দেশের যত গন্ডগোল, সবকিছুর রিমোট কন্ট্রোল দিল্লিতে: গোলাম পরওয়ার

গেজেট প্রতিবেদন

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, এ দেশের রাজনীতিতে যত গন্ডগোল ও জুলুম-পীড়ন, কে ক্ষমতায় যাবে আর কে যাবে না, কিংবা দেশের অর্থনীতি, রাজনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সংস্কৃতি—সবকিছুর রিমোট কন্ট্রোল ওনারা (দিল্লি) পরিচালনা করছেন। শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে নরসিংদী শিশু একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত সদস্য (রুকন) সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন।

দিল্লির ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে গোলাম পরওয়ার বলেন, জেনেভা কনভেনশন ও বন্দিবিনিময় আইনসহ সমস্ত আন্তর্জাতিক আইনি রীতি লঙ্ঘন করে একজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে প্রযুক্তিগত সুযোগ-সুবিধাসহ দিল্লিতে আরাম-আয়েশে থাকার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। আমরা সব প্রতিবেশীর সঙ্গেই বন্ধুত্বপূর্ণ এবং দেশের স্বার্থ রক্ষা করে ন্যায্য সম্পর্ক চাই। কিন্তু একের পর এক একটি দেশের রাজনীতি, সরকার ও জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থি পদক্ষেপ নিলে দেশের জনগণ তা কখনই মেনে নেবে না। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার প্রক্রিয়া চলছে। আইন ও সরকার রয়েছে—তারাই শেখ হাসিনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী আমরা এই সিদ্ধান্তের ভার সরকারের ওপর ছেড়ে দিয়েছি।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, ফ্যাসিবাদের দোসররা যতই হুমকি-ধমকি দিক না কেন, আমরা এখন জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালন করছি এবং আমরা অনুভব করছি যে দেশের জনগণ এখনও সেই ‘লাল জুলাই’-এর চেতনা ধারণ করে। এই ফ্যাসিবাদী শক্তিকে এ দেশের মানুষ আর কখনো বরদাস্ত করবে না। র‍্যাব, পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং আধিপত্যবাদী শক্তির রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে এই জনগণই ফ্যাসিবাদের রানীকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করেছিল। তবে তাদের দোসররা এখনও দেশে অবস্থান করছে।

রাষ্ট্র সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি এখন রূপান্তর বা সংস্কার চায় না, তারা চায় শুধুই সংশোধন। অথচ রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়ে বিএনপি যে ৩১ দফার কথা বারবার বলে, তার এক নম্বর দফাতেই বলা ছিল—‘ক্ষমতায় গেলে সংবিধান সংস্কারের জন্য কমিশন গঠন করা হবে।’ আপনারা গুগলে সার্চ করলেই এটি পাবেন। কিন্তু এখন তারা সংস্কারের কথা না বলে সংশোধনের কথা বলছে। এর মাধ্যমে তারা জাতির কাছে দেওয়া অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছে।

বিএনপিকে উদ্দেশ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশকে সংঘাতের দিকে ঠেলে না দিয়ে বিএনপির উচিত সংসদে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকা, শপথ গ্রহণ করা এবং জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রদানের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় মেনে নিয়ে তা কার্যকর করা। সংবিধানের কাঙ্ক্ষিত সংস্কার করা হলেই চলমান সংকট সমাধান হয়ে যাবে। তা না হলে রাজপথে নামা ছাড়া আমাদের সামনে আর কোনো বিকল্প পথ থাকবে না।

বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কয়েক মাসে দেশে অসংখ্য জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। হত্যা, নির্যাতন ও শিশু ধর্ষণের মতো ঘটনাও ঘটছে। পাশাপাশি বন্যার্ত মানুষের কাছে পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী পৌঁছাচ্ছে না। তাদের উদ্ধার ও পুনর্বাসনে সরকারি কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন