বুধবার । ২৭শে মে, ২০২৬ । ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
বৈরী আবহাওয়া

খুলনায় প্রধান ঈদ জামাত সার্কিট হাউসের পরিবর্তে টাউন জামে মসজিদে

নিজস্ব প্রতিবেদক

বৈরী আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং মাঠ কর্দমাক্ত থাকার কারণে খুলনায় পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাতের স্থান পরিবর্তন করা হয়েছে। আগামী ২৮ মে নির্ধারিত এই জামাতটি ঐতিহ্যবাহী খুলনা সার্কিট হাউস ময়দানের পরিবর্তে এখন খুলনা টাউন জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে।

বুধবার (২৭ মে) খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

খুলনা জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বৈরী আবহাওয়ার কারণে সার্কিট হাউস ময়দানের একটি বড় অংশ কর্দমাক্ত এবং ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে সাধারণ মুসল্লিদের সুবিধার্থে এবং সুষ্ঠুভাবে জামাত সম্পন্ন করার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, খুলনা টাউন জামে মসজিদে ঈদের মোট তিনটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে: প্রথম ও প্রধান জামাত: সকাল ৭.০০ টায়, দ্বিতীয় জামাত: সকাল ৮.০০ টায় এবং তৃতীয় জামাত: সকাল ৯.০০ টায়।

প্রেস নোটে আরও জানানো হয়, জেলার অন্যান্য মসজিদ ও ঈদগাহসমূহে পবিত্র ঈদুল আজহার জামাত সংশ্লিষ্ট ঈদগাহ ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির নির্ধারিত সময় অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে খুলনা সিটি করপোরেশন পরিচালিত বায়তুন নূর জামে মসজিদ কমপ্লেক্স-এ পবিত্র ঈদ-উল-আজহার দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৭টায় এবং দ্বিতীয় জামাত সকাল সাড়ে ৮টায়। প্রথম জামাতে ইমামতি করবেন মসজিদের খতিব মুফতি ইমরান উল্লাহ এবং দ্বিতীয় জামাতে ইমামতি করবেন মসজিদের ইমাম হাফেজ জাকির হোসেন।

এছাড়া কেসিসির ব্যবস্থাপনায় ও ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে পৃথক ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। অন্যান্য মসজিদ ও ঈদগাহসমূহে পরিচালনা কমিটি জামাতের সময় নির্ধারণ করবে। প্রধান জামাতে আসা মুসল্লিদের গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য খুলনা জেলা স্টেডিয়াম সংলগ্ন আউটার স্টেডিয়াম সংরক্ষিত থাকবে। এছাড়া মুসল্লিদের ওজুর জন্য পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা রাখা হবে।

এছাড়া সকাল ৭টায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে পবিত্র ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হবে। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে সকাল ৭টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। ঈদের দিন সকল সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত ভবনে যথাযথভাবে সঠিক রং ও মাপের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে এবং সূর্যাস্তের পূর্বে তা নামানো হবে।

নগরীর প্রধান প্রধান সড়কসমূহ, গুরুত্বপূর্ণ চত্বর, সড়কদ্বীপ ও সার্কিট হাউস ময়দান জাতীয় পতাকা এবং ‘ঈদ মোবারক’ (বাংলা ও আরবি) খচিত ব্যানার দিয়ে সজ্জিত করা হবে। বিভিন্ন হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, ছোটমনি নিবাস, সামাজিক প্রতিবন্ধী কেন্দ্র, আশ্রয় কেন্দ্র, সেফ হোমস, ভবঘুরে কল্যাণ কেন্দ্র ও দুস্থ কল্যাণ কেন্দ্রে এ উপলক্ষ্যে বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হবে। এছাড়া ঈদ-উল আজহার গুরুত্ব সম্পর্কে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সুবিধাজনক সময়ে সেমিনার ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে। ঈদে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মহানগর ও মহানগরের বাইরের বিভিন্ন স্পটে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

ঈদের সময় আতশবাজি ও পটকা ফোটানো, রাস্তা বন্ধ করে স্টল তৈরি, উচ্চস্বরে মাইক/ড্রাম বাজানো, রঙিন পানি ছিটানো এবং বেপরোয়াভাবে মোটরসাইকেল চালানো যাবে না। সড়কে খোলা পিকআপ/ট্রাকে উচ্চ শব্দে মাইক বাজিয়ে কেউ যেন উচ্ছৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঈদের রাতে নদীতে সকল প্রকার পণ্যবাহী ও মালবাহী জাহাজ এবং বালুবাহী বাল্কহেড চলাচল বন্ধ রাখতে হবে। রাতের বেলায় স্পিডবোট চলাচলও বন্ধ থাকবে। এছাড়া নৌপথে ২৭ মে থেকে ৬ জুন পর্যন্ত বালুবাহী নৌযান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। নৌপথে ডাকাতি, চাঁদাবাজি, শ্রমিক ও যাত্রীদের হয়রানি প্রতিরোধে পুলিশি টহল জোরদার করা হবে। ইভটিজার ও বখাটেদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অজ্ঞান ও মলম পার্টি, ছিনতাইকারী ও পকেটমারদের তৎপরতা বন্ধে টার্মিনাল সংযোগ সড়ক, রেলস্টেশন, বাস ও নৌযান টার্মিনালসমূহে সাদা পোশাকধারী পুলিশ মোতায়েন থাকবে এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। জাল টাকার বিস্তার রোধেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

দৌলতপুর খেয়াঘাট, জেলখানা ঘাট ও রূপসাঘাটসহ সকল লঞ্চ, খেয়া ও ফেরিঘাটে অতিরিক্ত টোল বা ভাড়া আদায় করা যাবে না। বাস, লঞ্চ, স্টিমার বা নৌকায় অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা যাবে না। এসকল ঘাটে ভিজিলেন্স টিম ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।

ঈদের ছুটিতে বসতবাড়ি, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সকল ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বাজার, মার্কেট, অফিস, শপিংমলের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে সকল প্রতিষ্ঠান নিজ নিজ ব্যবস্থাপনায় নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ করবে।

রাস্তায় যত্রতত্র গেট নির্মাণ, প্যানা বা ব্যানার টাঙানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নিরুৎসাহিত করতে হবে। ঈদের দিন পশু জবাই করে পর্যাপ্ত পানি ও ব্লিচিং পাউডার দিয়ে দ্রুত পরিষ্কার করতে হবে এবং কোথাও যেন জলাবদ্ধতা তৈরি না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। পরিবেশ দূষণরোধে নির্দিষ্ট স্থানে সকল পশু জবাই করতে হবে। পশুর চামড়া নির্ধারিত মূল্যে বেচকেনা করতে হবে। এতিমখানা ও মাদরাসাসহ অন্যান্যরা যাতে পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য পায় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। কোরবানির পশুর চামড়া ভালোভাবে ছাড়ানো, রক্ষণাবেক্ষণ এবং চামড়ার বাজারকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেন কোনো গুজব ছড়াতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

এদিকে পবিত্র ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষ্যে খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু নগরবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। শুভেচ্ছা বাণীতে প্রশাসক বলেন, সর্বশক্তিমান আল্লাহতা’য়ালার সন্তুষ্টির জন্য হযরত ইব্রাহীম (আ.) আত্মত্যাগের যে মহান দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন তা যুগে যুগে মানুষকে ত্যাগের প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ করেছে। তিনি কোরবানির এ আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে লোভ-লালসা, হিংসা, বিদ্বেষ ত্যাগ করে দেশ ও জনগণের কল্যাণে সকলকে নিবেদিত হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি সকলের সুন্দর ও সমৃদ্ধ জীবন কামনা করেন।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন