সাতক্ষীরায় প্রিপেইড মিটারে রিচার্জ জটিলতায় বিল পরিশোধে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ওজোপাডিকো’র আওতাধীন পৌর শহরের বিদ্যুৎ গ্রাহকরা। বিদ্যুতের দাম বাড়ায় নতুন করে ১৮০ ডিজিটের টোকেন নম্বর দিয়ে সমন্বয় করতে সকল গ্রাহককে প্রথম একবার ওজোপাডিকো’র কার্যালয়ে গিয়ে বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে।
যে কারণে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বিকাশ, রকেট ও নগদের মাধ্যমে রিচার্জ করতে না পারায় বাধ্য হয়ে শ’ শ’ গ্রাহককে সরাসরি অফিসে গিয়ে প্রিপেইড মিটার রিচার্জ করতে হচ্ছে। ফলে প্রতিদিন সকাল থেকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে বিল দিতে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন গ্রাহকরা।
গতকাল বুধবার সকালে সাতক্ষীরা শহরের পাকাপোল এলাকায় অবস্থিত ওজোপাডিকো’র গ্রাহক সেবা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, বিল দিতে শতাধিক গ্রাহক লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। কেউ প্রিপেইড মিটারের রিচার্জ করতে, আবার কেউ টোকেন নম্বর সংগ্রহ করতে এসেছেন।
গ্রাহকদের অভিযোগ, এমনিতেই গত এক মাস ধরে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রিপেইড মিটারে টাকা রিচার্জে নানা ধরনের জটিলতা দেখা দিচ্ছে। এরপর দাম বাড়ায় নতুন করে ১৮০ ডিজিটের টোকেন নম্বর দিচ্ছে। এজন্য বিকাশ এর মাধ্যমে মিটার রিচার্জ করা যাচ্ছে না। ফলে কোনো উপায় না পেয়ে তাদের ওজোপাডিকোর অফিসে এসে রিচার্জ করতে হচ্ছে। অনেক গ্রাহকের মিটারে ব্যালেন্স শেষ হয়ে যাওয়ায় বাড়িতে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
শহরের কুখরালি এলাকার রিকশা চালক দুখু মিয়া জানান, “মোবাইলের মাধ্যমে এখন মিটারে টাকা রিচার্জ করা যাচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে অফিসে এসেছি বিল পরিশোধ করতে। কিন্তু সিরিয়ালে কাউন্টার পর্যন্ত যেতে পারছি না। মঙ্গলবার দিনভর দাঁড়িয়ে বিল না দিতে পেরে আজ আবার এসেছি। বিল দিতে না পারলে হয়ত বাসায় বিদ্যুৎ থাকবে না। গরমে তখন সবাইকে কষ্ট পেতে হবে।”
পলাশপোল এলাকার সিরাজুল ইসলাম জানান, “প্রিপেইড মিটারে রিচার্জ করতে সকাল থেকে শ’ শ’ মানুষ ওজোপাডিকো’র কার্যালয়ের কাউন্টারের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। অথচ কাউন্টার মাত্র একটি। এই গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে বিল দিতে চরম ভোগান্তি হচ্ছে গ্রাহকেদের।
মুনজিতপুর এলাকার গ্রাহক শারিমন বলেন, “সকাল থেকে কাউন্টারের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। কিন্তু এখনো বিল কাউন্টার প্রযন্ত পৌঁছাতে পারিনি। অসুস্থ শরীর নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে ভীষণ কষ্ট হচ্ছে।”
গ্রাহকদের অভিযোগ, “বিদ্যুতের দাম বাড়লে প্রথম একবার অফিসের কাউন্টারে এসে রিচার্জ করা, যখন-তখন মিটার লক হয়ে যাওয়া, রিচার্জ জটিলতা, ব্যাটারির সমস্যা এবং প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে গ্রাহকদের দুর্ভোগ বাড়ছে। ফলে প্রিপেইড মিটার এখন গ্রাহকদের জন্য ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাতক্ষীরা বিদ্যুৎ সরবরাহ (ওজোপাডিকো) উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ মতিয়ার রহমান বলেন, “গ্রাহকরা যাতে ভোগান্তির শিকার না হয় তার জন্য দুটি কাউন্টার চালুর ব্যবস্থা করেছি। প্রয়োজনে আরও একটি কাউন্টার বাড়ানো হবে। পাশাপাশি ব্যাংকের মাধ্যমেও বিল পরিশোধ ও রিচার্জের সুযোগ রয়েছে।” কারিগরি সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে বলে জানান তিনি।
খুলনা গেজেট/এনএম

