সোমবার । ২৫শে মে, ২০২৬ । ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

কবির সান্নিধ্যে খুলনার তিন সাংবাদিক

নিজস্ব প্রতিবেদক

বৃটিশ জামানা। খুলনার বুদ্ধিজীবীদের আনাগোনা ও লেখাপড়া ছিল কলকতা কেন্দ্রিক। স্বদেশি আন্দোলনের পরামর্শ আসত ভারত থেকে। বিদ্রোহী কবি (১৯১৭-১৯২০) সৈনিক জীবনের অবসান ঘটিয়ে সংবাদপত্রে মনোনিবেশ করেন। ১৯২০ সাল কবির সাংবাদিক জীবনের স্বর্ণযুগ। ধারাবাহিকভাবে নবযুগ, ধুমকেতু, লাঙল, সেবক, গণবাণী, নওরোজ ও বৈতালিক পত্রিকার সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। উদ্দেশ্যে স্বদেশি আন্দোলনকে বেগবান করা। এ সময় মাওলানা আহমদ আলী কবির সংস্পর্শে আসেন।

তিনি খুলনার ডুমুরিয়ার মেছোঘনা গ্রামের সন্তান। বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের কলম সৈনিক। সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। কাজ করেছেন দৈনিক সুলতান, সাপ্তাহিক কৃষক, আল হেলাল নামক পত্রিকায়। এক পর্যায়ে দৈনিক নবযুগের সাথে সম্পৃক্ত হন। কাজী নজরুল ইসলাম এ পত্রিকার সম্পাদক। কবি অসুস্থ হয়ে পড়লে মাওলানা আহমেদ আলী সম্পাদনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। নবযুগের পাতা জুড়ে বিতর্কমূলক সম্পাদকীয় ছাপা হত। এ দৈনিকের গ্রাহক সংখ্যা বাড়তে থাকে।

প্রথিতযশা এ সাংবাদিক ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর গ্রামের বাড়িতে ইন্তেকাল করেন। তার পুত্র মোহাম্মাদ নুরুজ্জামান। তিনি ও সাংবাদিকতার সাথে যুক্ত ছিলেন।

কবির অপর সহকর্মী খুলনার দৌলতপুরের ডা: আবুল কাশেম। তিনি কলকাতায় অবস্থানকালে সুলতান নামক পত্রিকার সহকারী সম্পাদক ছিলেন। পরবর্তীকালে মোহাম্মাদী, আল মুসলিম, আজাদ ও দৈনিক কৃষক পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন। তিনি কবির ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তার আমন্ত্রণে কবি খুলনার দৌলতপুরে আসেন। এখানে অবস্থান করেন। বিএল একাডেমীতে সম্মাননা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এ চিকিৎসক ১৯৮৭ সালের ৬ জুলাই দৌলতপুরে ইন্তেকাল করেন।

মোহাম্মাদ নুরুজ্জামান খুলনার ডুমুরিয়ার মেছোঘনার সন্তান। তিনিও পেশাজীবী সাংবাদিক। স্বদেশী আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। কবির সম্পাদনায় দেনিক নবযুগ পত্রিকার সাংবাদিক ছিলেন। তার সংস্পর্শে এসে সাপ্তাহিক স্বদেশ পত্রিকায় যোগ দেন। কবির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মৃত্যুর আগে কবিকে নিয়ে নানা স্মৃতিচারণ করেছেন পরিবারের সদস্যদের সামনে। ২০০২ সালের ৯ জুলাই তিনি ইন্তেকাল করেন

(তথ্য সূত্র: খুলনার গণমাধ্যম ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ)।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন