রামপালে পুলিশ পরিচয়ে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) ভোর রাতের দিকে উপজেলার গৌরম্ভা ইউনিয়নের চিত্রা গ্রামে মো. আসাদ শেখের (৫০) বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। রামপাল থানা পুলিশ ডাকাত প্রধানসহ দুই জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার ভোরে পুলিশের পোশাক পরিহিত অবস্থায় ৭/৮ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল বাড়ির প্রাচীর টপকে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তারা পুলিশ পরিচয়ে দরজা খুলতে বলে। এক পর্যায়ে গৃহকর্তা মো. আসাদ শেখ দরজা খোলেন। এ সময় সাথে সাথে আরও অন্তত ৭/৮ জন ঘরে ঢুকে পরিবারের সবাইকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বেঁধে ফেলে।
ডাকাতরা ঘর তল্লাশি চালিয়ে নগদ ৫ লাখ ১৬ হাজার টাকা, বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার এবং বেশ কয়েকটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন নিয়ে ওই রাতেই সাদা রঙের হাইয়েস মাইক্রোবাসে করে দ্রুত পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে রামপাল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ডাকাতির সাথে জড়িত দুইজনকে বাগেরহাটের মোল্লাহাট এলাকা থেকে আটক করেছে।
আটককৃতদের মধ্যে নরসিংদী জেলার মাধবদী উপজেলার তারা মিয়ার ছেলে প্রধান হোতা রিয়াজ (৩০) ও গাজীপুর সদর উপজেলার সাইদুলের ছেলে আল আমীন (৪০) কে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাদের কাছে গাড়িতে থাকা শক্তিশালী একটি মোবাইল জ্যামার ডিভাইস জব্দ করে। এ ছাড়াও তাদের কাছ থেকে ২ টি ককটেল, পুলিশের পোশাক ৪ সেট, গ্রীল ও গ্যাস কাটার ২ সেট, নগদ ৫ লাখ ১৬ হাজার টাকা, বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার, দেশীয় দা ৩ টি, বড় ছোরা ১ টি, অক্সিজেন গ্যাস ১ টি, গ্যাস সিলিন্ডার ১ টি, মুখে মারার স্প্রে ১ টিসহ বিভিন্ন মালামাল জব্দ করে।
রামপাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, ৯৯৯ এ খবর পেয়ে ভোরে পুলিশের একটি টিম নিয়ে অভিযান শুরু করে। প্রযুক্তির ব্যবহার করে বাগেরহাটের মোল্লাহাট এলাকায় মাইক্রোসহ দুই আসামীকে হাতেনাতে ধরা হয়। এ সময় মোবাইল জ্যামার ডিভাইসসহ বিপুল পরিমাণ টাকা, স্বর্ণালংকার, ককটেল, দেশীয় অস্ত্র, পুলিশের পোশাক, গ্যাস কাটার সরঞ্জামদি, গ্যাস সিলিন্ডারসহ বিভিন্ন প্রকার মালামাল জব্দ করা হয়। অভিযানের খবর পেয়ে সাথে থাকা অন্য সহযোগীরা চম্পট দেয়। এদের সাথে আর কারা জড়িত আছে সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আসামিদের জিজ্ঞাসবাদ চলছিল।
খুলনা গেজেট/এনএম