খুলনা নগরীর একটি মাদ্রাসায় ইসমাইল শিকদার নামের এক শিশুকে অমানবিকভাবে মারধরের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। গত সোমবার রাতে শিশুর বাবা ওমর ফারুক শিকদার বাদি হয়ে মাদ্রাসা শিক্ষক হাফেজ আবদুর রহমানের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের শিশু আইনের ৭০ ধারায় মামলাটি দায়ের করেন। তবে ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার ডাক্তারপাড়া এলাকায় নুরুল কুরআন তাহফিজ একাডেমি নামের ওই মাদ্রাসাটির অবস্থান। পড়া না পাড়ায় গত ১৭ জুন রাতে মাদ্রাসার ভেতরে ওই শিশুকে বেদম মারপিট করেন শিক্ষক আবদুর রহমান। এতে শিশুটির মস্তিস্ক, চোখসহ বিভিন্ন অংশে রক্ত জমাট বেধে যায়। বিষয়টি নিয়ে গত ২১ জুন অনলাইনে এবং পরদিন খুলনা গেজেট সহ জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হয়। শিশুটির ছবি ও নির্যাতনের মাত্রা দেখে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। পরদিন বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদটি প্রচার হলে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে ভুক্তভোগীর বাবা।
শিশুটির বাবা ওমর ফারুক শিকদার জানান, মারপিটের ২৪ ঘণ্টা পরও আমাকে জানায়নি। দুই দিন পর ওকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। এরপর দুই দিন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ছিল। চিকিৎসক জানিয়েছেন, ওষুধ খেয়ে মস্তিষ্কের রক্ত না সরলে অপারেশন করতে হবে। ৭ দিনের ওষুধ খাওয়ানো শুরু হয়েছে। আমি এই নির্মম নির্যাতনের বিচার চাই।
নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর থেকে ওই মাদ্রাসা শিক্ষক পলাতক। মাদ্রাসা থেকেও তাকে বের করে দেওয়া হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে। আশা করি দ্রুত গ্রেপ্তার হবেন।
খুলনা গেজেট/এনএম

