বৃহস্পতিবার । ৪ঠা জুন, ২০২৬ । ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

রাজশাহীর নামি-দামি আম এবার খুলনার বাজারে মার খাচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গা ও সাতক্ষীরার আম এক মাস ধরে খুলনার বাজার দখল করে আছে। এ অঞ্চলে ফলন বেশি হওয়ায় পর্যাপ্ত আমদানিতে সর্বনিম্ন ৪০ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছে। গত সপ্তাহে রাজশাহীর কানসাট ও বানেশ্বর বাজার থেকে আসা হিমসাগর ও লকনা প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না। দাম বেশি হওয়ায় সোমবার থেকে রাজশাহীর নামি-দামি আমের চাহিদা কমেছে।

ম্যাংগো ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, গত ৫ মে থেকে সাতক্ষীরার আম বাগানের গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ ও বোম্বাই জাতের আম সংগ্রহ শুরু হয়েছে। মে’র শেষ দিক থেকে হিমসাগরও বাজারে এসেছে। চুয়াডাঙ্গায় উৎপাদিত হিমসাগর, গোপালভোগ ও মোম্বাই ১৩ মে থেকে সংগ্রহ শুরু হয়েছে। শুক্রবার থেকে আম্রপালি ও হাঁড়িভাঙ্গা জাতের আম সংগ্রহ শুরু হয়েছে। সীমান্তবর্তী উল্লিখিত দু’টি জেলায় এবার কাঙ্খিত আম উৎপাদন হয়েছে। মধ্য মে তে সাতক্ষীরার নামি-দামি আম কেজিপ্রতি ৮০ টাকা দরে বিক্রি হলেও মঙ্গল ও বুধবারে প্রকারভেদে প্রতিকেজি গড়ে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের ব্যবসায়ী আব্দুল খালেক মঙ্গলবার ৫৫০ ক্যারেট আম কানসাট বাজার থেকে খুলনায় নিয়ে আসেন। হিমসাগর ও লকনা জাতের প্রতি কেজির পাইকারি মূল্য ৫০ টাকা। পাইকারি আড়ৎ থেকে খুচরা ব্যবসায়ী পর্যন্ত পৌঁছাতে কেজিপ্রতি আরও ৩টাকা খরচ।

এ ব্যবসায়ী বলেছেন, ‘রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের স্থানীয় হাটগুলোতে উল্লিখিত জাতের আম কেজিপ্রতি ৫০ টাকা হারে পাইকারি বিক্রি হচ্ছে।’

একই গ্রামের আম ব্যবসায়ী আমির হোসেন জানান, ‘৮শ’ ক্যারেট ভর্তি একটি ট্রাক রাজশাহী থেকে খুলনা পর্যন্ত আসতে ৩২ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া গুনতে হয়। ঈদের পরে বাজার মন্দাভাব যাচ্ছে। এছাড়া আমদানি বেশি হওয়ায় চাষি ও ব্যবসায়ীরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না।’

খুলনা নগরীর কদমতলা এলাকার আঁচল বাণিজ্য ভাণ্ডারের স্বত্বাধিকারী বিকাশ সাহা জানান, ‘সাতক্ষীরার উৎপাদিত আমের আমদানি এখানে বেশি। রাজশাহীর তুলনায় সাতক্ষীরার নামিদামি আমের মূল্য খানিকটা কম। এবারে মধ্য যষ্টিতে প্রতিযোগিতায় রাজশাহীর আম পিছিয়ে পড়েছে।’

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন