মঙ্গলবার । ২৬শে মে, ২০২৬ । ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
নীরবে চলে গেল ভয়াল আইলার ১৭তম বার্ষিকী

দাকোপে বাঁধের উপর এখনও শতাধিক পরিবারের বসবাস

আজগর হোসেন ছাব্বির, দাকোপ

খুলনার উপকূলীয় জনপদ দাকোপবাসীর দুর্বিষহ স্মৃতির আতঙ্ক আইলার ১৭তম বার্ষিকী চলে গেল নীরবে। এখন শ’ শ’ গৃহহারা পরিবার বসবাস করছে বাঁধের উপর। দাকোপ জুড়ে অব্যাহত আছে ভাঙন আতঙ্ক।

দাকোপবাসীর কাছে ভয়াবহ সেই দুর্বিষহ স্মৃতির আতঙ্ক আইলার ১৭তম বার্ষিকী চলে গেল গতকাল ২৫ মে। এবার সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে বর্ষপূর্তি স্মরণে জনসচেতনতামূলক কোনো কর্মসূচি পালিত হতে দেখা যায়নি। অনেকটা নীরবেই চলে গেল ভয়াল আইলার ১৭তম বর্ষপূর্তি। ২০০৯ সালের ২৫ মে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আঘাতহানে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় আইলা। যার প্রভাবে দাকোপের কামারখোলা ও সুতারখালী ইউনিয়নের শ’ শ’ কিলোমিটার ওয়াপদার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জ্বলোচ্ছাসের প্রভাবে দাকোপে ৭ জন মানুষ মারা যায়। নলিয়ান গেট এবং জালিয়াখালী এলাকার ওয়াপদাবাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে দু’টি ইউনিয়নের ৫০ হাজার মানুষ দীর্ঘ ২১ মাস পানিবন্দি জীবন কাটাতে বাধ্য হয়। পরবর্তীতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে সাড়ে ৪ শ’ কোটি টাকা বরাদ্দে পাউবোর ৩২নং পোল্ডারের অধীন কামারখোলা ও সুতারখালী ইউনিয়ন এবং ৩৩নং পোল্ডারের বেড়িবাঁধ পুনর্নির্মাণ করা হয়।

আইলার ক্ষত এবং ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না পারা গৃহহারা হয়ে বেড়িবাঁধে বসবাস করা কালাবগী গ্রামের হাসিনা বেগম বলেন, ‘সব হারিয়ে আজও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বেড়িবাঁধের উপর বসবাস করছি।’ নদীতে পোনা ধরা বন্ধ হওয়ায় জীবিকার কোনো নিশ্চয়তা নেই। ক্ষতিগ্রস্ত জনপদে সব থেকে বড়ো সংকট নিরাপদ এবং সুপেয় পানির ব্যবস্থা না থাকা এমন দাবি তাঁর।

সুতারখালী ইউপি চেয়ারম্যান মাসুম আলী ফকির জানায়, ‘আইলায় সব হারিয়ে বহু পরিবার এলাকা ছেড়ে চলে গেছে। এখনও কালাবগী ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডে ৩ শতাধিক পরিবার বেড়িবাঁধের উপর মানবেতর জীবন-যাপন করছে।’

তিনি বলেন, ‘নদী শাসন না করে রাস্তা নির্মাণ করায় সুতারখালীর তেলিরকোনা, কালীবাড়ী, দক্ষিণ নলিয়ান, কালাবগী আমিনুর সানা বাড়ি এবং চেয়ারম্যান ঘাট এলাকার ওয়াপদাবাঁধ ফের ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। অনুরূপ অবস্থা কামারখোলা ইউনিয়নের একাধিক পয়েন্টে। বর্তমানে যে কোনো দুর্যোগ বা জোয়ারের চাপ বাড়লে ভেসে যাওয়ার আশঙ্কায় আছে দাকোপের ৩১নং পোল্ডারের অধীন চালনা পৌরসভা, পানখালী এবং তিলডাঙ্গা ইউনিয়ন। এই পোল্ডারের অন্তত ১৩টি পয়েন্ট অত্যন্ত ঝুঁকির মুখে আছে।’

আশার কথা সম্প্রতি খুলনা-১ আসনের এমপি আমির এজাজ খানের প্রশ্নের উত্তরে সংসদে ঝুঁকিপূর্ণ এই বাঁধের বিষয়ে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন