সাতক্ষীরায় সোহানা পারভীন (২১) নামের এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২২ মে) সকালে সাতক্ষীরা পৌর শহরের কুখরালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
গৃহবধূ সোহানা পারভীন সাতক্ষীরা পৌর শহরের কুখরালী এলাকার মো. খলিলুর রহমানের মেয়ে এবং একই এলাকার শেখ সাকিব হোসেনের স্ত্রী।
এদিকে গৃহবধূর বাবা-মায়ের দাবি, তাদের মেয়ে সোহানাকে পরিকল্পিতভাবে পিটিয়ে হত্যা করার পর লাশ ঘরের আড়ার সাথে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে প্রচার চালানো হচ্ছে। তবে স্বামীর পরিবারের দাবি, তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাকিবের সাথে পাশের বাড়ির এক তরুণীর পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। সাকিব প্রায়ই ওই তরুণীকে নিয়ে বাইরে ঘুরতে যেতেন। স্বামীর এই পরকীয়া সম্পর্ক নিয়ে সোহানা পারভীন ও সাকিবের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকতো। বিষয়টি নিয়ে সোহানার স্বামী ও শাশুড়ি খালেদা বেগম দীর্ঘদিন ধরে তাঁর ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। তাঁদের ৩ বছর বয়সী ফাইয়াজ হোসেন নামের একটি শিশু সন্তান রয়েছে।
সোহানার বাবা খলিলুর রহমানের অভিযোগ, স্বামীর পরকীয়ায় বাধা দেওয়ার জের ধরে শুক্রবার সকালে মারধরের একপর্যায়ে তাঁর মেয়ে সোহানা মারা যান। ঘটনাটি ভিন্ন খাতে মোড় দিতে সাকিব ও তাঁর মা মিলে সোহানার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে মরদেহ ঘরের আড়ার সাথে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করেন। তিনি মেয়ে হত্যার বিচার দাবি করেছেন।
এদিকে খবর পেয়ে সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ থানায় নিয়ে আসে।
সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাঃ মাসুদুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মৃতের স্বামী শেখ সাকিব হোসেনকে থানায় আনা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত শেষে অপরাধ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তদন্ত ও যাচাই-বাছাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা—সে বিষয়ে নিশ্চিত করে এই মুহূর্তে কোনো কিছু বলা সম্ভব নয়। ময়নাতদন্তের জন্য গৃহবধূর মরদেহ সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
খুলনা গেজেট/এএজে

