সোমবার । ২৭শে এপ্রিল, ২০২৬ । ১৪ই বৈশাখ, ১৪৩৩

অবশেষে যশোর মেডিকেল কলেজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর

যশোর মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার দেড় দশক পেরিয়ে গেলেও নিজস্ব হাসপাতাল না থাকায় নানা ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। অবশেষে দীর্ঘ এ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে। ২৭ এপ্রিল দুপুরে ৫০০ শয্যার এ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বর্তমানে কলেজ ক্যাম্পাসে হাসপাতাল না থাকায় শিক্ষার্থীদের ক্লিনিক্যাল ক্লাস ও ইন্টার্নশিপের জন্য প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে যশোর জেনারেল হাসপাতালে যেতে হয়। এতে শিক্ষার্থীদের যেমন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, তেমনি যশোরসহ আশপাশের জেলার মানুষ উন্নত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ২০০৬ সালে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার যশোরে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের অনুমোদন দেয় এবং শহরের দক্ষিণে হরিণার বিলে ৭৫ বিঘা জমি অধিগ্রহণ করা হয়। তবে পরবর্তী সময়ে হাসপাতাল নির্মাণকাজ স্থবির হয়ে পড়ে। পরে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু করে এবং অস্থায়ীভাবে জেনারেল হাসপাতাল ভবনে কলেজের কার্যক্রম চালু হয়। ২০১৬ সালে নিজস্ব ক্যাম্পাসে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হলেও হাসপাতাল নির্মাণ আর এগোয়নি।
দীর্ঘদিনের দাবি ও আন্দোলনের পর ২০২৩ সালের ২৯ আগস্ট জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৫০০ শয্যার হাসপাতাল প্রকল্প অনুমোদন পায়। ২০২৫ সালের জুনে ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে প্রকল্পে গতি আসে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নির্মাণকাজে নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে।

মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা জানান, তৃতীয় বর্ষ থেকে ক্লিনিক্যাল ক্লাস শুরু হওয়ায় নিয়মিত হাসপাতালে যাতায়াত করতে হয়। বিশেষ করে শেষ বর্ষে সন্ধ্যাকালীন ক্লাস থাকায় যাতায়াত আরও কষ্টকর হয়ে ওঠে। তাদের মতে, কলেজের সঙ্গে হাসপাতাল স্থাপিত হলে শিক্ষার মান বাড়ার পাশাপাশি যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা ও নড়াইলসহ প্রায় ৮০ লাখ মানুষ উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবে। এ অঞ্চলের মানুষকে আর খুলনা বা ঢাকায় ছুটতে হবে না। ২৭ এপ্রিল দুপুরে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মাধ্যমেই আরো একধাপ এগিয়ে যাচ্ছে যশোর।

গণপূর্ত অধিদপ্তর যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম জানান, ৬৭৬ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এর আওতায় ১০তলা বিশিষ্ট ৫০০ শয্যার হাসপাতাল ভবন, শিক্ষার্থী ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের জন্য পৃথক হোস্টেল, নার্সিং কলেজ ও হোস্টেল, স্টাফ নার্স ডরমেটরি, চিকিৎসক ও কর্মচারীদের আবাসন, ৫০০ আসনের মিলনায়তন, মসজিদ এবং বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার আশা করা হচ্ছে।




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন