শুক্রবার । ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২

শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকায় বন্ধ কারখানা খোলা এবং কর্মসংস্থান বড় ইস্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক

নির্বাচন এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে উত্তাপ। ভোটারদের মাঝে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। শ্রমিক অধ্যুষিত খুলনা-৩ আসন এককভাবে কোনো দলের দখলে ছিল না কখনোই। আসনটিতে কখনো বিএনপি, আবার কখনো আওয়ামী লীগ নেতারা জয়ী হয়েছেন। বিএনপির সঙ্গে জোটের কারণে ১৯৯৬ সালের পর আসনটিতে প্রার্থী দেয়নি জামায়াত। এবার দুই দলই একসঙ্গে মাঠে নেমেছে। চলছে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা।

খুলনা জেলার ৬টি আসনের মধ্যে দৌলতপুর, খালিশপুর ও খানজাহান আলী থানা নিয়ে গঠিত খুলনা-৩ আসনে ভোটার সবচেয়ে কম। এই আসনে ভোটার ২ লাখ ৫৪ হাজার ৪০৯ জন। তাদের জন্য ১১৫টি ভোট কেন্দ্র এবং ৫১৬টি ভোট কক্ষ প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৭ কেন্দ্রকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৩০টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। অর্থাৎ মোট ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৬৭ শতাংশই ঝুঁকিপূর্ণ। ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনে আসনের ৩টি কেন্দ্রে প্রায় শতভাগ ভোট পড়েছিল। মৃত ব্যক্তিদের ভোট দেওয়ার বিষয়টি ওই সময় ছিল দেশের আলোচিত ইস্যু।

অতীতের ফলাফল ঘেটে দেখা গেছে, ১৯৭৩ সালের প্রথম সংসদ নির্বাচনে আসনটি থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মমিনুদ্দিন আহমদ নির্বাচিত হন। ১৯৭৯ সালে ২৪ হাজার ৩৪৪ ভোট নির্বাচিত হন বিএনপির শেখ আশরাফ হোসেন। ওই নির্বাচনে জামায়াত নেতা এ কে এম ইউসুফ অংশ নিয়ে ১২ হাজার ৬৪৩ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছিলেন।

এরশাদের অধীনে ১৯৮৬ নির্বাচন বর্জন করেছিল বিএনপি-জামায়াত। সেবার নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির হাসিনা বানু শিরিন। ১৯৯১ সালে নির্বাচিত হন বিএনপির শেখ আশরাফ হোসেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের কাজী সেকেন্দার আলী ডালিম, ২০০১ সালে আবার বিএনপির শেখ আশরাফ হোসেন, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের বেগম মন্নুজান সুফিয়ান। আওয়ামী লীগের অধীনে হওয়া পরের তিনটি নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ প্রার্থী জয় পান। এর মধ্যে দুটি নির্বাচন বর্জন করেছিল বিএনপি ও জামায়াত। এবারের নির্বাচনে আসনটি থেকে ১০ প্রার্থী অংশ নিয়েছেন।

ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১০ জন প্রার্থী আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল লড়াই হবে বিএনপি প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল ও জামায়াতের প্রার্থী মাহফুজুর রহমানের সঙ্গে। আসনটিতে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী অধ্যক্ষ আবদুল আউয়াল এবং সাবেক বিএনপি ও এনসিপি নেতা বর্তমান স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম আরিফুর রহমান মিঠুও জোরালো প্রচারণা চালাচ্ছেন।

জাতীয় পার্টির আবদুল্লাহ আল মামুন, বাসদের জনার্দন দত্ত নান্টু, এনডিএমের শেখ আরমান হোসেনকে নিয়ে আলোচনা একেবারেই কম। স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও মুরাদ খান লিটন, মঈন মোহাম্মদ মায়াজ ও আবুল হাসানাত সিদ্দিকের তৎপরতা তেমন দৃশ্যমান নয়।

ভোটাররা জানান, শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকাটিতে বন্ধ কারখানাগুলো খোলা এবং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করাই বড় ইস্যু। গত ২ ফেব্রুয়ারি এই আসনের প্রভাতি স্কুল মাঠে নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বন্ধ কারখানা খুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এর আগে গত ২৭ জানুয়ারি খুলনার সার্কিট হাউজ মাঠে জনসভা করেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনিও বন্ধ কারখানা চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান।

এর বাইরে প্রার্থীরাও ব্যক্তিগতভাবে নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। প্রচারেও ভিন্ন মাত্রা যোগ করার চেষ্টা করছেন। সম্প্রতি বিএনপি প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুলের উদ্যোগে আসনটির বিভিন্ন স্থানে ফ্রি ওয়াইফাই জোন স্থাপন করা হয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী মাহফুজুর রহমান পুরুষ ও নারীদের নিয়ে পৃথক দুটি বড় নির্বাচনী মিছিল করেছেন। বিশেষ করে নারীদের মিছিলে ব্যাপক উপস্থিতি আসনটিতে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। অন্যান্য প্রার্থীরাও বিভিন্নভাবে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ এবং ভোট টানার চেষ্টা করছেন। তবে ভোটাররা কাকে রায় দিবেন তা’ জানতে অপেক্ষা করতে হবে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত পর্যন্ত।

খুলনা-৩ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ফয়সাল কাদির বলেন, সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি এগিয়ে চলেছে। সোমবার ভোটকেন্দ্রগুলো আমরা বুঝে নেব। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে সি সি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলছে। প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ ও আনসার থাকবে। মাঠে থাকবে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র‌্যাব। ভোটে বিশৃংখলা করার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন