গরম পড়তে শুরু করেছে। এই গরমে কমবেশি সবার ত্বকই হয়ে পড়ে প্রাণহীন ও নিস্তেজ । এই সময়ে কেবল বাইরে থেকে ক্রিম বা ফেসপ্যাক মাখলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়বে না। বরং ত্বককে ভিতর থেকে সজীব ও সতেজ করে তুলতে হবে। সে জন্য প্রয়োজন পুষ্টি উপাদান। ত্বকের জন্যও দরকার প্রোটিন, ভিটামিন, ফাইবার ও নানা রকম খনিজ লবণ। তাহলে ত্বকের কোষ পুষ্টি পাবে। এক্ষেত্রে ফলের শরবত খুবই উপকারী। ফলে থাকা জলীয় উপাদান ত্বককে আর্দ্র রাখে। এর ভিটামিন, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট ও ফাইবার ত্বকে কোলাজেন তৈরিতে সাহায্য করে।
উজ্জ্বলতা বাড়াতে ত্বকের ধরন অনুযায়ী ফল বেছে নিতে। যার ত্বক স্পর্শকাতর তিনি এক ধরনের শরবত বানিয়ে খাবেন, আবার যার ত্বক খুব তৈলাক্ত, তার জন্য শরবতের রেসিপি হবে অন্য রকম। ত্বকের ধরন বুঝে কে কোনটি খেলে বেশি উপকার পাবেন, তা জেনে নিন। যেমন-
তৈলাক্ত ত্বকের জন্য তরমুজ ও লেবুর শরবত
তৈলাক্ত ত্বকে ব্রণের সমস্যা বেশি দেখা দেয়। তরমুজে থাকা জলীয় উপাদান ত্বককে আর্দ্র রাখে এবং লেবুতে থাকা ভিটামিন সি অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করে। ২ কাপ তরমুজের টুকরো, ১ চামচ লেবুর রস এবং সামান্য বিট লবণ মিশিয়ে ব্লেন্ড করে ছেঁকে নিন। এরপর বরফ দিয়ে পরিবেশন করুন। এর সঙ্গে সামান্য পুদিনা পাতাও মিশিয়ে দিলে পেটও ঠান্ডা থাকবে।
শুষ্ক ত্বকের জন্য পেঁপে ও কলার স্মুদি
যাদের ত্বক খুব শুষ্ক ও রুক্ষ তারা পেঁপের স্মুদি খেতে পারেন। পেঁপেতে থাকে ‘প্যাপাইন’ উৎসেচক ত্বকের মৃতকোষ দূর করে। অন্যদিকে কলা ত্বককে নরম ও আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে। এক কাপ পাকা পেঁপে, অর্ধেকটা পাকা কলা এবং অল্প মধু মিশিয়ে ব্লেন্ড করুন। পানি কম দিয়ে ঘন করে স্মুদি বানান। উপরে খানিকটা আখরোট ও কাঠবাদামের কুচি ছড়িয়ে দিন।
মিশ্র ত্বকের জন্য শসা, আনারস ও পুদিনার কুলার
যাদেতর ত্বক মিশ্র প্রকৃতির তাদের জন্য শসা উপকারী। শসা ত্বকের পিএইচের (অম্ল-ক্ষারের)ভারসাম্য বজায় রাখে। একটি মাঝারি শসা, এক কাপ আনারসের টুকরো, এক মুঠো পুদিনা পাতা এবং সামান্য আদা দিয়ে ভালো করে ব্লেন্ড করে নিন। এটি শরীর ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি ত্বকের কালচে ভাব দূর করে।
অ্যান্টি-এজিং শরবত
ত্বকে বয়সের ছাপ দূর করতে ভিটামিন সি আর অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টেও ভরপুর শরবত খেতে পারেন। ত্বকে কোলাজেন তৈরি করবে ও ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলিকে সজীব করে তুলবে এমন শরবত খেতে পারেন। এর জন্য বেদানা ও আঙুরের রস মিশিয়ে শরবত বানালে বেশি উপকারী হবে। এক কাপ বেদানার দানা ও আধ কাপ আঙুর মিশিয়ে রস তৈরি করুন। সাথে সামান্য গোলমরিচ গুঁড়ো মেশাতে পারেন।
ত্বকে ট্যান পড়লে
রোদে পোড়া দাগছোপ যদি বেশি হয় তাহলে কমলালেবু, গাজর ও বেদানা মিশিয়ে শরবত বানাতে পারেন। এজন্য ১টি বড় গাজর, ১টি কমলালেবু এবং অর্ধেকটা বেদানার রস বের করে নিন। এতে সামান্য গোলমরিচ গুঁড়ো মিশিয়ে সকালে নাশতার সঙ্গে পান করুন।
স্পর্শকাতর ত্বকের জন্য
যাদের ত্বক খুব স্পর্শকাতর তাদের জন্য ডাবের পানি বেশি কার্যকরী। এক গ্লাস ডাবের পানির সঙ্গে আধ কাপের মতো কমলালেবুর রস বা মুসাম্বির রস মিশিয়ে নিন। এতে খানিকটা পুদিনা পাতা ছড়িয়ে নিন। তার পর বরফ মিশিয়ে ঠান্ডা ঠান্ডা পরিবেশন করুন।
খুলনা গেজেট/এনএম

