আরেক আসামি গ্রেপ্তার, আরও দু’জনের স্বীকারোক্তি আদালতে

তিনঘণ্টা ধরে শিক্ষার্থী আজমুলের ওপর চলে নির্যাতন

নিজস্ব প্রতিবেদক

আলোচিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোঃ আজমুল হোসেন হত্যা মামলায় শেখ আসিফ হোসেন নামে আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি। গত মঙ্গলবার রাত আড়াইটার দিকে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানাধীন ভাটিয়াপাড়া গোলচত্বর এলাকা থেকে এসআরবি-৬, স্পেশাল কোম্পানি ও ভাটিয়াপাড়া ক্যাম্পের যৌথ অভিযানে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। আসিফ পাইকগাছা উপজেলার সনাতনকাটি গ্রামের শেখ মিরাজের ছেলে।

এছাড়া ইতোপূর্বে গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে আরো দুইজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এ নিয়ে এ পর্যন্ত আজমুল হত্যাকাণ্ডে চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি ও পুলিশ।

আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদানকারী আসামিরা হলেন- তারেক হাসান রুবেল এবং প্রতাপ সরকার। গতকাল বুধবার দুপুরে খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ এর বিচারক ইব্রাহিম খলিল মুহিম এর খাস কামরায় তারা এ জবানবন্দি প্রদান করে। এর আগে গত মঙ্গলবার রিফাত আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।

গ্রেপ্তার চারজন আসামির মধ্যে তিনজনই হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আাদালত আসামি তারেক হাসান রুবেল এবং প্রতাপ সরকারকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ প্রদান করেন।

আসামিদের জবানবন্দির বরাত দিয়ে হরিণটানা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ইকবাল হোসেন বলেন, খুবি’র সামনে আজমল ভবনের মেসে গত কয়েকদিন চুরির ঘটনা ঘটতে থাকে। মেস ম্যানেজার মেহেদীসহ আরও কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আজমুলকে সন্দেহ করতে থাকে। মেহেদীর ট্রাপে পড়ে আজমুল বাড়ি থেকে খুলনায় আসে।

তিনি আরও বলেন, শুক্রবার রাতে মেস থেকে ভাত চুরি হয়। রাত ১১টার দিকে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মেহেদী, খুবি’র সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী রবিন, রুহুল ও রিফাত ছাদে ডেকে নিয়ে যায়। উল্লিখিত আসামিদের সাথে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় ভবনের সামনে থাকা জুস বিক্রেতা রুবেলসহ আরও কয়েকজন। জুস বিক্রেতার হাতে থাকা লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাত করতে থাকে। তিন ঘণ্টা ধরে তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালায় আসামিরা।

পুলিশের এ কর্মকর্তা আরও বলেন, ছাদ থেকে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে এটা সঠিক। কিন্তু তাকে ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে কি না তা নিয়ে তদন্ত চলছে।

তিনি বলেন, এসআরবি ও পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া চারজন আসামির তিনজন একই তথ্য দিয়েছে। হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে আসামিদের ভাষ্য শুক্রবার রাতে মেস থেকে মেহেদীর ভাত চুরি হয়। আজমুলের টেবিলের নিচ থেকে ভাতের গামলা উদ্ধার করা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন এসআই বলেন, মারধরের পরিমাণ এতটা বেশি ছিল যে তার পক্ষে হেঁটে যাওয়া খুবই কষ্টকর ছিল। ছাদ থেকে সে লাফ দেয়নি তাকে ফেলে দেওয়া হয়েছে। ভাত চুরির ঘটনায় তাকে হত্যা করা হয়নি। এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে। মেস ম্যানেজার মেহেদীকে গ্রেপ্তার করতে পারলে সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে।




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন