প্রতীক বরাদ্দের বাকি এখনও ২ দিন। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী খাতা-কলমে প্রচারণা বন্ধ থাকলেও প্রার্থীরা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চষে বেড়াচ্ছেন নির্বাচনী এলাকার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। খুলনা-১ আসনেও এর ব্যতিক্রম হচ্ছে না। মোট ১০ প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিলেও বিএনপি ও জামায়াতের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ভিন্ন কৌশলে গণসংযোগ শেষে ১৫ জানুয়ারি রাত ১০টায় দাকোপের পোদ্দারগঞ্জ ফেরিঘাটে উপস্থিত হন বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আমির এজাজ খান ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী।
‘ফেরি নষ্ট হওয়ার কল্যাণে’ প্রায় দুই ঘণ্টা ঘাটে অবস্থান করেন এ দুই প্রার্থী। এ সময়ে খোশগল্পের মধ্যে উঠে আসে নানা কথা। হাসিঠাট্টার ছলে ঘায়েল করার চেষ্টা করেন এক অন্যকে।
খুলনা-১ আসন স্বাধীনতার পর থেকে আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। কিন্তু ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশত্যাগের পর এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় আওয়ামী লীগ এবার নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না।
আওয়ামী লীগ না থাকায় এ আসনে এবার নির্বাচনী হিসেব ভিন্ন। বিশেষ করে জামায়াত ৩০০ আসনের মধ্যে সনাতন ধর্মের একজনকে মনোনয়ন দিয়েছেন। খুলনা-১ আসনে কৃষ্ণ নন্দীই সেই আলোচিত প্রার্থী। তাকে মনোনয়ন দেওয়ার পর থেকে দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়। হিন্দু অধ্যুষিত এ আসনে জামায়াত সুবিধা নিতে মাঝপথে প্রার্থী পরিবর্তন করে। তবে কৃষ্ণ নন্দী মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে নানাপ্রকার বক্তব্য দিয়ে বেশ আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন। তার মতে, “জামায়াত এখন শুধু ইসলামী দল না। সব দলের দেখা শেষ, দাড়িপাল্লার বাংলাদেশ।”
ওই রাতে চায়ের দোকানে একান্তে বসে দু’প্রার্থী নানা আলোচনা করেন। এ সময়ে আসন্ন নির্বাচনে হলফনামায় ত্রুটির কথা এক অন্যে তুলে ধরেন।
জামায়াত প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী আমীর এজাজকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “হলফনামায় কম টাকা কেন দিয়েছেন।”
অন্যদিকে এজাজ বলেন, “আপনিতো শত কোটি টাকার মালিক, আপনি এত কম টাকা উল্লেখ করেছেন কেন।”
জবাবে কৃষ্ণ নন্দী বলেন, “সামনের নির্বাচনে সব ঠিক করে লেখা হবে।”
বিএনপি প্রার্থী বলেন, “জামায়াত ইসলামী দল, কিš আপনিতো বলেন, সকলের দল।”
এ সময়ে কৃষ্ণ নন্দী বলেন, “এখন জামায়াত মুসলমান-হিন্দুসহ সকলের দল। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দল।”
বিএনপি প্রার্থী বলেন, “৪০ বছর আমি রাজনীতি করি। আমি শতভাগ আশাবাদী নির্বাচিত হব।”
জামায়াত প্রার্থীকে দাকোপ-বটিয়াঘাটার মেহমান উল্লেখ করে তিনি বলেন, “কৃষ্ণ দাদাকে কোনো প্রকার অসম্মানজনক কথা বলা হচ্ছে না। এমনকি সকল কর্মীদেরকেও বলা হয়েছে মেহমানকে কেউ অপমানজনক কথা বলবেন না।”
বিএনপি প্রার্থী দাবি করেন, “আসন্ন নির্বাচনে ২৫০ আসন পেয়ে সরকার গঠন করবে তার দল।”
জামায়াত প্রার্থী তার কাছে জিজ্ঞাসা করেন, “আমরা কত আসন পাবো।”
তখন এজাজ বলেন, “২০-২৫ টি আসন পাবেন।”
এ সময়ে জামায়াত প্রার্থী রসিকতা করে বলেন, “তাহলেতো …… বাঁশ, হাতে হ্যারিকেন।”
বিএনপি প্রার্থী জামায়াত প্রার্থীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “গত ১৭ বছরে আপনার নামে একটি মামলা ও জিডিও হয়নি।”
এসময়ে জামায়াত প্রার্থী বলেন, “আমি খারাপ লোক না, যে কারণে কোনো দিন আমার নামে কোনো মামলা হয়নি।”
৯৬ সালে এ আসনে ৬২ হাজার ২০৭ ভোট পেয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী শেখ হারুনুর রশীদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
জামায়াত প্রার্থী আবু ইউসুফ পান ২ হাজার ৩০৯ ভোট। ২০০১ সালে বিএনপি প্রার্থী আমির এজাজ খান পান ৪৭ হাজার ৫২৩ ভোট। আওয়ামী লীগের প্রার্থী পঞ্চানন বিশ্বাস ৭৮ হাজার ৫৫২ ভোট পেয়ে ওই বছর সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে বিএনপি প্রার্থী আমির এজাজ খান ৬৮ হাজার ৪২০ ভোট পান। আওয়ামী লীগের প্রার্থী ননী গোপাল মন্ডল সে বছর ১ লাখ ২০ হাজার ৮০১ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালের ‘রাতের ভোটে’ বিএনপি প্রার্থী আমির এজাজ খান ২৮ হাজার ৩২২ ভোট পান। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী পঞ্চানন বিশ্বাস। প্রাপ্ত ভোট ছিল ১ লাখ ৭২ হাজার ১৫২।
খুলনা গেজেট/এনএম

