বুধবার । ১৪ই জানুয়ারি, ২০২৬ । ৩০শে পৌষ, ১৪৩২

খুলনা ওয়াসার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ঝুমুর বালার অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক

শোক দিবস ও সাধারণ ছুটির ঘোষণাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখালেন খুলনা ওয়াসার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন) ঝুমুর বালা। তার অপসারণের দাবিতে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি ) সকাল থেকে সব দপ্তরের কার্যক্রম বন্ধ রেখে ওয়াসা ভবনে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন খুলনা ওয়াসা কর্মচারী ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলা কর্মসূচিতে শ্রমিক ও কর্মচারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় অধিকাংশ কর্মকর্তাকে অফিসে উপস্থিত দেখা যায়নি।

খুলনা ওয়াসা কর্মচারী ইউনিয়ন ও শ্রমিকদের অভিযোগ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে। এর অংশ হিসেবে গত বুধবার সব সরকারি, বেসরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু এই নির্দেশ উপেক্ষা করে বুধবার খুলনা ওয়াসা ভবন খোলা রাখা হয়।

তারা অভিযোগ করেন, ওই দিন ওয়াসার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন) ঝুমুর বালা সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করেন। তিনি নিজেসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা সরকারের আদেশ অমান্য করে কালো পতাকা উত্তোলন ও কালো ব্যাজ ধারণ করেননি। জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত না করে গোপনে নিয়োগ বাণিজ্যের প্রক্রিয়া শুরু করেন। এমনকি দুপুরে অফিসে উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ভুড়ি ভোজের আয়োজন করা হয়। এসব ঘটনায় শ্রমিক-কর্মচারীরা ক্ষুব্ধ হন।

বৃহস্পতিবার সকালে ওয়াসা ভবনে গিয়ে দেখা যায়, বুধবারের ঘটনার প্রতিবাদে প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করছেন শ্রমিক ও কর্মচারীরা।

খুলনা ওয়াসার সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি কবির হোসেন। বক্তব্য দেন খুলনা ওয়াসা শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জিএম আ. গফ্ফার, সহ-সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম, দুলাল উদ্দিন খান ও মুকুল হোসেন।

শ্রমিক-কর্মচারী ফেডারেশনের সদস্য সচিব মুকুল বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ও বুধবার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। কিন্তু সেই ঘোষণা উপেক্ষা করে ঝুমুর বালা অফিসের কার্যক্রম চালু রাখেন। তিনি এর তীব্র নিন্দা জানান। বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা চলাকালে এখানে ভুড়ি ভোজের আয়োজন করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, এখানে দুর্নীতিবাজদের প্রমোশন দেওয়া হয়েছে। ফ্যাসিবাদের দোসর ছাত্রলীগের ক্যাডারদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারাও বুধবার অফিস করেছেন। গতকাল এক সাংবাদিককে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। এর আগেও দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহ করতে আসা সাংবাদিকদের হেনস্তা করা হয়েছে। খুলনা ওয়াসার প্রশাসনিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই সাতজন কর্মচারীকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে নতুন নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। অবৈধ নিয়োগকে বৈধ করার জন্য মোটা অঙ্কের অর্থের লেনদেন হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

কর্মচারী ইউনিয়নের সহ-সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম বলেন, সরকারি আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন খুলনা ওয়াসার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন) ঝুমুর বালা। বুধবার সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি থাকা সত্ত্বেও তিনি শোক উপেক্ষা করে অফিস খোলা রেখে নিয়োগ বাণিজ্যে লিপ্ত হন। আমরা তার এই কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং তার অপসারণ দাবি করছি।

এদিকে শ্রমিক-কর্মচারীদের বিক্ষোভের খবর পেয়ে অনেক কর্মকর্তাই বৃহস্পতিবার অফিসে যাননি। এমনকি খুলনা ওয়াসার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন) ঝুমুর বালাও অফিসে আসেননি।

খুলনা ওয়াসার সচিব মাহেরা নাজনীন বলেন, বুধবার আমি ছুটিতে ছিলাম। বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নয়। তবে ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্যার মিটিংয়ের জন্য ঢাকায় রয়েছেন। তিনি রোববার অফিসে এলে বিষয়টি জানানো হবে।

খালিশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তৌহিদুজ্জামান বলেন, বেলা ১১টার দিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় তিনিও সেখানে যান। তবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন