পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে

সাতক্ষীরায় নাগরিক কমিটির ১৩ দফা প্রস্তাবনা

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

সাতক্ষীরা শহর ও পাশ্ববর্তী এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়নে জেলা নাগরিক কমিটির ১৩ দফা প্রস্তাবনা পেশ করেছে। শনিবার (১৪ নভেম্বর) বেলা ১১টায় সাতক্ষীরা পুরাতন আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত উক্ত প্রকল্প সম্পর্কে জেলা নাগরিক কমিটির এক মতবিনিময় সভায় এই প্রস্তাবনা পেশ করা হয়।

জেলা নাগরিক কমিটির আহবায়ক মোঃ আনিসুর রহিম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন, অধ্যক্ষ আবু আহমেদ, এড. শেখ আজাদ হোসেন বেলাল, অপারেশ পাল, মধাব চন্দ্র দত্ত, সুধাংশু শেখর সরকার, শেখ হারুণ অর রশিদ, ডা. সুশান্ত কুমার ঘোষ, শেখ সিদ্দিকুর রহমান, এড. মনির উদ্দিন, মনোরঞ্জন বন্দোপধ্যায়, এড. আল মাহামুদ পলাশ, আব্দুল বারী, ফরিদা আক্তার বিউটি, আব্দুস সামাদ, মনিরুজ্জামান, আব্দুস সাত্তার, আলী নুর খান বাবলু, জিএম মনিরুজ্জামান, এড. আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

সভায় বলা হয়, সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভাগ-১ এর অধীনে পোল্ডার নং ১, ২, ৬-৮, ৬-৮ (এক্সটেনশন)-এর নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন শীর্ষক ৪৭৫ কোটি ২৬ লাখ ১৬ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় আম্পান পরবর্তী গত ২জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ একনেকের বৈঠকে প্রকল্পটি অনুমোদন করা হয়। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সাতক্ষীরা শহর ও পাশ্ববর্তী এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে ৪৪ কিঃমিঃ ড্রেজিং ও পুনঃখননের মাধ্যমে বেতনা নদী এবং ৩৭ কিঃমিঃ ড্রেজিং ও পুনঃখননের মাধ্যমে মরিচ্চাপ নদীর পলি অপসারণ করা হবে। উল্লেখিত পোল্ডার অভ্যন্তরে বেতনা-মরিচ্চাপ নদীর সাথে সংযুক্ত ৩৪৪.২২ কিঃমিঃ বিভিন্ন খাল সংস্কার ও পুনঃখনন করা হবে। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা রক্ষার্থে বিভিন্ন পোল্ডারে বিভিন্ন লোকেশনে ৬টি রেগুলেটর/স্লুইসগেট পুণর্গঠন করা হবে। বিদ্যমান রেগুলেটর/স্লুইস গেটের মেরামত/পুনরাকৃতিকরণ ২১টি। বন্যার ঝুঁকি থেকে এলাকাকে রক্ষার জন্য বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ সংস্কারের পরিকল্পনা ১১৩.১২ কিঃমিঃ। বেতনা নদীর ডান তীরের ২নং পোল্ডারে ঢাল প্রতিরক্ষামূলক কাজ ১.৭০ কিঃমিঃ ও আরসিসি ঘাট নির্মাণ করা হবে ৪টি।

সভার বক্তারা বলেন, উক্ত প্রকল্পভুক্ত বেতনা, মরিচ্চাপ, সাপমারা, লাবন্যবতী, কোলকাতার খাল, প্রাণ সায়র খালসহ ৮২টি খালের প্রায় সবকটিই গত ১০ বছরের মধ্যে খনন করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, কর্মসৃজন কর্মসুচি প্রকল্প, ব্লু-গোল্ডসহ বিভিন্ন এনজিও এগুলো বাস্তবায়ন করে। বেড়িবাঁধও নির্মাণ করে। কিন্তু সেগুলো কোন উপকারে আসেনি। বরং বেতনা-মরিচ্চাপ নদীর ভিতরে অবস্থিত ৩০০/৪০০ ফুট চওড়া জলাধারের মাঝ বরাবর ৫০/৬০ ফুট খনন করে বাকী অংশ ভরাট করা হয়েছে। খালগুলোরও একই অবস্থা। একারণে বেতনা ও মরিচ্চাপ নদী খননের পর থেকেই সাতক্ষীরা শহরসহ পাশ্ববর্তী এলাকায় জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি পূর্বের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ব্যাপক আকার ধারণ করেছে।

খুলনা গেজেট/এ হোসেন




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন