শনিবার । ২৩শে মে, ২০২৬ । ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

খুমেক হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে আটকে গেছে শতাধিক রোগীর অপারেশন

নিজস্ব প্রতিবেদক

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আটকে গেছে শতাধিক রোগীর অপারেশন। ফলে দুই মাসের অধিক সময় অপেক্ষা করা রোগীদের অপারেশন না হওয়ায় চরম অনিশ্চয়তার পড়েছে তারা। জেনারেল অপারেশন থিয়েটারে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অপারেশন হলেও পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ড না থাকায় রোগীর জ্ঞান ফেরা নিয়ে ঝুঁকি কমছে না। অগ্নিকাণ্ডে অক্সিজেন লাইন সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাওয়া, বন্ধ রয়েছে জরুরি অপারেশন থিয়েটার, পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ড এবং চোখের অপারেশন। এদিকে ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কাউকে দায়ী না করে দুর্ঘটনাজনিত অগ্নিকাণ্ড উল্লেখ করে তদন্ত প্রতিবেদন জমাও দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে আগুনের ঘটনায় সোনাডাঙ্গা থানায় পুলিশের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

শতাধিক রোগীর অপারেশন আটকে গেছে : গত বুধবার সকালে ঘাড়ে অপারেশন হওয়ার কথা ছিল, জালাল হোসেন নামে এক ব্যক্তির। দুই মাসের বেশি সময় অপেক্ষা করে আশায় ছিল অপারেশন করে বাড়িতে গিয়ে ঈদের উৎসব পালন করবে। কিন্তু অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গতকাল অপারেশন হয়নি। কবে সিরিয়াল পাওয়া যাবে, তাও অনিশ্চিত।

সরেজমিন দেখা যায়, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগে অপারেশনের অপেক্ষায় ৩৫ রোগী ভর্তি রয়েছে। এর মধ্যে ১০ জন ভর্তি রয়েছে প্রায় তিন মাস ধরে, যাদের বুধবার অপারেশন হওয়ার কথা ছিল।

সহকারী অধ্যাপক ডাঃ রিয়াজ আহমেদ হাওলাদার বলেন, আমরা গতকাল অপারেশন করতে পারিনি। অন্তত ১০জন রোগী অপেক্ষায় ছিল। বাকিদের পরের সপ্তাহে করা হতো কিন্তু এখন সিরিয়াল পাওয়া সাপেক্ষে করতে হবে। এরপর ঈদের ছুটির কারণে একটা ভোগান্তি তৈরি হলো রোগীদের।

একই অবস্থা সার্জারি বিভাগের হাসপাতালের তৃতীয় তলায় ৯-১০ এবং ১১-১২ ওয়ার্ডের জেনারেল ও ইমার্জেন্সি মিলে গত ২ দিনে ৫০টি অপারেশন মিস হয়েছে। জেনারেল ওটিতে মাত্র ২টি অপারেশন করতে পেরেছে। পোস্ট অপারেটিভ বেড না থাকায় মাত্র ২টি অপারেশন করা হয়েছে।

সহকারী রেজিস্ট্রার ডাঃ কনক হোসেন বলেন, আমরা অপারেশন করতে পারছি না। প্রতিদিন সার্জারির দুই ওয়ার্ডে ছোট বড় মিলে প্রায় ৪০টি অপারেশন করা হয়। কিন্তু বৃহস্পতিবার মাত্র ২টি করতে পেরেছি। জরুরি কিছু রোগী সদর হাসাপাতালে পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

এছাড়া ইউরোলজি, গাইনি, শিশু সার্জারি, নাক, কান, গলা ও চোখ মিলে শতাধিক রোগীর অপারেশন হওয়ার কথা ছিল বুধ ও বৃহস্পতিবার। কিন্তু সব মিলে ৬টি রোগীর অপারেশন করা সম্ভব হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে অক্সিজেন লাইন সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এই অবস্থা হয়েছে।

এদিকে দুপুরের মধ্যেই অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান করে জেলা প্রশাসক-এর কাছে প্রতিবেদন পাঠিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, তদন্ত কমিটি এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কাউকে দোষী সাব্যস্ত না করে নিছক দুর্ঘটনা হিসাবে উল্লেখ করেছে।

খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা: কাজী মোঃ আইনুল ইসলাম বলেন, হাসপাতাল ভবনটি অনেক পুরোনো, প্রায় ৪০ বছরের পুরোনো। তাই শর্টসার্কিট থেকে এই ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করছি। মন্ত্রীর চাহিদা অনুযায়ী তদন্ত করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। সূত্র জানায়, কমিটি ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের চেয়ে সুপারিশেই শেষ করেছে তদন্ত প্রতিবেদন।

এদিকে সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, খুলনা মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়রি (জিডি) করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গতকাল বুধবার ভোর ৬টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ভবনের তৃতীয় তলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। অগ্নিকাণ্ডে ইর্মাজেন্সী অপারেশন থিয়েটার ভস্মীভূত হয়। এ সময় হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে হাসপাতালের দুজন নার্স নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ( আইসিইউ ) চিকিৎসাধীন। এ ছাড়া আইসিইউ থেকে সরানোর সময় নাসরিন নাহার নামের এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। আহতরা হলেন, হাসপাতালের স্টাফ সাইদুর রহমান, সিনিয়র স্টাফ নার্স নওরিন, দিপালী ও শারমিন এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্য তৌহিদ।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন