ঋতুরাজ বসন্তের আগমনে প্রকৃতিতে লেগেছে পরিবর্তনের ছোঁয়া। আর সেই ছোঁয়ায় রূপসী বাংলার এক টুকরো প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি) ক্যাম্পাস। চারদিকে গাঁদা, ডালিয়া আর সূর্যমুখীর হলুদ আভা যেন জানান দিচ্ছে-বসন্ত কেবল ক্যালেন্ডারেই নয়, মিশে আছে খুবির প্রতিটি ধূলিকণায়। শীতের জড়তা কাটিয়ে বসন্তের এই রঙিন উৎসবে মেতেছেন শিক্ষার্থী ও বহিরাগত দর্শনার্থীরা। বাসন্তী রঙের শাড়ি আর পাঞ্জাবিতে সেজে তারা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে আড্ডা আর ছবি তোলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
ফুলের এই অপরূপ সৌন্দর্য নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রোশনী মেহরীন বলেন, “ফুলের সৌন্দর্য আসলে জেন্ডার কেন্দ্রিক নয়, সকল বয়সি মানুষ, জেন্ডারের মানুষ ফুল পছন্দ করে তারপরও আমরা মেয়েরা ফুল একটু বেশি পছন্দ করি। বিশেষ করে সূর্যমুখী ফুল একটি পজিটিভ এনার্জীর প্রতীক। সূর্যমুখী আমাদের শেখায় কীভাবে সূর্যের এত তাপ থাকা সত্ত্বেও তার দিলে মুখ করে কীভাবে বেড়ে উঠতে হয় এটি শেখায়। সব মিলিয়ে একসাথে এত ফুল দেখতে পেরে তাই আরও বেশি ভালো লাগছে। বিশেষ করে বাইরে থেকে দর্শনার্থীরা আসছেন, ছবি তুলছেন-এই পুরো বিষয়টাই আমি খুব উপভোগ করছি।”
আরেক শিক্ষার্থী আসিফ হাসান অপি ক্যাম্পাসের এই নান্দনিকতার প্রশংসা করে বলেন, “বাইরে থেকে অসংখ্য দর্শনার্থী ফুলের সৌন্দর্য দেখতে এখানে ভিড় জমান, যা দেখে আমাদের ভীষণ ভালো লাগে। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ থাকবে- সূর্যমুখীর পাশাপাশি যেন অন্যান্য ফুলেরও বেশি বেশি বাগান তৈরি করা হয়, যেন আমরা সবাই মিলে এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারি।”

শিক্ষার্থী সুজীব চাকমা তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, “সপ্তাহের ছুটির দিনগুলোতে দেখা যায় ভাইয়া-আপুরা শাড়ি-পাঞ্জাবি পরে আসেন, ছবি তোলেন-এই দৃশ্যটা দেখতে খুবই ভালো লাগে। সত্যি বলতে, এত ফুল একসাথে খুলনায় আর কোথাও নেই। তাই পর্যটকদের কাছেও এখন অন্যতম আকর্ষণের জায়গা আমাদের এই খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়।”
ক্যাম্পাসের এই পুষ্পিত পরিবেশ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. হারুনর রশীদ খান বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি ফুলের বাগানে ঘোরাঘুরি করে, এতে তাদের মন ভালো হয়ে যায়। শুধু তাদের নয়, আমাদেরও মনটা ভালো হয়ে যায়। খুলনায় আসলে তেমন ঘোরার মতো জায়গা নেই, যে কারণে দেখা যায় প্রচুর মানুষ সকালে-বিকালে বা ছুটির দিনে ক্যাম্পেসে আসেন এবং ছবি তোলেন। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের যতগুলো ভালো উদ্যোগ আছে, তার মধ্যে নিঃসন্দেহে এটি একটি অন্যতম সুন্দর উদ্যোগ।”
হলুদ সূর্যমুখী আর বর্ণিল গাঁদা, ডালিয়া ও নাম না জানা নানা ফুলের মিতালিতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এখন যেন এক জীবন্ত ক্যানভাস, যেখানে তুলির আঁচড় দিয়েছে স্বয়ং প্রকৃতি। ইট-পাথরের যান্ত্রিকতার মাঝে এই পুষ্পিত সমারোহ কেবল চোখের আরাম নয়, বরং ক্লান্ত মনে প্রশান্তির পরশ বুলিয়ে দেয়। প্রকৃতির এই স্নিগ্ধ সান্নিধ্য শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা আর মননশীলতাকে আরও ঋদ্ধ করবে এবং খুবির এই সবুজ আঙিনা হয়ে উঠবে সকলের হৃদয়ে এক চিলতে শান্তির নীড়-এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট সকলের।

