বুধবার । ৩রা জুন, ২০২৬ । ২০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

খুলনা বন্যপ্রাণী পুনর্বাসন কেন্দ্রে ঠাঁই হলো সেই কুমিরের

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাগেরহাটে খানজাহান আলীর (র.) মাজার সংলগ্ন দিঘির একমাত্র মাদি কুমিরটি সরিয়ে খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) দুপুরে স্থানীয়দের সহায়তায় বন বিভাগের কুমির বিশেষজ্ঞরা দিঘির পূর্ব পাড়ের একটি ছোট পুকুর থেকে কুমিরটি ধরেন। এরপর হাত-পা ও চোখ বেঁধে বন বিভাগের গাড়িতে খুলনায় আনা হয়।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার রাতে মাজার সংলগ্ন দিঘিতে গোসল করতে নেমে ফাতেমা (৭) নামে এক শিশু কুমিরের আক্রমণের শিকার হয়। পরে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে তার মরদেহ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হলে মঙ্গলবার রাতে জেলা প্রশাসনের জরুরি সভায় জননিরাপত্তার স্বার্থে কুমিরটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

বুধবার সকাল থেকে বন বিভাগ ও প্রশাসনের কর্মীরা মাজার এলাকায় উপস্থিত হন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দিঘির পূর্ব পাড়ে কুমিরটি দেখা যায়। দুপুর ১২টার দিকে খাবারের প্রলোভন দিয়ে কুমিরটি বেঁধে ফেলা হয়। এরপর দিঘি থেকে তুলে গাড়িতে খুলনার উদ্দেশে রওনা দেয় বন বিভাগ। উদ্ধারের পর কুমিরটিকে পুনর্বাসন কেন্দ্রের নির্ধারিত স্থানে রাখা হয়েছে।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, প্রাণীটির শারীরিক অবস্থা, আচরণ ও স্বাস্থ্য নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

খুলনা বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল বলেন, উদ্ধার অভিযানে কোনো জটিলতা দেখা দেয়নি। কুমিরটির মধ্যে উল্লেখযোগ্য আক্রমণাত্মক আচরণও লক্ষ্য করা যায়নি। এটি সুস্থ আছে। প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পরিচর্যার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরবর্তীতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী পুনর্বাসন বা অন্যত্র স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হবে।

বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসা. আতিয়া খাতুন বলেন, জননিরাপত্তার স্বার্থে মাজারের দিঘির কুমিরটি অপসারণের সিদ্ধান্ত হয়। সে অনুযায়ী খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন