শুক্রবার । ২৬শে জুন, ২০২৬ । ১২ই আষাঢ়, ১৪৩৩

পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে বিরোধ, দৌলতপুর দিবা-নৈশ কলেজে দুই দফা তালা

নিজস্ব প্রতিবেদক

খুলনার বেসরকারি দৌলতপুর (দিবা-নৈশ) কলেজে পরিচালনা পরিষদ গঠন নিয়ে বিরোধে দুই দফা কলেজটিতে তালা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত বুধ ও বৃহস্পতিবার স্থানীয় বিএনপির দুটি গ্রুপ এ ঘটনা ঘটান।

এ সময় কলেজটিতে আগামী মাসে অনুষ্ঠিতব্য এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিভিন্ন কাগজপত্র প্রদান এবং ডিগ্রির ফরমপূরণ চলছিল। পাল্টাপাল্টি মহড়ায় শিক্ষার্থীদের মাঝে আতঙ্ক দেখা দেয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর কলেজটির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি করা হয় জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি মাসুদ হোসেন রনিকে। তিনি খুলনা মহানগর বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৫ সালে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি গঠনসংক্রান্ত নতুন বিধিমালায় সভাপতি হতে হলে ন্যূনতম স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) ডিগ্রি থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়। তখন মাসুদ হোসেন রনি বাদ পড়েন।

নতুন সভাপতি করা হয় ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক মো. জয়নাল আবেদীনকে। এর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট করেন মাসুদ হোসেন রনি। আদালত নতুন সভাপতি নিয়োগ আদেশে স্থগিতাদেশ দিলে আপিল বিভাগে এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেন অধ্যাপক মো. জয়নাল আবেদীন। আপিল বিভাগ নিম্ন আদালতের আদেশে স্থগিতাদেশ দেন। এরপর থেকে অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

গত ১৬ জুন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অ্যাডভোকেট শেখ মাসুদ হোসেন রনিকে কলেজটির পরিচালনা পর্ষদের নতুন সভাপতি হিসেবে মনোনয়ন প্রদান করে। তিনি কলেজের সভাপতি হিসেবে শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময়ও করেন। এর মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন চিঠির বিরুদ্ধে জয়নাল আবেদীন হাইকোর্টে একটি রিট করেন। হাইকোর্ট মাসুদ হোসেন রনিকে সভাপতি মনোনয়ন দেওয়া চিঠির কার্যকারিতার ওপর স্থগিতাদেশ প্রদান করেন। ফলে আইনি প্রক্রিয়ার অধ্যাপক মো. জয়নাল আবেদীন কলেজটির সভাপতি পদে থেকে যান।

কলেজ সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, ওই কমিটি গঠনের জের ধরে গত দু’দিন ধরে অধ্যক্ষের কার্যালয় ও ক্যাম্পাসে তালা দেওয়ার ঘটনা ঘটে। প্রথমে অ্যাডভোকেট শেখ মাসুদ হোসেনের পক্ষে তালা দেওয়া হয়। পরে অধ্যাপক মো. জয়নাল আবেদীন লোকজন নিয়ে তালা খুলে কলেজের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন এবং বিএনপির সিনিয়র নেতারা খুলনায় ফিরলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের প্রস্তাব দেন। কিন্তু এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার দুপুরে ফের তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন শেখ মাসুদ হোসেনের অনুসারীরা। এ সময় সশস্ত্র মহড়ার ঘটনাও ঘটে। এতে কলেজের স্বাভাবিক কার্যক্রম বিঘ্নের পাশাপাশি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন শিক্ষার্থীরা।

দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মু মোরাদুল ইসলাম বলেন, ‘কে কারা কলেজে তালা ঝুলিয়েছে, এমন একটি অভিযোগ এলে পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছে। পরে অপর একটি পক্ষও থানায় এসেছিলেন তবে কোন সংঘাতের অভিযোগ পাওয়া যায়নি।’

বিষয়য়টি জানতে কলেজের কলেজের অধ্যক্ষ এ এস এম আনিসুর রহমানকে কয়েক দফা ফোন দেওয়া হয়। তিনি শিক্ষামন্ত্রীর মতবিনিময় সভায় উপস্থিত থাকায় ফোন ধরেননি।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন