নব্বইয়ের ৬ ডিসেম্বর গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা হারায় জেঃ এরশাদের জাপা। ক্ষমতা হারানোর পর তিন যুগ পার হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে আপদ-বিপদ পিছু ছাড়ছে না। স্বৈরাচার ও স্বৈরাচারের দোসরের অপবাদ ঘুচে যাচ্ছে না দলের শরীর থেকে। ত্রয়োদশ নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিল নতুন বছরের নতুন বিড়ম্বনার সৃষ্টি করেছে।
১৯৮৬ সালে দলের আত্মপ্রকাশের পর সে বছরের ৭ মে, ১৯৮৮ সালের ৩ মের নির্বাচনে এখানে সম্মানজনক আসন ছিল তাদের। বর্ষিয়ান রাজনীতিক এ্যাড. মোমিন উদ্দিন আহমেদ, লেঃ কর্ণেল (অবঃ) এইচ এম এ গফ্ফার বীর উত্তম, স, ম বাবর আলী, ডা. মুনসুর আলী, মিয়া মুসা হোসেন, অধ্যাপিকা হাসিনা বানু শিরিন, শেখ আবুল কাশেম ইঞ্জিয়ার ও এস এম এ রবের নেতৃত্বে সর্বত্র সাংগঠনিক ভীত মজবুত ছিল। তাদের সবাই দল ও পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চিরবিদায় নিয়েছেন।
৯১ সালের পরবর্তী খুলনা-৬ আসন ছাড়া অন্যকোনো স্থানে সম্মানজনক অবস্থান ছিল না। ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪ সালে এখানকার কোনো আসন তাদের জন্য ছাড় দেয়নি তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। ২০২৪ এর ৫ আগস্টের পর ডাকবাংলো মোড়স্থ দলীয় কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নি সংযোগ হয়। গেল বছরের একটি উল্লেখযোগ্য সময়ে গণ অধিকারের কণ্ঠে শ্লোগান ছিল ‘আপা গেছে যে পথে, জাপা যাবে সে পথে’।
অগ্নি সংযোগের পরও মামলা নেয়নি বরং দলটি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও বিভিন্ন জাতীয় দিবস পালন করেছে। বিএনপি প্রধানের মৃত্যুর কেন্দ্রিয় নির্দেশে এবারের ১ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি থেকে জেলা ও নগর শাখা বিরত ছিল। এত আপদ-বিপদের পর গেল মাসে কেন্দ্র জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়নের জন্য প্রার্থীদের আমন্ত্রণ জানান।
কোনো রকমের শর্তারোপ ছাড়া খুলনা-১ আসনে কেন্দ্রিয় সদস্য মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, খুলনা-২ আসনে জেলা সভাপতি শফিকুল ইসলাম মধু, খুলনা-৩ আসনে নগর সম্পাদক আব্দুল্লা আল মামুন, খুলনা-৪ আসনে জেলা শাখার সহ-সভাপতি ডাঃ সৈয়দ আবুল কাশেম, খুলনা-৫ আসনে নগর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আরা পারভীন ও কেন্দ্রিয় সদস্য মোঃ মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর, খুলনা-৬ আসনে দলের মনোনয়ন লাভ করে। খুলনা-২ ও ৪ আসনে প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দেয়নি। খুলনা-২ আসনে জেলা সভাপতি প্রতিদ্বন্ধিতা করতে আগ্রহ দেখায়নি। নির্ধারিত সময় খুলনা-৪ আসনে মনোনয়ন দাখিলে ব্যর্থ হয়। শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রমাণাদি ও অন্যান্য কারণে খুলনা-৫ ও ৬ এর প্রার্থীতা বাতিল হয়। প্রার্থীরা জোরালো কোনো আপত্তি করতে পারেনি। সকল মহল থেকে স্বৈরাচার ও স্বৈরাচারের দোসর অপবাদকে দিন দিন সোচ্চার হচ্ছে।
প্রসঙ্গ নিয়ে বলেছেন নগর সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন। অংশ গ্রহণ নিয়ে তার জোরালো বক্তব্য নির্বাচনী পরিবেশ নেই। কালো টাকার ছড়াছড়ি সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। প্রশাসন বড় দলগুলোকে সমর্থন দিচ্ছে। গত তিনযুগে জনসমর্থন বাড়লেও একটি ‘অপশক্তির দোসর’ নামক অপবাদ দিয়েই যাচ্ছে। এ বছরের শুরুতেই নতুন কোনো বিষয় নেই, শুধু পুরাতন ওই বুলি প্রতিপক্ষ বারবার গণমাধ্যমের সামনে নিয়ে আসছে।
খুলনা গেজেট/এনএম
