শরতের মাঝামাঝি সময়ে প্রকৃতির বুকে শীতের অবয়ব বিরাজ করেছে। ক’দিন পরে অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে শীতের পরশ পাওয়া যাবে। রাতে তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। এ মাসে দু-তিনটি মৃদু ও মাঝারি দাবদাহ বয়ে যেতে পারে। খুলনাঞ্চলে এ বারে বৃষ্টির পরিমাণ বেশি ছিল।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মোঃ মমিনুল ইসলাম গত ১ সেপ্টেম্বর আবহাওয়ার এ পূর্বাভাস জানিয়েছে। পূর্বাভাসে তিনি উল্লেখ করেন এ মাসে দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত, বর্জসহ বৃষ্টি, হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি, লঘুচাপ, নিম্নচাপ হতে পারে। আগামী মাসেও নিম্নচাপের পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে।
আবহাওয়া দপ্তরের রেকর্ড অনুযায়ী এ বছরের মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে তাপমাত্রা বেশি ছিল। গত ৭ জুন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ১ জুন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। মে মাসে ১২১ মি.মি. জুন মাসে ২১৯ মি.মি. জুলাই ৭৩১ মি.মি. এবং গত মাসে ১৭৮ মি.মি. বৃষ্টিপাত হয়। ২০২২ সাল থেকে খুলনাঞ্চলে তাপমাত্রা বাড়তে থাকে। ২০২৪ সালে এ ধারা অব্যাহত ছিল। ২০২৫ সালে তিনবার তাপ প্রবাহ বাড়ে। যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও খুলনাঞ্চলে ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছিল। সে তুলনায় ২০২৬ সালে তাপমাত্রা কমতে থাকে। আবহাওয়া তারতম্যের কারণে মৌসুমি ফসলের বেশ ক্ষতি হয়। গ্রীষ্ম মৌসুমে যেমন শাকসবজির ক্ষতি হয় বর্ষা মৌসুমে তেমনি সবজি ক্ষেত পচে যায়। মে মাসে বৃষ্টিপাতের কারণে বোরো আবাদের ক্ষতি হয়। অনেক কৃষক বোরো ঘরে তুলতে পারেনি। বর্ষার কারণে দিন মজুরদের পারিশ্রমিক অস্বাভাবিক বেড়ে যায়।
আবহাওয়া অফিস খুলনার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান খুলনা গেজেটের মাধ্যমে আবহাওয়া বার্তায় এ অঞ্চলবাসীকে জানিয়েছেন শীতের আগে দাবদাহ দেখা দেবে। মানব সৃষ্টি দুর্যোগ, কলকারখানার ধোয়া ও বনাঞ্চল ধ্বংস হওয়ায় আবহাওয়ার তারতম্য দেখা দিচ্ছে। সূর্য থেকে ভূ-পৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকভাবে আসতে পারছেনা। ভূ-পৃষ্ট থেকে ৫০ কি.মি. উপরে ওজন স্তর আটকে যাচ্ছে, বাঁধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। ফলে বছরের বেশিরভাগ সময়ে আবহাওয়ার তারতম্য হচ্ছে।
খুলনা গেজেট/এএজে

