সোমবার । ১৫ই জুন, ২০২৬ । ১লা আষাঢ়, ১৪৩৩

ভবদহ অঞ্চলে ফসলি জমি কেটে মাছের ঘের, প্রশাসনের নীরবতায় জনমনে প্রশ্ন

মনিরামপুর প্রতিনিধি

যশোরের ভবদহ অঞ্চলে আবাদি ফসলের জমি কেটে অপরিকল্পিতভাবে মাছের ঘের নির্মাণ এবং গভীর নলকূপ থেকে পানি উত্তোলন করে ঘের ভরাটের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। স্থানীয়দের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে হাজার হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়ছেন। অথচ এ বিষয়ে প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, ভবদহ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত মনিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কিছু অসাধু ঘের মালিক কৃষি জমি নষ্ট করে মাছের ঘের তৈরি করছেন। অনেক ক্ষেত্রে সরকারি পাকা সড়ককে ঘেরের বেড়িবাঁধ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। শুকনো মৌসুমে গভীর নলকূপ থেকে ব্যাপক হারে পানি উত্তোলন করে এসব ঘেরে পানি সংরক্ষণ করা হয়, যাতে আগাম মাছ চাষ করা যায়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, এ ধরনের অপরিকল্পিত কর্মকাণ্ডের ফলে প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিপাত হলেই মনিরামপুর উপজেলার দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়নসহ আশপাশের ৭ থেকে ৮টি গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যায়। ফলে বছরের কয়েক মাস ধরে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হন।

ভবদহকে দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ‘মরণফাঁদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে। জলাবদ্ধতার কারণে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষা, যোগাযোগ ও জনজীবন। স্থানীয়রা মনে করছেন, অবৈধ ও অপরিকল্পিত মাছের ঘের নির্মাণ এবং নির্বিচারে পানি উত্তোলন এ সংকটকে আরও তীব্র করে তুলছে।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা অবৈধ ঘের নির্মাণ বন্ধ, কৃষিজমি রক্ষা, গভীর নলকূপের অপব্যবহার রোধ এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, আইন ও পরিবেশগত বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে বছরের পর বছর এমন কর্মকাণ্ড চললেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কেন কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না? এ প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইছেন ভুক্তভোগী সাধারণ।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন