল সাংবাদিক হিসেবে। তবে এই মফস্বল সাংবাদিকতা দেশের গণমাধ্যমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। রাজধানীকেন্দ্রিক সংবাদ প্রবাহের বাইরে জেলা, উপজেলা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জীবন, সমস্যা, সম্ভাবনা ও অধিকার তুলে ধরার ক্ষেত্রে মফস্বল সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম। এই বাস্তবতায় স্থানীয় সংবাদ বা মফস্বল সংবাদ মানুষের কাছে গুরুত্বের সাথে পৌঁছে দিচ্ছে দৈনিক খুলনা গেজেট।
অনলাইন নিউজ পোর্টাল থেকে যাত্রা শুরু করা খুলনা গেজেটের পত্রিকা প্রকাশনা ছিল অনেকটা চ্যালেঞ্জিং। কারণ ডিজিটাল প্রযুক্তির কারণে দেশ-বিদেশের খবর যখন মুহূর্তের মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে মুঠোফোনে। অধিকাংশ সংবাদপত্রের প্রচার সংখ্যা কমেছে। মুশকিল হয়ে পড়েছে অনেক পত্রিকার প্রকাশনা টিকিয়ে রাখা। আর সেই মুহূর্তে একটি বিভাগীয় শহর থেকে নতুন পত্রিকা প্রকাশনার যাত্রা শুরু মোটেও সাধারণ বিষয় নয়। আর তা যদি হয় ভেতরে-বাইরে সম্পূর্ণ মাল্টিকালারে ছাপা, তাহলে তো কথাই নেই। তবে খুলনা গেজেটের ভিন্ন চিন্তাধারা, মফস্বল সংবাদের প্রতি অধিক গুরুত্ব দেওয়া, সংবাদের পেছনের সংবাদ তুলে ধরা এবং কর্তৃপক্ষের যথাযথ মনিটরিং সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছে।
যে কথা না বললে নয়, তা হলো- খুলনা গেজেটের সম্পাদকমণ্ডলীর উপদেষ্টা গাজী আলাউদ্দিন আহমদ এর সার্বক্ষণিক এ গণমাধ্যমের প্রিন্ট, অনলাইন ও মাল্টিমিডিয়ার সংবাদ সম্পর্কে মনিটরিং এবং দিক নির্দেশনা বহুগুণে শ্রীবৃদ্ধি করেছে। তিনি শুধু আঞ্চলিক সংবাদের বিষয় নয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদের কোনটাকে কী ট্রিটমেন্ট দিতে হবে, শিরোনামে কি ধরনের বৈচিত্র্য আনতে হবে, তার সব বিষয় পরামর্শ দেন সংবাদ ডেস্কে দায়িত্বে থাকা নিউজ এডিটর, সাব-এডিটর এবং রিপোর্টারদের। তিন যুগের অধিক সময় সাংবাদিকতার সাথে যুক্ত থেকে অনেক পত্রিকার ডেস্কে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। কিন্তু গেজেটে সাব-এডিটর হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা অতীতের থেকে একেবারেই ভিন্ন। প্রতিটি মুহূর্তে পত্রিকার সংবাদ সংক্রান্ত প্রতিটি কাজ একজন মানুষ কীভাবে নজরদারি করতে পারেন, তা গাজী আলাউদ্দিন ভাইয়ের কাজ না দেখলে অনুমান করা যাবে না। পত্রিকার প্রতি কী পরিমাণ ভালবাসা থাকলে একজন মানুষ সেই পত্রিকার কাজকে নিজের জীবনের অংশ হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন, তার বাস্তব প্রমাণ একমাত্র তিনিই।
এ পত্রিকার আর একজন ব্যক্তির কথা না বললে নয়। তিনি হলেন খুলনার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক কাজী মোতাহার রহমান বাবু। যিনি খুলনা গেজেটের নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক হলেও আঞ্চলিক বা মফস্বল সংবাদের প্রতি তার রয়েছে সীমাহীন টান। ষাটোর্ধ্ব বয়সী এই মানুষটি এখনো সংবাদের পেছনে ছুটে বেড়ান। যা নবীন সাংবাদিকদের জন্য অনেকটা অনুপ্রেরণা।
খুলনা গেজেটের অন্যতম লক্ষ্য হলো- খুলনাসহ আশপাশের এলাকার মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা নানা বিষয়কে সংবাদে তুলে ধরা। সড়কের বেহাল দশা, যানজট, জলাবদ্ধতা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, নাগরিক দুর্ভোগ, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে স্থানীয় প্রশাসনের কার্যক্রম সবকিছুর প্রতি রয়েছে সংবাদমাধ্যমটির তীক্ষ্ণ নজর।
মফস্বলের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা জাতীয় পর্যায়ের সংবাদমাধ্যমে পর্যাপ্ত গুরুত্ব পায় না। অথচ এসব ঘটনাই স্থানীয় মানুষের জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলে। সেই জায়গা থেকেই স্থানীয় মানুষের কথা, তাদের প্রত্যাশা ও সমস্যাগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করছে খুলনা গেজেট।
শুধু সমস্যা বা নেতিবাচক সংবাদ নয়, খুলনার সম্ভাবনা, সাফল্য ও ইতিবাচক উদ্যোগও তুলে ধরছে প্রতিষ্ঠানটি। তরুণ উদ্যোক্তা, কৃষক, শিক্ষার্থী, সংস্কৃতিকর্মী, ক্রীড়াবিদসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের গল্পও সংবাদে স্থান পেয়ে থাকে।
মফস্বল সাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো মানুষের খুব কাছাকাছি থাকা। একজন স্থানীয় সাংবাদিক ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছাতে পারেন, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য নিতে পারেন এবং স্থানীয় বাস্তবতাকে গভীরভাবে বুঝতে পারেন। এই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বস্তুনিষ্ঠ, তথ্যনির্ভর ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা ও সংবাদ প্রকাশে এগিয়ে যাচ্ছে খুলনা গেজেট। যে কারণে পত্রিকার পাঠক প্রিয়তা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে গুজব, যাচাই-বাছাইহীন তথ্য কিংবা একপেশে বক্তব্যের পরিবর্তে সত্যতা যাচাইকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া দেওয়া হয়।
খুলনা গেজেট মনে করে, সাংবাদিকতার মূল দায়িত্ব মানুষের পাশে থাকা এবং সত্যকে তুলে ধরে একটি দায়িত্বশীল ও বিশ্বাসযোগ্য সংবাদমাধ্যম হিসেবে এগিয়ে যাওয়া। আর সেই লক্ষ্যে বার্তা কক্ষে নিরলসভাবে দায়িত্বপালন করছেন বার্তা সম্পাদক মোঃ আনোয়ার হোসেন, প্রধান প্রতিবেদক মোহাম্মদ মিলন, সাব-এডিটর মোঃ আনিস উদ্দীন, নিজস্ব প্রতিবেদক জাহিদুল ইসলাম সাগর, মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, একরামুল হোসেন লিপু, নিপা মোনালিসা ও আয়শা আক্তার জ্যোতি সহ একঝাঁক উদীয়মান সাংবাদিক।
নিউজ ডেস্কে আমরা যারা এডিটিংয়ের দায়িত্বে রয়েছি, মফস্বলের সাংবাদিকদের সংবাদ এডিটে তাদের অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হয়। সংবাদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ে ত্রুটিমুক্ত করতে হয়। কখনো কখনো একটি সংবাদ এডিট করতে গিয়ে শিরোনামের পাশাপাশি বাক্যেরও পরিবর্তন আনতে হয়। এ কাজে কিছুটা কষ্ট হলেও পরদিন যখন অন্য পত্রিকাগুলোর ওই একই সংবাদে গেজেটের ভিন্নতা ফুটে ওঠে, তখন সেই কষ্ট আনন্দে রূপ নেয়।
খুলনা গেজেট/এনএম

