রূপসা, আঠারোবেকি, আতাই আর ভৈরবের তীরে গড়ে ওঠা খুলনা-৪ আসনের ভোটের মাঠ এখন প্রার্থীদের প্রচারণায় মুখর। দেশের দুই ইসলামী দলের শীর্ষ নেতা আসনটি থেকে প্রার্থী হয়েছেন। তাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বয়সে নবীন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আজিজুল বারী হেলাল। দুই ইসলামী নেতার ভোট যুদ্ধ তাকে সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
ইতোপূর্বে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ইউনুস আহম্মেদ শেখ, খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা এস এম সাখাওয়াত হোসেন এবং আজিজুল বারী হেলাল-তিনজনই খুলনা-৪ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, তবে কেউই জয়ের দেখা পাননি। এবার জয় ঘরে তুলতে মরিয়া তাদের সমর্থকরা।
নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান বলছে, এই আসনের ভোটের হিসাব বরাবরই চমকপ্রদ। ৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বাদ দিলে আসনটি থেকে বিএনপি একবারই জয় পেয়েছে। প্রচারে এগিয়ে থেকেও ভোটের মাঠে পিছিয়ে পড়ার রেকর্ড ভুরি ভুরি। ক্ষমতাসীন দলে থেকেও জিততে পারেননি অনেক প্রার্থী।
এর মধ্যে ১৯৭৯ সালে বিএনপির অধীনে হওয়া দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীকে হারিয়ে জয়ী হন মুসলিম লীগ নেতা খান এ সবুর। ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টির অধীনে নির্বাচনে তাদের প্রার্থীকে হারিয়ে জয় পান ওয়ার্কার্স পার্টির শেখ শহিদুর রহমান। ১৯৯১ সালে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগ নেতা এস এম মোস্তফা রশিদী সুজা। ১৯৯৬ সালেও জয় ধরে রাখেন সুজা। ২০০১ সালে প্রথমবারের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয় পান বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সভপতি এম নুরুল ইসলাম দাদু ভাই। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আবার আসনটি চলে যায় আওয়ামী লীগের দখলে। এমপি হন মোল্লা জালাল উদ্দিন উদ্দিন। পরের তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতারাই জয়ী হয়েছেন।
এবারের নির্বাচনে আসনটি থেকে ৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জামায়াত-এনসিপিসহ ১১ দলের দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা এস এম সাখাওয়াত হোসেন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে ইসলামী ঐক্যজোট থেকে মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন অংশ নিয়ে ৮ হাজার ৪০৮ ভোট পান। বিএনপির সঙ্গে জোট করায় তিনি আর আসনটিতে প্রার্থী হননি। তবে তার বড় ছেলে আবদুল্লাহ জোবায়ের টানা তিন বার রূপসা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে নির্বাচনের মাঠে সক্রিয় রয়েছেন তিনি।
মাওলানা এস এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, প্রচারে গিয়ে মানুষের মাঝে পরিবর্তনের আকাংখা দেখতে পাচ্ছি। মানুষ সঠিকভাবে ভোট দিতে পারলে জয়ের ব্যাপারে আমি আশাবাদি।
ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হিসেবে দলের মহাসচিব মাওলানা ইউনুস আহমেদ শেখ। ২০০৮ সালে তিনি প্রথমবার অংশ নিয়ে ৮ হাজার ৮৩৭ ভোট পান। ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে পেয়েছিলেন ৭ হাজার ১২৫ ভোট পান। এবার তিনি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।
মাওলানা ইউনুস আহমেদ শেখ বলেন, আসনে আমাদের দল সক্রিয়। ভোটের মাঠে হাতপাখার পক্ষে জোয়ার তৈরি হয়েছে। ইনশাআল্লাহ আমরা জয়ী হবো।
বিএনপির কেন্দ্রীয় তথ্য বিষয়ক সম্পাদক ২০১৮ সালের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো আসনটিতে ধানের শীষ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ওইবার তিনি ১৪ হাজার ১৮৭ ভোট পান। অবশ্য নির্বাচনে ব্যাপক ভোট জালিয়াতির অভিযোগ ছিল আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে।
এবার আজিজুল বারী হেলাল বিরামহীন প্রচারণা চালাচ্ছেন। ভোটারদের মুখোমুখি নামের ব্যতিক্রমী আয়োজন করে ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করেছেন তিনি।
আজিজুল বারী হেলাল বলেন, আমার ইশতেহার, পরিকল্পনা ভোটাররা সাদরে গ্রহণ করেছে। সুষ্ঠু ভোট হলে আমিই বিজয়ী হবো।
আসনের একমাত্র স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম আজমল হোসেন ২০২৪ সালের ডামি নির্বাচনে জাতীয়বাদী আন্দোলনের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সেবার তিনি মাত্র ৪৯৬ ভোট পান।
প্রসঙ্গত, খুলনা-৪ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৭৮ হাজার ৪৫৩ জন। ১৪৪টি ভোট কেন্দ্র এবং কক্ষ ৭৬৮টি। এর মধ্যে ৩৭টি অধিক ঝঁকিপূর্ণ এবং ৫৮টি ঝুঁকিপূর্ণ।
খুলনা গেজেট/এনএম

