বুধবার । ২৫শে মার্চ, ২০২৬ । ১১ই চৈত্র, ১৪৩২

সরকারি খালে বাঁধ দেওয়ায় পানি পচে দুর্গন্ধ, ভোগান্তিতে ১০ গ্রামের মানুষ

চিতলমারী প্রতিনিধি

চিতলমারীতে একটি অবৈধ ইটভাটার জন্য সরকারি খালে বাঁধ দেওয়া হয়েছে। ফলে পানি পচে খালের দু’পাড়ের ১০ গ্রামের মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। দ্রুত বাঁধ অপসরণের জন্য এলাকাবাসী গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১২টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকতার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।

লিখিত আবেদন ও ভুক্তভোগীদের তথ্যে জানা যায়, শহিদ জিয়া কলাতলা, বড়বাড়িয়া ও শিবপুর ইউনিয়নের মানুষের চাষাবাদ ও বিশুদ্ধ পানির জন্য ১৯৭৯ সালে মচন্দপুর মধুমতি নদী থেকে নালুয়া বাজার হক ক্যানেল পর্যন্ত খাল খননের কাজ নিজে উদ্বোধন করেন। দীর্ঘদিন পার হওয়ায় খালের পানিপ্রবাহ ও গতি কমে যায়। পানি প্রবাহ ও গতি ফেরাতে ২০২৩ সালে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে খালটি পুনঃ খনন করা হয়। সেই পুনঃ খননকৃত খালটির পরানপুর ইটভাটা সংলগ্ন এলাকায় ভাটার সুবিধার্থে খালে বাঁধ দিয়ে তৎকালীন উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক শেখ মাহাতাবুজ্জামান ছোট্ট একটি ইউ ড্রেন বসান। এতেই বন্ধ হয়ে যায় খালের পানি প্রবাহ ও গতি। আর বছরের পর বছর এভাবে পানি প্রবাহ ও গতি বন্ধ থাকায় বর্তমানে খালের পানি পচে ১০ গ্রামের মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। খালটির দুই পাড়ের হাজারো মানুষ বাধ্য হয়ে তাদের গৃহস্থ কাজে এই পানি ব্যবহার করছেন। ফলে চর্মরোগসহ বিভিন্ন রোগে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। ব্যাহত হচ্ছে কৃষি কাজ।

বড়বাড়িয়া মৈজোড়া গ্রামের নিয়ামত হোসেন, নালুয়া গ্রামের লাবলু শেখ, সাবেক ইউপি সদস্য হুমায়ুন কবির ও বড়বাড়িয়া গ্রামের মনিরুজ্জামানসহ অসংখ্য মানুষ জানান, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক শেখ মাহাতাবুজ্জামান তার অবৈধ ইটভাটার জন্য প্রাণবন্ত খালটি বাঁধ দিয়েছেন। বাঁধের ফলে দীর্ঘ কয়েক বছর পানি প্রবাহ বন্ধ হওয়ায় খালের পানি পচে নষ্ট হয়ে গেছে। ভোগান্তিতে পড়েছে ১০ গ্রামের মানুষ। যুবলীগ নেতার দেওয়া এই বাঁধ দ্রুত অপসারণ করতে হবে।

গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে মাহাতাবুজ্জামান পালাতক থাকায় এবং মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

চিতলমারী ইউএনও মোঃ সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “খালে বাঁধ দেওয়ার অভিযোগটি আমাদের কাছে আসছে। আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেব।”

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন