বাজারে হঠাৎ করে প্যাকেটজাত চিনির সংকট সৃষ্টি হয়েছে। কিনতে হচ্ছে কয়েক দোকান ঘুরে। এতে করে বাড়ছে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি। দুই সপ্তাহে কেজিতে দাম বেড়েছে ১০ টাকা। পাইকারি বাজারে আগে ১০৫ থেকে ১১০ টাকায় কিনতে পাওয়া যেত এখন তা কিনতে ১১৫ টাকা গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। খুচরা বাজারে ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়। এমন অস্থিরতার সৃষ্টি হয় ফখরুদ্দীন-মইনুদ্দিনের শাসনামলে। সেসময় নগরীর ১০ জন চিনি বিক্রেতা কালো তালিকাভুক্ত হয়।
সংকটের কথা স্বীকার করেছেন বাণিজ্য মন্ত্রীও। তিনি জানান, রিফাইনারিগুলোর কাছে পর্যাপ্ত অপরিশোধিত চিনি রয়েছে। জ্বালানি বিভ্রাটে উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটলেও দ্রুত তা স্বাভাবিক হবে বলে দাবি তার।
বড় বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী দিব্য এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার এন সাহা সংকটের কথা স্বীকার করেছেন। বলেছেন, বিকিকিনি অনেক কম। কালীবাড়ি রোডের পাইকারি ব্যবসায়ী ইউসুফ এন্টারপ্রাইজের হিসাব রক্ষক একই ভাষ্য দিয়েছেন। প্রেক্ষাপট নিয়ে বলেছেন, ফ্রেশ ও স্টার শিপের উৎপাদিত স্বল্প পরিমাণ বাজারে এসেছে। অপর সূত্র বলেছেন, নওয়াপাড়ায় কয়েকজন অবৈধভাবে মজুত করেছে।
মিস্ত্রিপাড়া বাজারের মুদি দোকানদার মানিক সাহা জানান, ‘উৎপাদক পর্যায়ে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে খুচরায়। সরবরাহ কমিয়ে কৃত্রিম সমস্যা তৈরি করছে বিপণন কোম্পানিগুলো। কারখানায় গ্যাস সংকটকে অজুহাত দিচ্ছেন তারা’।
চিনি ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সাধারণত বড় ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা কোম্পানির কাছ থেকে পণ্য কেনার জন্য আগেভাগেই টাকা পরিশোধ করে ‘সাপ্লাইজ অর্ডার’ বা এসও সংগ্রহ করেন। বাজারে পণ্যের সরবরাহ ঠিক রাখতে কোম্পানিগুলো অনেক সময় বড় ও পরিচিত ব্যবসায়ীদের বাকিতে এসও দিয়ে থাকে। কিন্তু চলমান গ্যাস-সংকটে কোনো কোম্পানি এখন বাকিতে পণ্য দিচ্ছে না।
চিনি উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো অপর এক গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত ও পরিশোধিত চিনির (হোয়াইট সুগার) দাম বেড়েছে। পাশাপাশি দেশীয় চিনি প্রক্রিয়াকরণ কারখানাগুলোতে গ্যাস-সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে বলে জানায় তারা।
বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত চিনির দাম ও মার্কিন ডলারের বিনিময় হারের ওঠানামার প্রভাব পড়েছে চিনির আমদানি নির্ভর বাজারে। অনেক ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ী পর্যাপ্ত পরিমাণে চিনি আমদানি করতে পারছেন না। এর সুযোগ নিচ্ছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। পাইকারি ও খুচরা বাজারের এই ব্যবধান কাজে লাগিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরির মাধ্যমে অতিরিক্ত মুনাফা আয়ের অভিযোগ রয়েছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে।
সাধারণ ক্রেতা মো. ফারুক আহমেদ অভিযোগ করছেন, ‘বাজার মনিটরিং বা তদারকি না থাকায় বিক্রেতারা ইচ্ছেমাফিক দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন।’ তবে খুলনা জেলা প্রশাসন ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাজারের এই অস্থিরতা রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অতিরিক্ত দাম আদায় বা কৃত্রিম সংকট তৈরির প্রমাণ পেলেই কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। উল্লেখ্য, চায়ের কাপে চিনির পরিমাণ কমেছে।
খুলনা গেজেট/এএজে

